Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৫ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮ ||  ০২ শাওয়াল ১৪৪২

টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে টি-টোয়েন্টির দাপট

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৯, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৮:০৯, ১ জানুয়ারি ২০২১
টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে টি-টোয়েন্টির দাপট

বছরটাই ছিল ‘টোয়েন্টি টোয়েন্টি’- মানে ২০২০। মনে হতে পারে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পসরা সাজিয়েছিল ‘টোয়েন্টি টোয়েন্টি’। অন্য দুই ফরম্যাটের সঙ্গে তুলনা করলে সত্যিই ‘টোয়েন্টি টোয়েন্টি’র পসরা সাজিয়েছিল টি-টোয়েন্টি। ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ম্যাচ হয়েছে ৯৫টি। যেখানে টেস্ট হয়েছে মাত্র ২২টি, ওয়ানডে হয়েছে ৪৪টি। অথচ এ বছরই হওয়ার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ আরও কত কী?

ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদার ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেট হয়েছে নিকট অতীতের চেয়ে সবচেয়ে কম। সেই ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে হয়েছিল ২১টি করে টেস্ট। এরপর দিনকে দিন ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার হয়েছে উল্টো। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়ানডে সংখ্যাও কমের দিকে। সবশেষ ৩৯ ওয়ানডে হয়েছিল ১৯৯১ সালে।এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যা। কিন্তু এবার সবই ব্যাকগিয়ারে।

করোনা মহামারিতে একের পর এক সিরিজ স্থগিত হওয়ায় ২০২০ সাল ক্রিকেটাঙ্গনের জন্য দীর্ঘশ্বাস। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাত্র ১৬১টি। মার্চে ক্রিকেট বন্ধ হয়েছিল। জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জৈব সুরক্ষা বলয়ে শুরু করে টেস্ট ম্যাচ। সাউদাম্পটনে তাদের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। সফলভাবে ম্যাচ আয়োজন করায় ইংল্যান্ড প্রশংসা কুড়ায়। করোনা মহামারির ভেতরে আন্তর্জাতিক সফরে রাজি হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজও পায় বাহবা। তাদের দেখানো পথে হাঁটতে শুরু করে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়া।

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ এখনও চলমান। এর আগে ভারত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। হেরেছিল ওয়ানডে সিরিজ। টেস্ট সিরিজে ভারতের ৩৬ রানে অলআউটের ঘটনা সবচেয়ে আলোচিত। আবার এক ম্যাচ পরই সেই ভূত তাড়িয়ে বক্সিং ডে টেস্ট জিতে ভারত নিজেদের পেশাদারিত্ব জানান দেন ভালোভাবে।

করোনাকালে মাঠে খেলা না হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ‘গুডবাই’ বলেছেন একাধিক নক্ষত্র। নিশ্চিতভাবেই সবার উপরে থাকবেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ক্যারিয়ারের টুকরো কিছু ছবি যুক্ত করে নিজের পছন্দের গানে বানান ভিডিও বার্তা। তাতেই গুডবাই।

ধোনির অবসর নেওয়ার দিন আচমকা ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দেন সুরেশ রায়নাও। বছরের শেষ দিকে মোহাম্মদ আমির সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের হয়ে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন না। এছাড়া জিম্বাবুয়ের এলটন চিগুম্বুরা, অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন, ইংল্যান্ডের ইয়ান বেল, পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটার সানা মীর ক্রিকেট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলা ফেরানো নিয়ে যখন অনেক জল্পনা কল্পনা, তখন ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালু করতে উঠেপড়ে লেগেছিল আয়োজকরা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ‘হবে না, হবে না’ করেও হয়েছে জমকালো আয়োজনে। অবশ্য তা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

প্রথমবারের মতো হয়েছে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ। মার্চে স্থগিত হওয়া পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগের চার ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছেন। বছরের শেষ মাসে শুরু হয়েছে বিগ ব্যাশ লিগও।

বছরে সবচেয়ে বেশি ৯ টেস্ট খেলে ছয়টি জিতেছে ইংল্যান্ড। বছরের শেষ দিন পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট র‌্যাকিংয়ে শীর্ষস্থানে ওঠার দ্বারপ্রান্তে নিউ জিল্যান্ড। প্রায় ১১ বছর পর পাকিস্তান দলে ফিরেছেন ফাওয়াদ আলম। শুরুটা ভালো করতে না পারলেও বক্সিং ডে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে কিউইদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তুলে নিজেদের অবস্থান পাকাপাকি করেছেন।

এ বছর সবচেয়ে কম দুটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি হেরেছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি জিতেছে। আবার জিম্বাবুয়েকে ৩ ওয়ানডেতে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুইটি হেরেছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুইটি জিতেছে।

২০০৮ সালের পর এ বছরই প্রথম কোনও সেঞ্চুরি পাননি ভারতের বিরাট কোহলি। তবে দশক সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়ে বছর শেষ করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেটেও আছে সুসংবাদ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দশক সেরা ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন। বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া বছরে এ অর্জন খানিকটা স্বস্তির পরশ দিচ্ছে।

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়