Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২১ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ৭ ১৪২৮ ||  ০৯ জিলক্বদ ১৪৪২

ইতালি-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ইউরোর

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪২, ১১ জুন ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৩, ১১ জুন ২০২১
ইতালি-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ইউরোর

করোনাভাইরাস মহামারিতে ইউরোপে সবার আগে বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল ইতালি। তারাই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচের আয়োজক। উদ্বোধনী ম্যাচও খেলবে তারা। তুরস্ক ও ইতালির ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে গত বছরের স্থগিত হওয়া ইউরোর লড়াই। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় হবে উদ্বোধনী ম্যাচ, সরাসরি দেখাবে সনি টেন ২। দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে নামা আজ্জুরিদের জন্য সুখবর হলো, তারা পাশে পাচ্ছে দর্শক-সমর্থকদের।

রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে ধারণক্ষমতার ২৫ শতাংশ দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সংখ্যায় প্রায় ১৬ হাজার। দেড় বছর পর দর্শকদের সামনে খেলবেন ভেবে রোমাঞ্চিত ইতালির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি, ‘আমরা এক বছর ধরে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছি। ১৫ হাজার মানুষেল মুখে জাতীয় সঙ্গীত শুনতে আর তর সইছে না আমাদের। স্টেডিয়ামের ভেতরে ভক্তদের সঙ্গে ফুটবল একেবারে ভিন্ন একটা খেলা।’

২০১৬ সালের ইউরোর পর বড় কোনও আন্তর্জাতিক ‍টুর্নামেন্টে খেলতে নামছে ইতালি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে উঠতে না পারার হতাশা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে তারা। ইউরোর বাছাইয়ের ১০ ম্যাচের সবগুলো জিতেছে আজ্জুরিরা। টুর্নামেন্টে খেলতে নামছে ২৭ ম্যাচ অজেয় থেকে। বোনুচ্চি বললেন, ‘আমরা সব বাধা টপকাতে চাই। অন্য জাতীয় দলগুলোর অভিজ্ঞতা অনেক বেশি, কিন্তু আমরা যে কাউকে খেলতে পারি। আমাদের একজন (রোমেলু) লুকাকু কিংবা একজন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নেই। আমাদের শক্তি হচ্ছে দল।’

বেশ শক্ত অবস্থানে থেকে ইতালির মুখোমুখি হচ্ছে তুরস্ক। বাছাইয়ে তারা বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। মাত্র একটি ম্যাচ হেরে তারা ফরাসিদের পরে দ্বিতীয় স্থানে থেকে বাছাই শেষ করে, দুই দলের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪ পয়েন্টের। তুরস্কের কোচ সেনল গুনেস বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এবং উদ্বোধনী ম্যাচ খেলঅ আমাদের গর্বিত করছে।’ প্রতিপক্ষকে হুমকি দিতেও ভুললেন না তিনি, ‘প্রত্যেক উদ্বোধনী ম্যাচে চমক থাকে, আশা করি আমরাও তা পারবো।’

মাঠে দুই দলের অবস্থা...

ইতালি তাদের গত আটটি ম্যাচ কোনও গোল না খেয়েই জিতেছে এবং রবার্তো মানচিনি কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩২ ম্যাচে ২০টি ক্লিনশিট। তুরস্কও কম যায় না। তাদের মূল শক্তি রক্ষণে। বাছাইয়ে গুনেসের দল কেবল তিনটি গোল খেয়েছে। আর সম্প্রতি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মেম্ফিস ডিপে ও আর্লিং হালান্দের নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েকে হারিয়েছে তারা। এই বছর ছয় ম্যাচ খেলে সবগুলো অপরাজিত থেকে ইতালির মুখোমুখি হচ্ছে তুর্কিরা।

স্তাদিও অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন প্রায় ১৬ হাজার দর্শক।

দর্শকদের করোনা বিধি...

স্তাদিও অলিম্পিকের ধারণক্ষমতার ২৫ শতাংশ দর্শককে খেলা দেখার অনুমোদন দিয়েছে ইতালিয়ান সরকার। সর্বোচ্চ ১৫,৯৪৮ জন দর্শক-সমর্থক থাকবেন গ্যালারিতে।

মাঠে ঢোকার আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে দর্শকদের। ইতালিয়ান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষরিত করোনার টিকা নেওয়ার সনদ কিংবা গত ছয় মাসের মধ্যে করোনা হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন সেটির প্রমাণপত্র অথবা ম্যাচ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সনদ দেখাতে পারলেই স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন তারা। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই করা হবে, কারও যদি জ্বর কিংবা করোনার উপসর্গ থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হবে।

দলের খবর...

