Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮ ||  ২০ জিলহজ ১৪৪২

এবার ক্ষমা চাইলেন মুশফিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৩, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৩০, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০
এবার ক্ষমা চাইলেন মুশফিক

মাঠে সতীর্থ নাসুম আহমেদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। তেড়ে যান মারতে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ স্পন্সরড বাই ওয়ালটন-এর এলিমেনেটর ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে এমন কাণ্ড ঘটান মুশফিক। এরপরেই চারদিক প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

গতকাল সোমবার দিনের প্রথম ম্যাচ ঘটা এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই  ক্ষমা চাইলেন মুশফিক। মঙ্গলবার সকালে জিমে নাসুমের সঙ্গে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষমা চেয়ে মুশফিক জানালেন, এমনটি আর দ্বিতীয়বার করবেন না।

মুশফিক বলেন, ‘গতকাল ম্যাচ চলাকালীন ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে আমি আমার সকল ভক্ত এবং দর্শকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাই। ইতোমধ্যে খেলার পরে আমি আমার সতীর্থ নাসুমের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। দ্বিতীয়ত আমি আমার সর্বশক্তিমানের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। আমি সবসময় মনে করি যে আমি একজন মানুষ এবং আমি  যেসব অঙ্গভঙ্গি দেখিয়েছি তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ভবিষ্যতে মাঠে আর কখনও এমনটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।‘

খেলার মাঠে ভুল-ভ্রান্তি হতেই পারে। তাতে অধিনায়করা সতীর্থদের বকা দিতেই পারেন। তাই বলে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসার দৃশ্য দেখা যায় না বললেই চলে। কিন্তু বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ককে দেখা গেলো এমন অস্বাভাবিক কাণ্ড ঘটাতে।  শুধু একবার নয়, দুইবার বল নিয়ে মুশফিক তেড়ে গেছেন সতীর্থ ও বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের দিকে। মারতেও উদ্যত হয়েছেন; সঙ্গে চোখ-মুখে রাগ ও ক্রুদ্ধভাব তো ছিলই।

১৩ ও ১৭তম ওভারের এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে মিরপুর শের-ই-বাংলায় স্টেডিয়ামে। প্রথমবার আফিফ হোসেনের কাছে ছক্কা হজম করার পরের বলে নিজেই বল আটকাতে যান বাঁহাতি স্পিনার। একই সময়ে মিড উইকেটে দৌড় দেন মুশফিকও। বল হাতে নেওয়ার সময় দুইজনই একসঙ্গে জড়ো হন, তাতে বোলিং প্রান্তে আউটের সুযোগ হয়নি। বোলিং প্রান্ত ছেড়ে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুশফিক নাসুমের দিকে বল হাতে তেড়ে যান। পরবর্তীতে বিরক্তিমুখে বল তুলে দেন নাসুমের হাতে।

১৫০ রান তাড়ায় আফিফের ব্যাটে জয়ের আশায় ছিল বরিশাল। ঢাকার জন্য তার উইকেটটি খুব প্রয়োজন ছিল। শফিকুল ইসলামের বলে সেই সুযোগটি আসে ১০৬ রানে। ৫৫ রান করা আফিফ স্কুপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন শর্ট ফাইন লেগে। মুশফিক কিপিং থেকে সরে খুব সহজেই ক্যাচ তালুবন্দি করেন। সেখানে ফিল্ডিং করা নাসুমও ক্যাচ নিতে চেষ্টা চালান। তাতে ক্যাচ নেওয়ার পর দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুশফিক আবার তার দিকে ক্ষেপাটে আচরণ করেন। এবার প্রায় ঘুষি মারতে তেড়েই গিয়েছিলেন উইকেটকিপার।

মুশফিকের এমন আচরণের মুখোমুখি হকয়ে দুইবারই হতবাক হয়ে যান নাসুম, বেশ বিমর্ষ লাগছিল তাকে। দল তখনও না জেতায় নিজের কষ্ট হয়তো চেপেই রেখেছিলেন। অবশ্য দুইবারই উদ্যত হওয়ার পর নাসুমের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা গেছে মুশফিককে। হারলেই বিদায়, এই সমীকরণের ম্যাচে ঢাকা জিতেছে ৯ রানে। কিন্তু মিরপুরের সবুজ গালিচায় মুশফিক যা করেছেন তা ক্রিকেট চেতনার সঙ্গে বড্ড বেমানান।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়