Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৮ ||  ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বোকামো ‘ব্যাক পাস’ ও ‘পরিকল্পিত’ পেনাল্টিতে বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষ

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩১, ১৪ অক্টোবর ২০২১  
বোকামো ‘ব্যাক পাস’ ও ‘পরিকল্পিত’ পেনাল্টিতে বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর কি দারুণভাবেই না শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়। এরপর ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১০ জন নিয়েও করে ড্র। তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে পাত্তা না পেলেও বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার রাস্তা খোলাই ছিল।

সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে হারাতে হতো নেপালকে। বুধবার মালেতে নেপালের বিপক্ষের ম্যাচে সবকিছু প্রত্যাশামাফিক এগোচ্ছিল। ৯ মিনিটে সুমন রেজার গোলে নেপালের বিপক্ষে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এই লিড তারা ধরে রাখে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত। এরপর পরিকল্পিত এক সর্বনাশা পেনাল্টি ও তার আগে এক ব্যাক পাস ভুলে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ হয়। নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। তাতে ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। 

দিনশেষে আশায় বুক বাঁধা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আপসোস হয়ে রইলো দুটো। এক— রাকিব হোসেনের বোকামো ব্যাক পাস। দুই— শেষ মুহূর্তে উজবেকিস্তানের রেফারি আখরল রিসকুলায়েভের বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।

এক.
৯ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ৭৮ মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায়। পুরো ম্যাচে নায়কের ভূমিকায় থাকা গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। জিকোর লাল কার্ড দেখার পেছনে অনুঘটক ছিলেন রাকিব হোসেন। তিনি বোকামি করে এ সময় মাঝমাঠ থেকে ব্যাক পাস দেন নিজেদের অর্ধে। সেই বলের গতিপথ ধরে নেপালি ফরোয়ার্ড নবযুগ শ্রেষ্ঠা এগিয়ে আসতে শুরু করেন বাংলাদেশের বক্সের দিকে। সেটা দেখে দলকে বিপদমুক্ত করতে গোলপোস্ট ছেড়ে বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসেন জিকো। এ সময় শ্রেষ্ঠা শট নিতে গেলে এবং ঠিক সে সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হাত প্রসারিত হয় বাংলাদেশি গোলরক্ষকের। জিকো বল বিপদমুক্ত করলেও হাত দিয়ে বল ধরার চেষ্টাটা রেফারির দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি লাল কার্ড দেখালেন জিকোকে। তাতে গোলপোস্টে দুর্গ হয়ে থাকা জিকোকে হারিয়ে বড়সড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

দুই.
এরপরও বাংলাদেশ প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল শেষ ১২ মিনিট গোলপোস্ট অক্ষত রাখার। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত পেরেছিলও। কিন্তু এরপর ভুল করে বসলো বাংলাদেশের সাদ উদ্দিন। এখানে সাদ উদ্দিনের যতোটা না ভুল ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। 

এ সময় বক্সের বাইরে থেকে ক্রসে বক্সের ভেতরে বল পাঠান নেপালের একজন খেলোয়াড়। বক্সের মধ্যে বিশ্বনাথ ঘোষ ও সাদ উদ্দিনের মাঝখান দিয়ে লাফিয়ে উঠে সেটাতে হেড নেওয়ার চেষ্টা করেন নেপালের অঞ্জন বিষ্ঠা। এ সময় তার সঙ্গে হালকা ধাক্কা লাগে সাদের। তাতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান উজবেক রেফারি।

জিকোর বদলি হিসেবে নামা গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা বুঝে-শুনে ঝাপ দিয়েছিলেন বলের দিকেই। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেননি। শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশেরও। এক ভুল ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আবারও সাফের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। আশা জাগিয়েও স্বপ্নভঙ্গের হতাশা সঙ্গী করতে হয়। ড্রেসিং রুমে চোখের জলের জোয়ায় বইয়ে যায়।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়