Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৯ ১৪২৮ ||  ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাদা পোশাকে ভালো করতে দুই বছরের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ৬ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৬:৪৭, ৬ জুলাই ২০২১
সাদা পোশাকে ভালো করতে দুই বছরের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা

টেস্ট অঙ্গনে ২১ বছর কাটিয়ে দিলেও প্রত্যাশিত ফল নেই বাংলাদেশের। বরং বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে উল্টো পথে যাচ্ছে। এ ফরম্যাটে ভালো করতে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাতে সাময়িক সাফল্য মিললেও লম্বা সময়ের জন্য ফল পায়নি। তাতে পারফরম্যান্সে হিতে বিপরীত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাদা পোশাকের ফল একেবারেই হতশ্রী। বিশেষ করে শেষ দুই বছরে কোনও অর্জনই নেই। ঘরের মাঠে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট হারতে হয়েছে। দেশের বাইরে ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে স্রেফ উড়ে গেছে দল। শ্রীলঙ্কায় সবশেষ সিরিজে প্রথমটি ড্রয়ের পর দ্বিতীয়টি হেরেছে বাজেভাবে।

মর্যাদার টেস্ট অঙ্গনে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের যখন এই অবস্থা তখন আরও একবার নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন নির্বাচকরা। এবারের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী। দুই বছরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার সুমন ও আব্দুর রাজ্জাকদের নির্বাচক প্যানেল। কীভাবে সাদা পোশাকে এগিয়ে যেতে হবে, সেই পরিকল্পনা করছেন তারা। শিগগিরই সেই পরিকল্পনা বোর্ডের কাছে জমা দেবেন তারা।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বলেন, ‘আমরা বড় দৈর্ঘ্যর ক্রিকেটের জন্য চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা করছি। এই সেপ্টেম্বর থেকে.... কোভিডটা যদি একটু স্বাভাবিক হয় তাহলে আগামী মৌসুম থেকে ভালো একটা শুরু করতে চাই। বড় দৈর্ঘ্যর ক্রিকেটটাকে এমনভাবে সাজাতে চাই যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে টেস্টটা ভালো অবস্থানে যাবে। আমাদের নির্বাচক প্যানেল থেকে এতদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছি। সেভাবে আগাতে পারলে লাল বলের ক্রিকেটকে ভালো অবস্থানে নিতে পারবো।’

নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি মানহাজুল আবেদীন। তবে ধারণা দিলেন, বিভাগীয় দলগুলোকে অনূর্ধ্ব-২৩ দল তৈরি বাধ্যতামূলক করেছে। পাশাপাশি হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলায় জোর দিচ্ছেন তারা। এছাড়া যতটা সম্ভব ক্রিকেটারদের লাল বলে অনুশীলন, ম্যাচ অনুশীলন ও ফিটনেসে উন্নতি করতে জোর দিচ্ছেন। আরও কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে যেগুলো মাঠে প্রয়োগ করলে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস মিনহাজুল আবেদীনের।

‘দেশের বড় দৈর্ঘ্যর ক্রিকেট যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করতে পারবেন না। সব বিভাগে আপনাকে শক্তিশালী হতে হবে। এজন্য বড় সময়ের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা দুই বছরের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। এটা ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারলে আমাদের উন্নতি হবে। আমরা তখন টেস্টেও ভালো অবস্থানে যেতে পারবো।’

বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের টেস্ট ম্যাচ। আফ্রিকার দক্ষিণের দেশটিতে বাংলাদেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে ধারণা দিয়ে রাখলেন মিনহাজুল আবেদীন। তার ভাষ্য, ‘জিম্বাবুয়ে তাদের মাঠে অবশ্যই শক্তিশালী। তারা সব সময় বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানায়। কারণ হারারের কন্ডিশন, উইকেটের অবস্থাও ভিন্ন। আমাদের খেলোয়াড়রা এখানে বিপরীত কন্ডিশনে খেলে গেছে। ওখানে কিন্তু যথেষ্ট ঠাণ্ডা।’

তবে নিজেদের দল নিয়ে আশাবাদী তিনি, ‘আমাদেরও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। সেটা যদি কাজে লাগাতে পারি, তাহলে ভালো ফল হবে। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলোয়াড়রা ভালো করেছে। আশা করি সবাই যদি তাদের ব্যক্তিগত সেরাটা দিতে পারে, ভালো কিছু হবে।’

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়