লরেঞ্জো পেল্লেগ্রিনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফিওরেন্তিনার গায়েতানো কাস্ত্রোভিল্লিকে ইউরো দলে নিতে উয়েফার অনুমতি চেয়েছে ইতালি। রোমার মিডফিল্ডার ইনজুরিতে পড়েছেন বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি দেয় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। বুধবার অনুশীলনের সময় চোট পান তিনি। মার্কো ভেরাত্তির হাঁটুর সমস্যা এখনও আছে, তাতে মিডফিল্ডে দেখা যেতে পারে মানুয়েল লোকাতেল্লিকে।

তুরস্ক তাদের ইউরো বাছাইয়ের শীর্ষ গোলদাতা সেঙ্ক টোসানকে পাচ্ছে না। এপ্রিলে হাঁটুর চোট পেয়েছেন তিনি। লিল স্ট্রাইকার ইলমাজ আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন। গত প্রস্তুতি ম্যাচে বদলি নেমে গোল করা উইঙ্গার চেঙ্গিজও একাদশে থাকতে পারেন।

তুরস্ক-ইতালির হেড টু হেড পরিসংখ্যান...

বড় কোনও টুর্নামেন্টে এর আগে একবারই দেখা হয়েছিল তুরস্ক ও ইতালির, ২০০০ সালের ইউরোতে, দিনটাও ছিল ১১ জুন। ওইবারও ছিল উদ্বোধনী ম্যাচ, যেখানে আন্তোনিও কন্তে ও ফিলিপ্পো ইনজাঘির গোলে ২-১ এ জিতেছিল ইতালিয়ানরা। ওকান বুরুকের গোলটি ছিল ইউরোতে তুরস্কের প্রথম গোল।

সব মিলিয়ে ১০ বার ইতালি-তুরস্ক মাঠে মুখোমুখি হয়। সাতটি জয় ও তিনটি ড্রয়ে ইতালিই এগিয়ে। নিকট অতীতে ২০০২ ও ২০০৬ সালের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে।

নজর কাড়তে পারেন সিলিক ও ইমোবিল।

আলো কাড়তে পারেন...

সিরো ইমোবিল (ইতালি): লাৎসিও স্ট্রাইকার ২০১৯-২০ মৌসুমে রেকর্ড ছোঁয়া ৩৬ গোল করে জিতেছিলেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্লাবের এই ফর্ম খুঁজে পেতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। গত পাঁচটি সিরি আ মৌসুমে প্রত্যেকবার গড়ে ২৫ গোল করে করেছেন। অথচ দেশের হয়ে ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ৪৫ ম্যাচ খেলে করেছেন ১২ গোল। এবার ইউরোর মঞ্চে তার খোলস থেকে বেরোনোর পালা। গ্রুপে তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড ও ওয়েলসের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের ভালো সুযোগ পাবেন তিনি।

জেকি সিলিক (তুরস্ক): লিলের হয়ে এই মৌসুমে ২৭ ম্যাচ খেলে মুগ্ধ করেছেন। ক্লাবকে লিগ ওয়ান জেতাতে তিনটি গোল করেছেন, করিয়েছেন দুটি। দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যানইউ, আর্সেনাল ও টটেনহ্যামের মতো প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর দৃষ্টি কেড়েছেন। বাছাইয়ে কোনও গোল করাতে না পারলেও ২৪ বছর বয়সী সিলিককে আধুনিক সময়ের ফুলব্যাক বলা হয়। একাদশে থেকে রক্ষণের ডানপ্রান্ত সামাল দিয়েছেন বাছাইয়ের আট ম্যাচ এবং এবারও একই দায়িত্বে দেখা যেতে পারে তাকে। এছাড়া আক্রমণে নজর কাড়তে পারেন তুরস্কের দ্বিতীয় শীর্ষ গোলদাতা। ২৯ গোল করে তিনি এখন শুধু সাবেক খেলোয়াড় হাকান সুকারের (৫১ গোল) পেছনে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান...

বিশ্বকাপ কিংবা ইউরো- বড় কোনও টুর্নামেন্টে ইতালি কখনও স্তাদিও অলিম্পিকোতে হারেনি। এই মাঠে তারা জিতেছে ছয়টি, ড্র দুটি। এমনকি এখানে গত সাত ম্যাচের একটিও গোল খায়নি তারা।

গত ইউরো বাছাইয়ে ১০ ম্যাচের সবগুলো জিতেছিল ইতালি, যে কীর্তি করেছে কেবল বেলজিয়াম। ২০১৬ সালের ইউরো ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ২২ ম্যাচ খেলে তারা যতগুলো গোল করেছিল, সেই ৩৭ গোল এবার তারা করেছে এই ইউরোর বাছাইয়েই।

বাছাইয়ে ম্যাচ জয়ে বেলজিয়ামকে ছুঁয়েছে ইতালি, আর রক্ষণে বেলজিয়ানদের পাশে ছিল তুরস্ক। ১০ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল খেয়েছে তারা, বেলজিয়ামের সঙ্গে যা যৌথ সেরা ডিফেন্সিভ রেকর্ড। তবে প্রথম ম্যাচের আগে তুর্কিদের জন্য একটি পরিসংখ্যান দুশ্চিন্তার, ইউরোর উদ্বোধনী ম্যাচ তারা খেলেছে চারবার। প্রত্যেকবারই হেরেছে তারা।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়