ঢাকা     রোববার   ১৬ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ২ ১৪২৮ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘ছায়া জাতীয় দল’ কী, কীভাবে চলবে? কারা থাকবেন?

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১১, ১৮ জুন ২০২১   আপডেট: ১২:৫৪, ১৮ জুন ২০২১
‘ছায়া জাতীয় দল’ কী, কীভাবে চলবে? কারা থাকবেন?

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের কার্যক্রম অনেক দিন ধরেই স্থগিত। দ্বিপাক্ষিক, ত্রিদেশীয় কোনও সিরিজ নেই। নেই প্রস্তুতি। নেই পরিকল্পনা। নেই স্কোয়াডও। অথচ ‘এ’ দল জাতীয় দলের পর দ্বিতীয় সেরা দল হওয়ার কথা। তাদের প্রস্তুতি হওয়ার কথা জাতীয় দলের মতো। বড় বড় দেশে এমনটাই হয়ে আসছে। ভারতের রয়েছে ভারত ‘এ’ দল। ইংল্যান্ডের ইংল্যান্ড লায়ন্স, পাকিস্তানের শাহীন্স আর শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দল। দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা দলটিকে নিয়ে নতুন করে না ভেবে বিসিবি নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জাতীয় দলের জন্য ছায়া দল তৈরি করছে। যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘বাংলাদেশ টাইগার্স।’ সবশেষ বোর্ড সভায় বাংলাদেশ টাইগার্সে কার্যক্রম পরিচলনার ঘোষণা দেয় বিসিবি।

ছায়া জাতীয় দল কী, কীভাবে চলবে? কারা থাকবে? কোন পরিকল্পনায় এগোবে? ছায়া দলের আদ্যোপান্ত জানাচ্ছে রাইজিংবিডি- 

কেন ছায়া দল?

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটাররা অনুশীলনের সুযোগসুবিধা পান না। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বাদে তাদের প্রস্তুতির সুযোগ নেই। কিন্তু সেখানেও অনুশীলন করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। বোর্ডের থেকে অনুমতি নেওয়া, গ্রাউন্ডসম্যানদের থেকে অনুমতি নেওয়া, থ্রোয়ার ম্যানেজ করাসহ আরও অনেক জটিলতা থাকে। ফলে তাদের ঘষামাজার কাজ করা হয় সামান্য। ভুলগুলোও শুধরানোর সুযোগ হয় না অনেক সময়। এসব বিবেচনায় বিসিবি গঠন করেছে ছায়া দল। যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম দিয়েছে, ‘বাংলাদেশ টাইগার্স।’

ছায়া দলের পরিকল্পনা হয় যেভাবে?

নিউ জিল্যান্ড সফর থেকে ফেরার পর বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল, ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম ও বোর্ড পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। জাতীয় দলের বাদ পড়া ক্রিকেটাররা কীভাবে তৈরি হবে, কোথায় তৈরি হবে, কে তৈরি করবে এসব বিষয় নিয়ে তামিম প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে নিজেই ছায়া দল তৈরি করার পরিকল্পনা দেন। সে বৈঠকেই তৈরি হয় ছায়া দলের রূপরেখা।

বিসিবি কী বলছে?

বিসিবির নতুন দলটির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিসিবি পরিচালক কাজী ইনামকে। সার্বিক দিক তিনি দেখভাল করবেন। বুধবার তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের সুযোগ-সুবিধার স্বল্পতা আছে। আমাদের তা ভালো করেই জানা। কোনও ক্রিকেটার যদি জাতীয় দলের বাইরে থাকে, অনেক সময় ফ্যাসিলিটিজ ব্যবহার করতে পারছে না। ক্ল্যাসিক উদাহরণ ইমরুল কায়েস, অনেক সময় জাতীয় দলে খেলেছে, অনেক সময় বাইরে গেছে। যখন বাইরে যায়, তখন তারা এমন একটি প্রোগ্রামে যেন থাকে, জাতীয় দলের মতোই যেন ফ্যাসিলিটিজ পায়। ঢাকার বাইরেও আমাদের ফ্যাসিলিটিজ আছে, সিলেটে আছে, কক্সবাজারে আছে। সেই ফ্যাসিলিটিজ যেন ব্যবহার করা যায়।’

এর আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ‘ধরেন ওপেনিংয়ে একজন খেলোয়াড় নেই। খেলবে না অথবা চোটে বা কোনও কারণে নেই। তখন আমরা ট্রায়ালের মতো একেকদিন একেকজনকে নিয়ে চেষ্টা করি। আজকে একে করি, কালকে ওকে করি। আমাদের যদি প্রস্তুতি থাকতো, যদি জাতীয় দলে দরকার হয় কে যাবে... এভাবে এক নম্বর, তিন নম্বর, সাত নম্বর-পজিশন অনুযায়ী কোচ চাহিদার কথা বলে দেবে সেই অনুযায়ী আমরা খেলোয়াড়দের সারা বছর ট্রেনিং দিবো। যাতে জাতীয় দলের প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প হিসেবে চলে যেতে পারে।’

কারা থাকবেন ছায়া দলে?

জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা দলের বাইরে থাকাকালে কিংবা জাতীয় দলে ভবিষ্যতে আসবেন, এমন ক্রিকেটাররা যাতে সারা বছর অনুশীলনের মধ্যে থাকে সেজন্য এই প্রোগ্রাম। অনেক খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়েন। আবার এমন খেলোয়াড়ও আছেন, যারা নিকট ভবিষ্যতে সুযোগ পেতে পারেন। কেউ কেউ ইনজুরির কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকেন। তাদের সবার জন্যই এই প্রোগ্রাম। বিসিবির এইচপি দলের বয়সের সীমা ২৩। এর ওপরে যারা আছে তাদের ঠিকানা হবে ছায়া দলে। কাজী ইনাম ধারণা দেন, ‘এটা ইমরুল, সাব্বির, বিজয়, নাসির, শফিউলদের মত খেলোয়াড়দের জায়গা। তারা কিন্তু এখন অনূর্ধ্ব-১৯ বা এইচপি দলে নেই। তাদের খেয়াল রাখার জন্যই এই বাংলাদেশ টাইগার্স।’

কোন পরিকল্পনায় এগোবে ছায়া দল?

স্কোয়াডের আকৃতি ১৬ থেকে ২০ জনের হতে পারে। এখানে ইনজুরি আক্রান্ত ক্রিকেটারদের পুনর্বাসনের পর তাদের তৈরি করা হবে। যারা অফ ফর্মে আছেন, তাদের প্রস্তুত করা হবে। তাদের তৈরি করবেন স্থানীয় কোচরা। জাতীয় দলের অবসরে যাওয়া ক্রিকেটারদের এনে কাজ করাবে বিসিবি। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা কোচদেরও যুক্ত করবে বিসিবি। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেষেই এ দলের যাত্রা শুরু হবে।

জড়িত থাকবেন তিন ফরম্যাটের তিন অধিনায়কও

জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের তিন অধিনায়ক। মুমিনুল টেস্টে। তামিম ওয়ানডেতে। টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ। তিন অধিনায়ক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানালেন কাজী ইনাম। খেলোয়াড় বাছাইয়ে অধিনায়করা বড় ভূমিকা রাখেন। কোন ক্রিকেটার মাঠে কেমন সময় কাটাচ্ছেন, সে সম্পর্কে ধারণা রাখেন তারা। এজন্য ছায়া দলের সঙ্গে তাদের যুক্ত করছে বিসিবি।

কাজী ইনাম বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা আছে তিন সংস্করণের তিন অধিনায়কে এখানে সম্পৃক্ত করা। তামিম, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সব জানে। এই ব্যাপারটি নিয়ে যখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তারা ছিল। তারা সবাই খুব রোমাঞ্চিত ও তাদের খুব ভালো কিছু পরামর্শও আছে। তারা সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারে। যেমন, সাদা বলের ক্রিকেটে ছয়-সাত নম্বরে হিটার পাচ্ছি না আমরা। তখন আমরা এখানে বছরজুড়ে প্রোগ্রাম ও পরিকল্পনা করতে পারি বের করে আনতে।’

‘এ’ দল কী বিলুপ্ত?

ছায়া দল নিয়ে সারা বছর কাজ করার পরিকল্পনা বিসিবির। তাহলে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল কি বিলুপ্ত হবে? সচরাচর জাতীয় দলের দ্বিতীয় সেরা দল হচ্ছে ‘এ’ দল। ছায়া দলে যারা অনুশীলন করবেন, তাদেরকে জাতীয় দলের পাশাপাশি ‘এ’ দলে সুযোগ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাজী ইনাম বলেন, ‘এ দল সাধারণত কোনও সিরিজ বা সফরের আগে কাজ করে। সবসময় সিরিজ আয়োজনও সহজ হয় না, বড় চ্যালেঞ্জ থাকে। করোনার কারণে এখন সব অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এ দলে বয়সভিত্তিক, এইচপির ক্রিকেটাররা তো থাকবেই। সঙ্গে ছায়া দলে ক্রিকেটারদেরও রাখা হবে, যেন তারা প্রস্তুতির মঞ্চ পায়।’

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়