ঢাকা     রোববার   ১৬ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ২ ১৪২৮ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দুই বছরের প্রস্তুতি ছয় মাসে

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ২৪ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ২০:৩৮, ২৪ আগস্ট ২০২১
দুই বছরের প্রস্তুতি ছয় মাসে

উনিশের হাত ধরে বিশে এসেছিল স্বপ্নের শিরোপা। এরপর তাদের নিয়ে কত স্বপ্নবোনা! কিন্তু তাদের স্বপ্নডানা উড়াল দেওয়ার আগেই করোনার ধাক্কা। শুধু যুব বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড়রাই নয়, তাদের উত্তরসূরিদের মাথায় পড়ল বাজ। আরেকটি যুব বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের প্রস্তুতির আকাশে কালোমেঘ।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশকে প্রথম শিরোপা এনে দিয়েছিলেন আকবর আলীরা। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ভারতকে হারিয়ে বিজয়ের ঝাণ্ডা উড়ায় এই যুব দল। যুবাদের শিরোপা জয় কোনো রূপকথা ছিল না, সোনার কাঠি, রূপার কাঠির পরশেও আসেনি। এ সাফল্য এসেছে নিখুঁত প্রক্রিয়ায় চার বছর ধরে চলা দীর্ঘ পরিকল্পনা ও সেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

২০২২ সালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আরেকটি যুব বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়ন তকমা নিয়েই সেই আসরে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কিন্তু আকবরদের উত্তরসূরিদের তৈরি করার কার্যক্রম থেমে যায় মহামারি কোভিডে। দুই বছরে তাদের চ্যাম্পিয়নদের মতো করে গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও দল গঠন ও নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচে সীমাবদ্ধ কার্যক্রম।

সময় আছে ছয় মাস। এই সময়েও তাদের সাম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি দেওয়ার লক্ষ্য বিসিবির। স্বপ্নের শিরোপা অর্জনের পথে বড় কারিগর ছিলেন বিসিবির পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন। তার বড় আক্ষেপ বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৯ দলটি যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ না পাওয়ায়, ‘কোভিড ছিল। লকডাউনসহ আরো কত সমস্যা। আমরা অনুশীলন করছি, ম্যাচ খেলছি, সবকিছু নিজেদের ভেতরে। বাইরের কোনো দল আসতে পারেনি। আমরা কোনো জায়গায় গিয়ে খেলতে পারিনি। প্রস্তুতি যে হচ্ছে, সেই প্রমাণও পেলাম না। ওদের নিজেদেরও খারাপ লাগছে। আমাদের তো ওদের অভিভাবক হিসেবে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে।’

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত সাতটি সিরিজসহ সবমিলিয়ে ৩৬ ম্যাচ খেলেছিলেন আকবর-শরিফুলরা।  এর মধ্যে দেশের মাটিতে তিনটি, দেশের বাইরে চারটি। ফল হওয়া ৩৪ ম্যাচের মধ্যে জয় ২৩টিতে। বিশ্বকাপের পর আকবর বলেছিলেন, ‘ম‌্যাচ পরিস্থিতিতে একজন ক্রিকেটারের ও দলের আসল সামর্থ‌্য বেরিয়ে আসে। আমরা বিশ্বকাপের আগে এত ম‌্যাচ খেলার কারণে আমাদের টিম বন্ডিংটাও ভালো হয়েছে।’

যুব বিশ্বকাপের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল দলের বন্ধন। দুই বছর একসঙ্গে থাকায় আকবররা নিজেদের ওপর বিশ্বাস তৈরি করে ফেলেছিলেন। নিজেদের শক্তি, নিজেদের দুর্বলতা সবই তারা বুঝে যান। মাঠের ক্রিকেটে সেই চিত্র ফুটে উঠে প্রবলভাবে।

বর্তমান ব্যাচটি সেই সুযোগ পাননি। তবে শেষ মুহূর্তে তাদের জন্য যতটুকু সম্ভব করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন সুজন, ‘আমাদের হাতে ছয় মাসের মতো সময় আছে। দুই বছরের প্রস্তুতি কোনোভাবেই ছয় মাসে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না। কিন্তু আমাদের চেষ্টা চালাতে হবে। যদি আমরা ছয় মাসে ২০টির মতোও ম্যাচ আয়োজন করতে পারি তাহলে ছেলেরা প্রস্তুতির একটা মঞ্চ পাবে। জিতুক-হারুক ওরা ম্যাচ খেলার মধ্যে থাকবে। চাপের মুহূর্তে কী করা লাগবে, কী করলে ভালো হবে সেগুলির একটা অনুশীলন হবে।’

পরিকল্পনা মতো কাজও করছে বিসিবি। আগামী মাসে আফগানিস্তান যুব দলের বিপক্ষে পাঁচটি একদিনের ম্যাচ হবে সিলেটে। অক্টোবরে পাকিস্তানের বিপক্ষেও পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। তবে আয়োজক কারা, এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের যুবারাও পাকিস্তান যেতে পারে। পাকিস্তানও বাংলাদেশ সফর করতে পারে।

এছাড়া নভেম্বরে ভারতের মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। যেখানে ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে আফগানিস্তান আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশকে। সব মিলিয়ে ২০টির মতো ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এর আগে যতবার অংশগ্রহণ করেছে ততবার সেরা সাফল্য পেতে চেয়েছে। ২০২০ সালে আকবররা সাফল্যর মুকুট জিতেছে। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজে ফেভারিট হিসেবেই যাবে তরুণ যুবরা। শিরোপা ধরে রাখার মিশন, কাজটা শুধু তাদের জন‌্য চ‌্যালেঞ্জিং নয়, দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়