Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১২ ১৪২৮ ||  ১৪ জিলহজ ১৪৪২

উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে কি থাকবেন মাশরাফি?

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪১, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ২৩:০৬, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০
উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে কি থাকবেন মাশরাফি?

বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে থাকবেন? প্রশ্নটা লাখ টাকার। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে উত্তর আসছে সাদামাটা। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, নির্বাচক মিনহাজুল আবেদী নান্নু, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান কিংবা টিম ম্যানেজমেন্ট, প্রত্যেকেই মাশরাফি ইস্যুতে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। সিদ্ধান্ত ঠেলে দিচ্ছেন আরেকজনের কোর্টে।

সম্প্রতি মাশরাফির জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ শেষে নাজমুল হাসান পাপনের বক্তব্য ছিল, ‘আমরা তো মাশরাফিকে বিবেচনায় রাখছি। তবে তাকে নেওয়ার ব্যাপার তো নির্বাচকদের হাতে। এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। কিন্তু ওকে তো কেউ বাদ দিচ্ছে না।’

দুদিন পরই প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু কথা বলেন সংবাদমাধ্যমে। তার বক্তব্য ছিল এরকম, ‘মাশরাফির ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদের আগে দেখতে হবে আগামী এক বছরের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা কী? পরিকল্পনা দেখে তারপরে সেভাবে এগুবো। এ বছরের প্রায় ৯ মাস ক্রিকেটই হয়নি। সেই হিসেবে ওভাবে এগুবো। টিম ম্যানেজমেন্ট কী চায় সেটা সবার আগে দেখবো।’

টিম ম্যানেজেমেন্টের অন্তর্ভুক্ত ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। সেই বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খানের সোজা কথা, ‘মাশরাফিকে দলে রাখা না রাখা সম্পূর্ণ নির্বাচকদের ওপর।’

নিজেদের মত জানানোর পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই এড়িয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি ইস্যু। সাবেক অধিনায়কের ব্যাপারে জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ডমিঙ্গোও আনুষ্ঠানিক কিছু জানাবেন না সাফ জানিয়ে দিলেন। তবে ধারণা দিলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবেই এ সিদ্ধান্তটা নেবো।’

মাশরাফিকে দলে নেওয়া হবে কি হবে না সেই সিদ্ধান্ত নিতে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ভবিষ্যত ভাবনা আর মাশরাফির পারফরম্যান্স। মাশরাফি ফিনিক্স পাখির মতো বারবার ফিরে আসেন স্বরূপে। এবারের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও দেখিয়েছেন কারিশমা। ৯ মাস পর মাঠে নেমে ছড়িয়েছেন পারফরম্যান্সের আলো। ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ম্যাচ প্রতি বোলিং গড় ৮.০৬। সেক্ষেত্রে পারফরম্যান্স প্রশ্নে মাশরাফি দলে সুযোগ পাওয়ার দাবি জানাতেই পারে।

তবে ভবিষ্যত ভাবনা নিয়ে আছে অনেক জল্পনা। জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটার বাদেও পাইপলাইনে আছেন একাধিক পেসার। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে এসেছেন শরীফুল। শহীদুল ইসলাম নিয়মিত ভালো করছেন। হাসান মাহমুদ, সুমন খানরাও রয়েছেন তালিকায়। প্রতিশ্রুতিশীল আরও অনেককেই ভবিষ্যতের জন্য ভাবছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের বড় মঞ্চে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেগুলো বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে বলেছেন কোচিং স্টাফরা।

জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব ছাড়া পর মাশরাফি কখনোই বলেননি, তার জাতীয় দলে খেলতে হবে। তিনি আরও কিছুদিন ক্রিকেট খেলতে চান। নির্বাচক, কোচিং স্টাফরা জাতীয় দলে সুযোগ দিলে খেলবেন। নয়তো ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবেন। অন্য সাধারণ ক্রিকেটারের মতোই নিজেকে মনে করছেন। এজন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জাতীয় দলে তার খেলতেই হবে এমন ভাবনা নেই। সেজন্য অন্য দশটা ক্রিকেটারের মতোই নিজের ছুটি কাটাচ্ছেন। সময় দিচ্ছেন নিজের নির্বাচনী এলাকায়। সময় হলেই আবার তাকে দেখা যাবে ২২ গজে। সেই সময়টা হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে, আবার না-ও হতে পারে।

মাশরাফির জন্য অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, ‘মাশরাফি কী হয়ে গেছে, এমপি না কী- এসব বিষয় না। যেহেতু সে এখনো ক্রিকেট খেলছে, তার পারফরম্যান্স যদি বলে তার যোগ্যতা আছে জাতীয় দলে খেলার, অবশ্যই সে খেলবে। এখন সে অধিনায়ক নয় বলে যে ক্রিকেট খেলবে না এমন তো কোনও কথা নেই। ওর যদি ফিটনেস থাকে, খেলবে আবার। নির্বাচকদের দায়িত্ব তাকে নির্বাচন করবে কি না, কোন ফরম্যাটে করবে বা করবে না। একজন খেলোয়াড় নিজে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরে যাবো নাকি খেলবো আরও, সেটা মাশরাফি ঠিক করবে। আমাদের মনে হয় না এটা আমাদের ঠিক করে দেওয়া উচিত। ওর ক্যারিয়ার ওর জীবন, সে কখন শেষ করতে চায় ও সেটার ভালো বিচারক।'

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়