Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮ ||  ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাধারণ সালমা থেকে অধিনায়ক সালমা

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৪, ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৬:৪২, ৮ মার্চ ২০২১

‘আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!

বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,

অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।’

এই চরণগুলো ১৯২৬ সালে ‘নারী’ কবিতায় লিখেছেন জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম। প্রায় একশ বছর আগে নজরুল সবকিছুর পেছনেই নারী-পুরুষের সমান অবদান হিসেবে স্বীকৃত দিয়েছেন। বিদ্রোহী কবি তার শক্তিশালী লেখনী দিয়ে জানান দিয়েছেন, মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী পুরুষের সমান অবদান। কেউ কারও থেকে কম নন। নজরুলের সেই যুগের তুলনায় পৃথিবীর অনেক আধুনিকায়ন ঘটেছে। বড় বড় জায়গায় পৌঁছে গেছেন নারীরা। নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশকে।

কিন্তু এখনও সমাজের একটা বড় অংশ পুরুষদের তুলনায় নারীদের দেখেন ছোট করে। কিছু একটা করতে গেলেই বলে ওঠেন এটা-তো ছেলেদের কাজ। চলার পথে কাজের সময়ে হেয় হতে হয় নানাভাবে। শুনতে হয় দৃষ্টিকটু কথা। সামাজিক বাঁধার পাশাপাশি থাকে পারিবারিক চাপ।

সোমবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেশের এখনকার প্রতিষ্ঠিত নারীর গল্প বলবে রাইজিংবিডি, যিনি সামাজিক বাধা ছাপিয়ে সফল হয়েছেন নিজের কাজে। লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশ্ব দরবারে। তিনি বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক- সালমা খাতুন।

সালমার জন্ম ১ অক্টোবর ১৯৯০, খুলনায়। ছোট বেলা থেকেই ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে বেড়ে ওঠা সালমা দেশের হয়ে খেলা শুরু করেন ২০১১ সালে। এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৩৪টি ওয়ানডে ও ৭৪টি টি-টোয়েন্টি। অলরাউন্ডার সালমা খেলেছেন নারীদের আইপিএলেও। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১৮ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বের ভার এখন তার কাঁধেই।

শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সালমার পথচলা কেমন ছিল? তিনি জানিয়েছেন তার উঠে আসার গল্প; প্রকাশ করেছেন নানা অনুভূতি। চলুন শুনি সে কথা সালমার ভাষ্যেই...

ক্রিকেটার হওয়ার পথে সামাজিক বাধা অবশ্যই ছিল। যখন আমি ছোট বেলায় খেলতাম তখন বাধা ছিল ছেলেদের সঙ্গে খেলতাম বলে। সাধারণত কোনও পরিবার চায় না মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে খেলুক। শুধু ক্রিকেট না, যে কোনও খেলাই হোক না এই বাধাটা থাকে। এরপর যখন আমার পরিবার জানতে পারলো বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট বিভাগ আছে তখন আমার পরিবারই আমাকে খেলতে পাঠায়। তখন থেকে সমর্থন এখন পর্যন্ত আছে। এলাকার মানুষ অনেক কথা বলতো, এখন আর কেউ কথা বলে না; অনেক সমর্থন করে।

ক্রিকেট নাকি ছেলেদের খেলা

আমরা নিজেরাই আগে ছেলেদের ক্রিকেট খেলা দেখতাম। এরপর বাংলাদেশে যখন নারী ক্রিকেট শুরু হয়েছে তারপর থেকে আমাদের নারীদের খেলাও সবাই দেখে। হয়তোবা ছেলেদের ক্রিকেটের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেট কম দেখা হয়। তার কারণ হচ্ছে আমাদের গণমাধ্যম আমাদেরকে প্রচার করে খুব কম। আমি আশা করবো ছেলেদের পাশাপাশি আমাদের খেলাও যেন বেশি প্রচার করা হয় তাহলে সবাই দেখবে।

ক্রিকেট যে কারণে বেছে নিয়েছেন

আসলে আমি নিজেই বেছে নিয়েছি, কারণ আমি ক্রিকেট খেলা দেখতেও পছন্দ করি খেলতেও পছন্দ করি । ছোট বেলা থেকে নিজে থেকেই ক্রিকেট খেলা শিখেছি। কেউ আমাকে হাতে ধরে ক্রিকেট খেলা শেখায়নি। আমি ব্যাট ধরা নিজে থেকেই শিখেছি। আমার যদি কোনও ফেভারিট খেলা থাকে সেটা হচ্ছে ক্রিকেট। এটাই আমার পছন্দ যার কারণে আমি ক্রিকেট খেলা শিখেছি।

কটু কথা শুনতে হয়েছে কী না

ওরকম কারও কথা এখন পর্যন্ত খারাপ লাগেনি। হয়তোবা আমি নিজে কানে এখন পর্যন্ত কিছু শুনিনি তাই খারাপ লাগেনি। আশা করছি সামনে যে কয়বছর খেলবো এরকম কোনও কিছু আমার জীবনে আসবে না।

দেশের প্রতিনিধিত্ব করে গর্বিত কী না

অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট খেলছি বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিচ্ছি। আমরা আসলে ভালো পর্যায়ে আছি এখন। আমি এভাবেই দেখি, বাংলাদেশ দলে খেলছি বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার দিক থেকে আমি বলবো আমরা এখন অনেক ভালো একটা পর্যায়ে আছি। আশা করছি সামনে আমাদের যেগুলো খেলা আছে ওইগুলোতেও ভালোভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারব। অনেক ভালো লাগছে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে। নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে।

নারীদের প্রতি বার্তা

আমরা এখন যেই স্থানেই আছি না কেন যে পর্যায়ে চাকরি করছি,  চিকিৎসক কিংবা যে কোনও কিছুই এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী; আমরা চেষ্টা করবো যে পর্যায়ে আছি এর থেকে ভালো স্থানে যাওয়ার জন্য।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়