Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১২ ১৪২৮ ||  ১৪ জিলহজ ১৪৪২

‘নামটা মাশরাফি, তাই এত আলোচনা, এত হাহাকার’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০২, ৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:১৩, ৫ জানুয়ারি ২০২১
‘নামটা মাশরাফি, তাই এত আলোচনা, এত হাহাকার’

দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ২৪ জনের ওয়ানডে এবং ২০ জনের টেস্টের প্রাথমিক দল তৈরি করেছে বাংলাদেশ।

আসন্ন সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ শুরু করতে যাচ্ছে ‘ভিশন ২০২৩’। ২০২৩ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে বাংলাদেশ বিসিবি দল গোছানোর কাজ করছে এখন থেকেই। পরিকল্পনায় না থাকায় বাদ পড়েছেন দেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পাশাপাশি একাধিক প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারকেও দেওয়া হয়েছে সুযোগ।

কেমন দল হলো বাংলাদেশের। মাশরাফিকে বাদ দেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত ছিল? সেসব নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস। তার কথা শুনেছেন ইয়াসিন হাসান।

২০২৩ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ‘ভিশন ২০২৩’ নামের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

শাহরিয়ার নাফিস: এটা বাংলাদেশ দলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যখন একটা বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়, তখন পরের বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে দল গঠন করা হয়। বিশ্বকাপকেই কিন্তু ওয়ানডের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট হিসেবে ধরা হয়। কোভিডের কারণে আমরা এক বছর হারিয়ে ফেলেছি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমরা আড়াই বছর পাচ্ছি। তাই এটাই আসলে খুব বাস্তব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এখন থেকেই যদি ২০২৩ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা পিছিয়ে যাবো। নির্বাচকরা যা পরিকল্পনা করেছেন তা যথার্থই হয়েছে।

এমন কিছু প্রথমবার হলো নাকি আগেও হয়েছে?

শাহরিয়ার নাফিস: এটা সব সময়ই হয়। কিন্তু অনেক সময় নির্বাচকরা এটা গণমাধ্যমে জানান, অনেক সময় জানান না। আমাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, ২০০৭ বিশ্বকাপের পর আমাদের যারা মূল খেলোয়াড় ছিল তারা কিন্তু এখন পর্যন্ত আছেন। তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাশরাফি ভাই ছিলেন। তারা পাঁচজন বাদে কিন্তু দলে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। স্পষ্ট বোঝা যায় যে নির্বাচকরা বিশ্বকাপের চিন্তা করেই দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে।

তারপরও এত বেশি আলোচনা কেন?

শাহরিয়ার নাফিস: সংবাদমাধ্যমে খোলাসা করে বলার কারণ মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাকে ছাড়া ২০২৩ বিশ্বকাপের চিন্তা করছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১১ বিশ্বকাপের দল গঠন করা হয়েছে। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য। এটা একটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

মাশরাফি ভাইয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক সময় ইনজুরির কারণে বাইরে ছিলেন। আবার ফিরে এসেছেন। এবার বাদ পড়লেন। সামনে যদি ভালো করে, কেউ জানে না। যে কেউ ভালো করলে তো তার জন্য জাতীয় দলে দরজা খোলা আছে। সব কিছু মিলিয়ে এক মাশরাফি ভাই না থাকায় এত আলোচনা, এত হাহাকার। এটা আজ থেকে পাঁচ বছর পরে করলেও যে প্রতিক্রিয়া হতো, এখনও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নামটা মাশরাফি বিন মুর্তজা, এজন্যই আলোচনা বেশি হচ্ছে।

২৪ জনের প্রাথমিক দল নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

শাহরিয়ার নাফিস:  আমার দৃষ্টিতে বর্তমান সময়ের যে সেরা ২৪ জন খেলোয়াড় আছে, যাদের নিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চিন্তা করা যায় তাদের প্রত্যেকেই আছে প্রাথমিক দলটিতে। সিনিয়র চারজনের সুযোগ প্রাপ্য। নতুন যারা আছে তারা সুযোগের দাবি রাখে। শরিফুল, ইমনরা বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে তারা দলে রয়েছে।

একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে ২৪ জনের দলটা কিন্তু ১৬ জনের হয়ে যাবে। নির্বাচকরা যেটা করেন নতুন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দেন, তারা জাতীয় দলের পরিবেশ, ড্রেসিংরুম, ট্রেনিংয়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়। যারা সুযোগ পেয়েছে তাদের মধ্যে ওই সামর্থ্য আছে যে তারা বাংলাদেশ দলকে ভবিষ্যতে তুলে ধরতে পারবে।

যুব বিশ্বকাপ জেতা পারভেজ হোসেন ইমন ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে কি তাড়াহুড়ো করলো বিসিবি?

