Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৮ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

রশিদকে আইডল মেনে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের খুদে স্পিন জাদুকর

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ১৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ২০:৩৭, ১৩ অক্টোবর ২০২১

মিডল অ্যান্ড লেগ স্টাম্পে পরে বলের শার্প টার্ন। ব্যাটসম্যান বলটাই বুঝল না। পরের বলটা গুগলি। অফস্টাম্পের বাইরে পরে ব্যাটসম্যানের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত করে অফ স্টাম্পে। পরেরটা একটু ঝুলিয়ে দিলো, ব্যাটসম্যান সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড।

মনে হতে পারে বলা হচ্ছে, বর্তমান সময়ের সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খানের কথা। কিংবা কল্পনায় আদিল রশিদের ছবিও ভেসে উঠতে পারে। কিন্তু তাদের কথা বলা হচ্ছে না। ৬ বছর বয়সী বরিশালের নাজির বাড়ির জাদুময়ী লেগ স্পিনার সাদিদের জন্য এত স্তুতি। লেগ স্পিন, গুগলিতে মন্ত্রমুগ্ধ করছে ছেলেটি। বাংলাদেশের এই খুদে ক্রিকেটারের স্পিন জাদুর কয়েকটি ডেলিভারির ভিডিও এখন ভাইরাল।

ফেসবুকে সাদিদের মামা সিরাজুল ইসলাম শুভ ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। যেখানে ২২ গজ দূর থেকেই বোলিং করছে সাদিদ। ডানহাত ঘুরিয়ে পেছন থেকে যেভাবে বল ছুড়ছে, দেখে মনে হতে পারে পুরোদস্তুর পেশাদার ক্রিকেটার। তার লেগ স্পিন, গুগলি ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে-বলে সংযোগই হচ্ছে না। হলেও তা ডিফেন্সিভ ব্যাটিংয়ে। আর বল মিস হলেই স্টাম্পে। তা সে ঘাসের পিচ কিংবা পিচঢালা রাস্তা, যে কোনো পিচে বল একই রকম দুর্বোধ্য।

এতটুকু বয়সে এতটা ক্রিকেট প্রেম? অবাক করছে সবাইকে। বিশেষ করে টেপ টেনিস বলে যেভাবে বলের টার্ন করাচ্ছে তা দেখে অবাক সবাই। ভাগ্নের ক্রিকেট প্রেম নিয়ে মামা বলেছেন, ‘সাদিদ আমার বোনের ছেলে। এখন বয়স ৬ বছর। কিন্তু ৩ বছর বয়স থেকে ও ক্রিকেট খেলে। তখন শুধু ব্যাটিং করত। প্রচুর ক্রিকেট খেলা দেখে। খেলোয়াড়দের বেশ পছন্দ করে।’

সিরাজুল বলতে থাকলেন, ‘একদিন বাংলাদেশের খেলা দেখছিল। সাকিব আল হাসান ২-৩ উইকেট পেয়েছে আবার ৩০ রানের মতো করেছিল। আর মুশফিক নইলে মিঠুন একটা ভালো ইনিংস খেলেছিল। কিন্তু ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিল সাকিব। তখন ও জিজ্ঞেস করেছিল, সাকিব কেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। আমি ওকে বুঝাই, অলরাউন্ডার তো। ব্যাটিং বোলিং দুটায় ভালো করায় ম্যাচ সেরা হয়েছে। সেদিন থেকে ওর বোলিংয়ে আগ্রহ তৈরি হয়।’

লেগ স্পিনার হওয়ার গল্পটাও শুনিয়েছেন তিনি, ‘আমি চিন্তা করলাম ওকে লেগ স্পিনার বানানো যায় কি না। ওর হাতটাকে আমি সেভাবে ঘোরানোর চেষ্টা করি যেভাবে লেগ স্পিনাররা ঘোরান। সোজা শিখাইনি। এর কারণে ন্যাচারলি ওর ফলো থ্রুটা ওইভাবে তৈরি। খুব বেশি দিন হয়নি। ৬ থেকে ৮ মাসে ও বোলিং রপ্ত করেছে।’

সাদিদের রশিদ খানের বোলিং খুব পছন্দ। তার খেলা হলে টিভির সামনে থেকে উঠবেই না। তাকে আইডল মেনে নিজেকে তৈরি করছে সাদিদ। ভাগ্নেকে নিয়ে মামার স্বপ্নের পরিধি অনেক বড়, ‘এখন নিয়মিত অনুশীলন করছে। দিনে দিনে উন্নতি করছে। আমার যতটুকু সামর্থ্য সেভাবে ওকে সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করছি। ওর বোলিং দেখে সত্যিই আমি মুগ্ধ হই। আমি টুকটাক ক্রিকেট খেলেছি। বড় পর্যায়ে খেলতে পারিনি। তবে খেলেছি। অফস্পিনার ছিলাম। সঙ্গে ব্যাটিংও ভালো করতাম। আমার ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু নিজে পারিনি। নিজের স্বপ্ন এখন ভাগ্নেকে দিয়ে পূরণ করি।’

আপাতত সাদিদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে টেপ টেনিস বলে। হাত ছোট। ক্রিকেট বল গ্রিপে আসে না। বয়স বাড়লে তাকে দেওয়া হবে ক্রিকেট বল। খুব সহজেই কথা বুঝতে পারে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিতে পারে বলে ভাগ্নের মধ্যে বিশেষ কিছু দেখছেন শুভ, ‘ও খেলাটা প্রচণ্ড ভালোবাসে। দুই বেলা খেলতে হবে এরকম একটা জেদ নিয়ে থাকে। রাতে বাসায় বল নিয়েই পড়তে বসে। অনুশীলনে খুব মনোযোগী। যাই বলি খুব দ্রুত ক্যাচ করতে পারে। চেষ্টা করে। আর ভুল করলে যদি রাগ হয়ে বলি খেলার দরকার নেই। তখন মনোযোগ বাড়িয়ে দিয়ে বোলিং করতে থাকে। নতুন জিনিস শিখতে পছন্দ করে। এটাই ওর বিশেষ গুণ।’

সম্প্রতি বরিশালের উলালগনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছে সাদিদ। বাবা হারা সাদিদ থাকছেন মা ও মামার সঙ্গে। মামার ইচ্ছে, ‘ওর বাবা নেই। মা-ও চায় ছেলে ক্রিকেটার হোক। আমি এখনও ছাত্র। চাকরির জন্য পড়াশোনা করছি। এর পাশাপাশি ওকে সময় দেই। আমি যত দিন আছি তো আছিই। এরপর আমার ইচ্ছা আছে ওকে বিকেএসপিতে দেওয়ার। পাশাপাশি সাকিব ভাইয়ের মাস্কো একাডেমিতে অন্তত দুই মাসের জন্য ভর্তি করানোর।’

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়