Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ১৬ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ২ ১৪২৮ ||  ০৩ জিলক্বদ ১৪৪২

শেষ ২০ মুখোমুখিতে আবাহনী ১৫-৫ মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ১০ জুন ২০২১   আপডেট: ২০:১৬, ১০ জুন ২০২১
শেষ ২০ মুখোমুখিতে আবাহনী ১৫-৫ মোহামেডান

ক্রিকেট, ফুটবল বা হকি; ক্রীড়াঙ্গনে ঢাকা লিগ মানেই আবাহনী-মোহামেডান। এ দুই দলের খেলা হলে এক বিন্দুর ক্রিকেটপ্রেমিরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দুই দলের লড়াই মানেই টান-টান উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের লড়াইটা জমজমাট।

অতীত আমেজ নেই। রয়েছে শুধু ঐতিহ্য। ক্লাব কর্মকর্তা, সমর্থকদের মধ্যে পুরোনো ঝাঁঝ নেই। তাতে খেলোয়াড়দের মধ্যেও লড়াই, প্রতিদ্বন্দ্বীতার জেদ পাওয়া যায় না। অথচ একটা সময় আবাহনী-মোহামেডানে মানে তুমুল উত্তেজনা, চায়ের কাপে ঝড় আর হই-হুল্লোড়। ক্ষণে ক্ষণে এ ম্যাচে রঙ পাল্টায়। ক্ষণে ক্ষণে বেড়ে যায় চাপ। সমর্থকদের কাছে এ ম্যাচ আবেগের। এ ম্যাচ প্রতিদ্বন্দ্বীতার। এসব চিত্র অতীত। সেসব পেছনে ফেলে শুক্রবার ঢাকা লিগের সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে মাঠে নামছে ঐতিহ্যবাহী দুই দল। মিরপুরে দুপুর দেড়টায় মুখোমুখি মুশফিক ও সাকিবের দল।

কে জিতবে আবাহনী না মোহামেডান? প্রশ্নটা মিরপুরে গত কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। গত এক যুগের ইতিহাস বলছে উত্তেজনা ও মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনী এগিয়ে। তবে দলবদল হওয়াতে এক যুগে একেক জন খেলছেন একেক দলে। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত ২০টি ম্যাচ খেলেছে দুই দল। লড়াই হয়েছে একপেশে। মোহামেডানের ৫ জয়ের বিপরীতে আবাহনীর জয় ১৫টিতে।

এবারের লিগেও আবাহনীর পারফরম্যান্স ঈর্ষণীয়। ৬ ম্যাচে ৫টিতে জিতেছে তারা। পারফরম্যান্সে অবশ্য পিছিয়ে রাখা যাবে না মোহামেডানকে। ৬ ম্যাচে তারা জিতেছে ৩টিতে, হেরেছে ৩টি। দলে আছে সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তবে ফর্মে নেই তিনি এটাও উদ্বেগের। অন্যদিকে আবাহনীর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত ফর্মে। ফলে জমজমাট লড়াই হবে সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে

কেমন ছিল দুই দলের ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত পারফরম্যান্স? এক নজরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক

২০১৮-১৯
শেষ ঢাকা লিগে মোহামেডান আবাহনী দুবার মুখোমুখি হয়েছিল। মোহামেডান দুবারই ম্যাচ হেরেছিল। শিরোপাধারীরা মোহামেডানকে প্রথম মুখোমুখিতে ৬ উইকেটে হারায়। দ্বিতীয় ম্যাচে আবাহনী জয় পায় ৪৫ রানে। মোহামেডান প্রথম ম্যাচে ২৪৮ রানের পুঁজি পেয়েছিল। আবাহনীর উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম অমির ৯৬, সৌম্য সরকারের ৪৩, ওয়াসিম জাফরের ৩৮ রানে সহজেই জয় পায় আবাহনী। সুপার লিগের ম্যাচেও আবাহনীর দাপট অব্যাহত থাকে। বিকেএসপিতে আবাহনী আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ৩০৪ করে। ম্যাচে সাব্বির সর্বোচ্চ ৬৪ রান করে। এছাড়া মিথুন ৫৬, মোসাদ্দেক ৫৪ ও শান্ত ৩৬ রান করে। লক্ষ্য তাড়ায় মোহামেডান ২৫৯ রানে আটকে যায়। রকিবুল সর্বোচ্চ ৯৬ রান করেছিল। আশরাফুলের ব্যাট থেকে এসেছিল ৬৮ রান। ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে মাশরাফি জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিনে। মোসাদ্দেক ৩৬ রানে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট।

২০১৭-১৮
ওই মৌসুমে সুপার লিগ খেলতে পারেনি মোহামেডান। তাই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বতী লিগ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল একবার। মিরপুরে দুই দলের ম্যাচে কোনো উত্তেজনাই ছড়ায়নি। এর দায়ভার অবশ্য মোহামেডানের ব্যাটসম্যানদের। আবাহনীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মোহামেডানের বোলাররা ২৫৯ রানে তাদের আটকে দেয়। জবাবে ব্যাটসম্যানরা ছিলেন অসহায়। ১৪৭ রানে শেষ মোহামেডানের ইনিংস। ১১২ রানের বিশাল জয়ে আবাহনী দাপট দেখায় মিরপুরে।