শাহরিয়ার নাফিস: পারভেজ হোসেন ইমন গত বছর যুব দলের খেলোয়াড় ছিল। পরে সে এইচপিতে থাকবে এবং সেখান থেকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হবে। এভাবেই খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে প্রবেশ করে। শেষ টুর্নামেন্টে শরিফুল খুবই ভালো পারফরম্যান্স করেছে এবং ইমন নিজেকে চিনিয়েছে। একটা সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছে। দেখেই মনে হয়েছে প্রতিশ্রুতিশীল।

২০২৩ বিশ্বকাপের ভাবনায় বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফিকে বিসিবির বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপনার মত কী?

শাহরিয়ার নাফিস: মাশরাফি ভাইকে দলে না রাখার প্রক্রিয়া কিন্তু সহজ ছিল না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি থেকে শুরু করে নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্ট, অধিনায়কের সঙ্গে আলাপ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পত্রপত্রিকায় দেখেছি মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গেও আলাপ আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না।

মাশরাফি ভাই আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যে অবদান রেখেছেন, বোলিংয়ে অধিনায়কত্বে তা লিখে শেষ করা যাবে না। সব কিছু মিলিয়ে বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে মাশরাফি ভাইয়ের যে বয়স, সেই অনুপাতে ২০২৩ বিশ্বকাপ খেলা একটু কঠিন। আবার যেহেতু তিনি সংসদ সদস্য, দায়িত্ব কিন্তু অনেক বেড়ে গিয়েছে।

মাশরাফি বলেছেন, জাতীয় দলে না হোক ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে যাবেন। তার জন্য কি জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে?

শাহরিয়ার নাফিস: মাশরাফি ভাইকে আর কখনও দলে ডাকা হবে না এমনটা কেউ বলেনি। নান্নু (মিনহাজুল আবেদীন) ভাই কিন্তু বলেছেন সামনে কী হবে সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সিরিজ সিরিজের মতো হবে, মাশরাফি ভাই নিজের মতো করে খেলে যাবেন।

আমি, তুষার ইমরান, আব্দুর রাজ্জাক, মাশরাফি ভাই, অলোক; আমরা যারা প্রায় এক প্রজন্মের খেলোয়াড় তারা কিন্তু চাইলেই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর খেলা ছেড়ে দিতে পারতো। কিন্তু এখনও চালিয়ে যাচ্ছি। জাতীয় দলে না খেললেও আমাদের দায়িত্ব আছে। আমাদের যারা তরুণ ক্রিকেটার আছে, তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আমাদের অবস্থান থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করে যাবো। এভাবে যে যতদিন খেলবে সে ততদিন খেলা চালিয়ে যাবে। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নিশ্চয়?

শাহরিয়ার নাফিস: প্রত্যেকটা টিম ম্যানেজমেন্টের একটা পরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হয়। পরিকল্পনা ভালো হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে। পরিকল্পনা সফল হতে পারে, ব্যর্থও হতে পারে। সময়ই বলে দেবে সিদ্ধান্তটা ইতিবাচক ছিল, নাকি নেতিবাচক। বিসিবি কিন্তু কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কোনও খারাপ পরিকল্পনা করবে না। এজন্য যে পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচকরা নিয়েছেন সেটাকে সময় দেওয়া উচিত। সম্মান জানানো উচিত।

এই সিরিজে কি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে আপনি?

শাহরিয়ার নাফিস: ২০২৩ বিশ্বকাপ আমাদের লক্ষ্য। এজন্য নতুন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ করে দিতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জন করবে তারা। মাশরাফি ভাই যখন জাতীয় দলে থাকবেন না, তার শূন্যস্থান পূরণ করার ব্যাপার আছে, নতুন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার দরকার আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ দলটি কিন্তু তুলনামূলক দুর্বল। এ দলের সঙ্গে আপনি নতুন খেলোয়াড়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। বিদেশে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার থেকে দেশের মাটিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে সুযোগ করে দেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে সে নির্ভয়ে পারফর্ম করতে পারবে।

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়