Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৪ ১৪২৮ ||  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খুলনার মধুর প্রতিশোধ, নায়ক মাহমুদউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ৬ ডিসেম্বর ২০২০  
খুলনার মধুর প্রতিশোধ, নায়ক মাহমুদউল্লাহ

দারুণ ব্যাটিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ (ফাইল ছবি)

প্রথম মুখোমুখি লড়ােইয়ে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী হেসেখেলে হারিয়েছিল জেমকন খুলনাকে। ফিরতি লড়াইয়ে খুলনা নিল প্রতিশোধ। ৫ উইকেটের জয়ে তারা জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে রাজশাহী ‍ঘুরপাক খাচ্ছে হারের বৃত্তে। 

মিরপুর শের-ই-বাংলায় প্রায় নিষ্প্রাণ ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। শেষ ওভারে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে মাহমুদউল্লাহর জয়। 

খুলনা জিতলেও দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসান ব্যাট হাতে এখনও নিষ্প্রভ। ৫ বলে ৪ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অফস্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটে টেনে আনেন। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে সাকিবের রান ৫৯। 

দলের চতুর্থ দিনের মাহমুদউল্লাহ ও জহুরুল ইসলাম অমি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। জহুরুল শুরুতে ৪০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ ১৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। মধ্যভাগের ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে না পারায় ম্যাচে কিছুটা রোমাঞ্চের আভাস দিয়েছিল। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ দলকে জয়ের স্বাদ দেন সহজেই। এজন্য পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। আগের ম্যাচের নায়ক জাকির হাসান করেন ১৯ রান। ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শামীম পাটোয়ারী থামেন ৭ রানে।   

টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেও রাজশাহীর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার খোলস থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। আমিনুল ইসলাম ইমন ১ রানে সাজঘরে ফেরেন শুভগত হোমের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে। রনি তালুকদার টানা দুই বাউন্ডারিতে ভালো কিছুর আশা দেখালেও পেসার আল-আমিনের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন ১৪ রানে। বাদ পড়া মোহাম্মদ আশরাফুলের চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে এসেছিলেন মেহেদী হাসান। জ্বলে ওঠেনি তার ব্যাট, ৯ রানে শহীদুল ইসলামের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ৯ রানে। শুভাগতকে ছক্কা বানিয়েছিলেন ফজলে মাহমুদ লং অন দিয়ে। পরের বলে একই শট খেলেছিলেন। টাইমিংয়ে গড়বড় করে ক্যাচ দেন জহুরুলের হাতে। 

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝে দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন দারুণ দৃঢ়তায়। কিন্তু তার ৬ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি শেষ হয় বাজে বলে, বাজে শটে। মাহমুদউল্লাহর একেবারেই ধীর গতির শর্ট বল ডিপ মিড উইকেট দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন। বল ব্যাটের মাঝে লাগলেও শটে ছিল না জোর। ক্যাচ যায় শামীমের হাতে। ৯৩ রানে ৫ উইকেট হারানো রাজশাহীর বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায় সেখানেই। লড়াকু পুঁজি এনে দেওয়াই ছিল চ্যালেঞ্জিং। 

সেই দায়িত্ব নেন জাকির আলী অনিক ও কাজী নুরুল হাসান সোহান। শেষ ঝড় তুলে সোহান কাজ করে দেন। সঙ্গী জাকেরও রাখেন অবদান। দুইজনের জুটিতে আসে ৫২ রান। সোহান ২১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রান করেন। জাকের ১ ছক্কায় ১৯ বলে করেন ১৫ রান। ১৯তম ওভারে আল-আমিনের ১ ওভারে দুই ছক্কা ও দুই চার হাঁকিয়ে সোহান ২০ রান তুলেছিলেন মুগ্ধতায়। 

শুভাগত ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন খুলনার সেরা বোলার। ১টি করে উইকেট নেন আল-আমিন, শহীদুল ও মাহমুদউল্লাহ। সাকিব ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। 

৬ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে খুলনা রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। রাজশাহীর সমান ম্যাচে ৪ পরাজয়ে রয়েছে চতুর্থ স্থানে। ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে চট্টগ্রাম রয়েছে শীর্ষে। 

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