২০১৬-১৭ মৌসুম
ওই মৌসুমে দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল আবাহনী। প্রথম মুখোমুখিতে লড়াই করলেও সুপার লিগে দ্বিতীয় ম্যাচে উড়ে যায় মোহামেডান। প্রথম ম্যাচে ৮ মার্চ বিকেএসপিতে রেকর্ড রান করে দুই দল। লিটনের ১৩৫ ও শান্তর ১১০ রানে ৩৬৬ রান করে আবাহনী। জবাবে রকিবুল হাসানের ১৯০ রানের জবাবে ৩৩৯ রান করে মোহামেডান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে রকিবুলের সর্বোচ্চ ১৯০ রানের পরও মোহামেডান ম্যাচ হেরেছিল ২৭ রানে। কিন্তু ২৭ মার্চ সুপার লিগে স্রেফ উড়ে যায় দলটি। মোহামেডান মাত্র ১০০ রানে অলআউট! ২০৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয় পায় আবাহনী।

২০১৫-১৬ মৌসুম

মৌসুমের প্রথম মুখোমুখিতে ১২ মে মোহামেডান জয় পায় ৮ উইকেটে। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আবাহনীকে প্রথমে ১৮৩ রানে আটকে দেয় মোহামেডান। বোলারদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত পায় শুরুতেই। পরবর্তীতে উপল থারাঙ্গার ৭৭ ও এজাজ আহমেদের ৪২ রানে জয় পায় মোহামেডান। মতিঝিল পাড়ার দলটির নায়ক ছিলেন শুভাশীষ রায় (৩৪/৩)।  কিন্তু ১৫ জুন সুপার লিগে আবাহনীর কাছে পাত্তা পায়নি মোহামেডান। বিকেএসপিতে লিটনের ১৩৯ ও দিনেশ কার্তিকের ১০৯ রানে অবাহনী ৩৭১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায়। জবাবে মোহামেডান গুটিয়ে যায় ১১১ রানে। ২৬০ রানের বিশাল জয়ে মধুর প্রতিশোধ নেয় আবাহনী। সেবার আবাহনী চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।

২০১৪-১৫ মৌসুম
লিগ পর্বের প্রথম রাউন্ডেই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। মিরপুর শের-ই-বাংলায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মোহামেডানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল ধানমন্ডি পাড়ার ক্লাবটি। এরপর সুপার লিগে জয়ের ব্যবধান নেমে আসে ৩ উইকেটে। ম্যাচটি হয়েছিল ফতুল্লায়। আবাহনীতে খেলেছিলেন নাসির হোসেন ও জিয়াউর রহমান। অন্যদিকে মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

২০১৩-১৪ মৌসুম

২০১৩-১৪ মৌসুমে মাশরাফির নেতৃত্বে আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল মোহামেডান। শামসুর রহমানের অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসে আবাহনীর দেয়া ২৮২ রানের টার্গেট টপকে গিয়েছিল মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। শামসুর শতরান উপহার দিলেও মোহামেডানের অধিনায়ক মাশরাফি নিয়েছিলেন ৪০ রানে ৪ উইকেট। ওই মৌসুমে আবাহনীর অবস্থা ছিল একেবারেই করুণ। রেলিগেশন এড়াতে লড়তে হয়েছিল তাদের। ১০ ম্যাচে ৬ জয়ের বিপরীতে ৪ হার তাদের।

২০১২-১৩ মৌসুম

মৌসুমে লিগ আয়োজন করতে পারেনি সিসিডিএম।

০১১-১২ মৌসুম

এই মৌসুমে আবাহনীর জয়জয়কার। গ্রুপ পর্ব ও সুপার লিগ দুটোই জিতে নেয় তারা। প্রথমটিতে ৫ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে জয় পায় ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

২০১০-১১ মৌসুম
১-১ এ সময়তায় ছিল দুই দলের লড়াই। মোহামেডানকে উড়িয়ে আবাহনী ১০ উইকেটে জয় পেলেও সুপার লিগে মোহামেডান বেশ কষ্টে ১ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

২০০৯-১০ মৌসুম
২০০৯-১০ মৌসুমে গ্রুপ পর্ব ও সুপার লিগে জয় পায় মোহামেডান। শক্ত দল গড়েও মোহামেডানের সঙ্গে পারেনি আবাহনী। সেবার আবাহনীর হয়ে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ রফিক ও নাসির হোসেন। অন্যদিকে মোহামেডানে খেলেছিলেন শামসুর রহমান, মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদের মত ক্রিকেটাররা। গ্রুপ পর্বের ৬ উইকেটে জয়ের পর সুপার লিগে ৩ উইকেটে জয় পায় আশরাফুলের দল।

২০০৮-০৯ মৌসুম

এ মৌসুমে গ্রুপ পর্ব ও সুপার লিগে দুবারই মোহামেডান হেরেছে বড় ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বে ৫ উইকেটে হারের পর সুপার লিগে মোহামেডান হেরে যায় ১২২ রানে। সেবার শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়াসুরিয়াকে এনেও মাশরাফির আবাহনীর কাছে হার ঠেকাতে পারেনি মোহামেডান।

২০০৭-০৮ মৌসুম

২০০৭-০৮ মৌসুমে প্রথম মুখোমুখিতে মিরপুর শের-ই-বাংলায় আবাহনী ২ উইকেটে জয় পায়। মোহামেডান আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে আবাহনী। সুপার লিগের মোহামেডানের ভাগ্য ফেরেনি। আগে ব্যাটিং করে মোহাম্মদ আশরাফুলের মোহামেডান মাত্র ১৩৩ রান করে। জবাবে সগির হোসেন পাভেল (৬৭) ও শাহরিয়ার নাফিসের (৬২) ব্যাটে ৯ উইকেটে জয় পায় আবাহনী।

ঢাকা/ইয়াসিন/রিয়াদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়