Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১২ ১৪২৮ ||  ১৪ জিলহজ ১৪৪২

‘মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিক অবসরের সুযোগ দিয়ে সম্মান করা উচিত’

আব্দুল্লাহ এম রুবেল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৭ জানুয়ারি ২০২১  
‘মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিক অবসরের সুযোগ দিয়ে সম্মান করা উচিত’

মাশরাফি বিন মুর্তজা, সৈয়দ রাসেল ও আব্দুর রাজ্জাক রাজ- তিনজনেরই ভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের জার্সিতে পথচলা শুরু হলেও কৈশোর থেকে ক্রিকেট খেলা অনেকটা একসঙ্গে। বিশেষ করে বয়স ভিত্তিক দল, খুলনা বিভাগীয় দলেও দীর্ঘদিন একসঙ্গে ঘাস মাড়িয়েছেন। জাতীয় দলেও সতীর্থ ছিলেন তারা। সেই সূত্রে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মাশরাফির ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধুর তালিকায় আছেন রাজ্জাক ও রাসেল। এরমধ্যে রাসেল মাঠের ক্রিকেটে নেই দীর্ঘদিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেই রাজ্জাকও। দুজনের কেউই মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যেতে পারেননি। তবে মাশরাফির জন্য গর্ব আছে দুজনেরই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রাথমিক দলে মাশরাফিকে না রাখতে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে মেনে নিচ্ছেন তারা। কিন্তু আনুষ্ঠানিক অবসর নেওয়ার সুযোগ দিয়ে মাশরাফিকে আরও সম্মানিত করা হবে বলে মনে করেন তারা। রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাজ্জাক ও রাসেল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের দল নিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছেন রাজ্জাক। যদিও এই সময়ে মাশরাফিকে ছাড়া এই দল সবথেকে সেরা দল মনে করেন না তিনি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিছুটা পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ আছে, আর তার জন্যই এটা বিসিবির জন্য ছিলো বড় সুযোগ। তিনি বলেন, ‘সময়ের সেরা দলের কথা বললে মাশরাফিকে ছাড়া এটা হয়তো সেরা দল না। তবে ক্রিকেট বোর্ডের চিন্তাটা আছে ২০২৩ এর বিশ্বকাপ নিয়ে, সেক্ষেত্রে এটা হচ্ছে সবথেকে বড় সুযোগ ছিল বিসিবির জন্য, কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের যে টিমটা এসেছে খুব সম্ভবত ওদের ৬-৭ জন নিয়মিত ক্রিকেটার নেই, এখানে কিন্তু একটু পরীক্ষা নিরিক্ষা চালানো সম্ভব, যেহেতু এটা হোম সিরিজ হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব তরুণ ক্রিকেটারদের নেওয়া হয়েছে, ওরা কিন্তু খারাপ না। ওরা মোটামুটি ভালোই খেলেছে। আমি মনে করি যে, সুযোগ নেওয়া হয়েছে, এটা ভালো চিন্তা।’

মাশরাফির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তার সঙ্গে কথা বলে তাকে সম্মান দেখানো হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই স্পিনার, ‘মাশরাফিকে তো সম্মান করা হয়েছে। মাশরাফির সঙ্গে যদি তরুণ পেস বোলার খেলতে পারতো আমার মনে হয় ওরা লাভবান হতো, পরের প্রজন্মের জন্যই উপকার হতো, কিন্তু তারপরেও যেহেতু একটু সিস্টেম আছে, তরুণ খেলোয়াড়দের খেলানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। সঠিক পথে এগোনো হয়েছে, মাশরাফির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, এটা তো একটা সম্মান করা। এতদিন ধরে এত সাফল্য এনে দিয়েছে।’

তবে মাশরাফিকে আরও বড় সম্মান দেখানো যেতে পারে তাকে আনুষ্ঠানিক অবসরের সুযোগ দিয়ে। যদিও এটা একেবারেই মাশরাফির নিজের ব্যাপার বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাক বলেন, ‘দেখেন আমাদের দেশে কিন্তু এখনও মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়নি। আমার মনে হয়, সেটা করতে পারলে তাকে অবশ্যই অনেক বড় সম্মান দেখানো হবে। সে এই সম্মান দাবি করে। তবে মাশরাফি নিজে না চাইলে কিন্তু কিছুই করার নেই।’

অন্য সবার মতো সৈয়দ রাসেলও মাশরাফিকে দেশের অন্যতম সেরা লিজেন্ড ক্রিকেটার মনে করেন। মাশরাফি ক্রিকেট ছাড়ার পর যে শূন্যস্থান তৈরি হবে সেটা কিন্তু খুব সহজে পূরণ হবে বলে মানছেন না তিনি, ‘অবশ্যই একটা বড় শূন্যতা তৈরি হবে। আমি বরং মনে করি, মাশরাফির ছায়াতলে থেকেই তরুণ ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞ হয়ে উঠতো পারতো।’

মাশরাফিকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচকদের যুক্তির সঙ্গেও একমত নন রাসেল, ‘যে কাউকেই বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচকদের এটা একেবারেই একটা সাধারণ যুক্তি, দায়সারা কথা। ফর্ম না থাকলে অবশ্যই দল থেকে বাদ পড়তে পারেন... কিন্তু তা না হলে...। মাশরাফি তো অভিভাবক ছিল।’

মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ খুব একটা দেখছেন না রাসেল। তিনি জানান, ‘আমরা আসলে সেই সংস্কৃতি তৈরি করতে পারিনি, একজন ক্রিকেটারকে শেষ সময়ে সম্মান দেখানোটা। মাশরাফি কিন্তু সব সময়ই আনফিট থেকে ফিট হয়েছে। যে কোনও সময় তাকে ডাকলে সে ফিট হয়ে ক্রিকেট খেলবে এই বিশ্বাস আছে আমার। কিন্তু আমরা তো সেই সংস্কৃতি তৈরি করতে পারিনি। অবশ্যই তাকে সেই সুযোগটা দেওয়াও উচিৎ। সেই সুযোগ দিলে একই সঙ্গে মাশরাফি ও বোর্ড সবাই সম্মানিত হবে।’

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়