Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৮ ||  ২৪ জিলহজ ১৪৪২

শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রাজশাহীকে হারালো চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ২ ডিসেম্বর ২০২০  
শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রাজশাহীকে হারালো চট্টগ্রাম

দুই দলের দুই ওপেনার পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। মধ্যভাগে দুই দলের দুই ব্যাটসম্যান দলের দাবি মিটিয়েছেন। আবার শেষ দিকে এসেছে রান। কিন্তু রান তোলার গতিতে ছিল পার্থক্য। ব্যবধান তৈরি হয়ে যায় সেখানে। 

তবুও শেষ দিকে ছড়িয়েছিল রোমাঞ্চ। জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার ছিল একটি বাউন্ডারি। কিন্তু হলো ২ রান। শেষ পর্যন্ত মিরপুরে রাজশাহীকে হতাশ করে বিজয়ের কেতন উড়িয়েছে চট্টগ্রাম। 

চট্টগ্রামের লিটন ৫৩ বলে করেছিলেন ৭৮ রান। রাজশাহীর আনিসুল ৪৪ বলে ৫৮ রানে দেন জবাব। চট্টগ্রামের আরেক ওপেনার সৌম্য ২৫ বলে তোলেন ৩৪ রান। সঙ্গে শেষ দিকে মোসাদ্দেকের ২৮ বলে ৪২ রানের ইনিংসটি ছিল কার্যকরী। সেখানে রাজশাহীর মেহেদী হাসান ১৭ বলে ২৫, ফরহাদ রেজা ও রনি তালুকদার ৫ বলে ১২ রানের দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত ১ রানের আক্ষেপে পোড়েন রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। 

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৭৬ রান তোলে চট্টগ্রাম। জবাবে রাজশাহী ১৭৫ রানের বেশি করতে পারেনি। ১ রানের জয়ে চট্টগ্রাম ‘বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ স্পন্সরড বাই ওয়ালটন’ এ নিজেদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। চার ম্যাচের চারটিই জিতেছে তারা। 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৪ রান লাগতো রাজশাহীর। মোস্তাফিজ প্রথম বলে সাজঘরের পথ দেখান সোহানকে। পরের দুই বলে রনি তালুকদার রান নিতে পারেননি। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে রনি ছক্কা ও চার উড়ান লং অন ও উইকেটের পেছন দিয়ে। শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রান। মোস্তাফিজের ফুল টস বল টাইমিংয়ে গড়বড় করেন। তাতে ২ রানের বেশি আসেনি। 

টি-টোয়েন্টি মানেই কম বলে রান তোলা। চট্টগ্রামের দুই ওপেনার সৌম্য ও লিটন সেই কাজটাই করেন। পাওয়ার প্লে’তে লিটন ও সৌম্য তোলেন ৫৪ রান। অষ্টম ওভারে এ জুটি ভাঙেন পেসার মুকিদুল ইসলাম। সৌম্য ডানহাতি পেসারকে লং অন দিয়ে উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন ইমনের হাতে ৩৪ রানে। ৪ চার ও ২ ছক্কায় সৌম্য ইনিংসটি সাজান।

পরের দুই ব্যাটসম্যান মিথুন (১১) ও শামসুর রহমান (১) নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসেন। তবে লিটন দ্যুতি ছড়ান আপন ছন্দে। ৩৫ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। ব্যাটিংয়ের সেই ধারাবাহিকতা ছিল পরবর্তীতেও। চতুর্থ উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক। দুইজন ৭২ রানের জুটি গড়েন। ততে বড় সংগ্রহের ভিত পায় চট্টগ্রাম।

ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন লিটন। ১৪৭.১৬ স্ট্রাইক রেটে ৯ চার ও ১ ছক্কায় টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন। যা এখন পর্যন্ত এ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান। এর আগে ৭৭ রান করেছিলেন তামিম। 

রান তাড়ায় পাওয়ার প্লে’ দারুণভাবে কাজে লাগায় রাজশাহী। শান্ত ও ইমন তুলে নেন ৫৬ রান। যদিও ষষ্ঠ ওভারে শান্ত (২৫) মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ব্যাটিং অর্ডারে উপরে সুযোগ পেয়েছিলেন আশরাফুল। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি। মোসাদ্দেকের বলে সৈকত আলীর হাতে জীবন পাওয়ার পরও তার রান ১৯ বলে ২০। 

ইমন ভালো ব্যাটিং করে প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ৩৪ বলে। কিন্তু পরবর্তীতে আর আগ্রাসন দেখাতে পারেননি। জিয়াউর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে তার ইনিংসটি থামে ৫৮ রানে। ৬ চার ও ১ ছক্‌কায় থামে তার ইনিংস। মেহেদী হাসান ব্যাটিং নেমে রান তোলার তাড়ায় ছিলেন। ২ চার ও ১ ছক্কায় ভালোই করছিলেন। কিন্তু ভুল শটে শেষ হয় তার ইনিংস। শরীফুলকে উইকেট থেকে সরে খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হন ২৫ রানে। 

এরপর ফরহাদ রেজা ও রনি তালুকদারে শেষ প্রচেষ্টায় ম্যাচ প্রায় জিতেই নিয়েছিল রাজশাহী। কিন্তু মোস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষটা নিজেদের করতে পারেননি তারা। ৩৭ রানে ৩ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। দুটি উইকেট পকেটে পুরেন শরীফুল। 

রান উৎসব ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন লিটন। 

চট্টগ্রামের চার ম্যাচে এটি চতুর্থ জয়। রাজশাহী টানা দুই জয়ের পর দ্বিতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেল।

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়