Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৩ ১৪২৮ ||  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাহমুদউল্লাহ ব্যাকআপ নয়, ব্যাকবোন

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪৯, ৮ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৬:০১, ৮ জুলাই ২০২১
মাহমুদউল্লাহ ব্যাকআপ নয়, ব্যাকবোন

ফিরে আসার চিত্র কীভাবে আঁকতে হবে, তা হারারের ২২ গজে তুলির আঁচড়ে ছড়িয়ে দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার রঙিন ক্যানভাসে আঁকা হলো সেঞ্চুরির অনবদ্য এক গল্প। সাদা পোশাকে তিনি যে এখনও ফুরিয়ে যাননি তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। সঙ্গে স্পষ্ট বার্তাও দিলেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস পার্মানেন্ট।’

শুরুতে দলে ছিলেন না। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের ইনজুরি ভাবনায় তাকে দলে ডাকা হয়। দলে নিতে বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পান। স্কোয়াডে সুযোগ পেলেও মাহমুদউল্লাহ দলে থাকবেন কি না নিশ্চিত নয়। অবশেষে সেই সুযোগটি আসে তামিমের অনুপস্থিতিতে। 

হাঁটুর চোটে তামিম নেই। দলের শক্তি ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে নামলেন মুমিনুল। সেই তার ব্যাটেই রক্ষা বাংলাদেশের। অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে রাঙালেন নিজের ৫০তম টেস্ট ম্যাচ। সঙ্গে জানান দিলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ ব্যাকআপ নয়, ব্যাকবোন।’ 

অথচ তাকে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভাবতে বলেছিলেন জাতীয় দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ঘটনাটি বেশি দিনের আগের নয়। 

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন। তাকে সাদা পোশাকে আর বিবেচনায় আনেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি গত বছর লাল বলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও তাকে রাখেনি বিসিবি।

২০২০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্স ছিল দৃষ্টিকটু। প্রথম ইনিংসে ২৫, দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন। দ্বিতীয় ইনিংসে নাসিম শাহর হ্যাটট্রিক বলে মাহমুদউল্লাহ যেভাবে আউট হন তাতে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরক্তি ধরে যায়। এরপর তাকে টেস্ট দল থেকেও বাদ দিয়েছিল দল। 

ডমিঙ্গো জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর চার টেস্টে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট হাসেনি। এ সময়ে তার ইনিংসগুলো ছিল এরকম, ৭, ৭, ১০, ১৫, ৬, ৩৯*, ২৫ ও ০। এমন পারফরম্যান্সে বাদ মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ১৬ মাস পর দলে ফিরে মাহমুদউল্লাহ রাঙালেন নিজের ক্যানভাস। সেঞ্চুরিতে ভাস্বর তার ইনিংস। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডে শেষ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এরপর ১০ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ৬৭।

১৩২ রানে ৮ উইকেট হারানো দলের হাল ধরতে ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ। তার সঙ্গী ছিলেন লিটন দাস। আগের রাতে লিটন ৯৫ রানে আউট হয়ে হতাশ করেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ দলকে হতাশ করলেন না। সেই ৯৫ রানে থেকেই রয় কাইকে পরপর দুই চার হাঁকালেন। তাতে সেঞ্চুরির ল্যান্ডমার্কে পৌঁছে যান অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। রানের ফুলঝুরিতে মাহমুদউল্লাহ হারারে রাঙিয়েছেন আপন ছন্দে। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়