ঢাকা     শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৮ ||  ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পরিশ্রমী জয়ে স্বস্তিতে বাংলাদেশ (লাইভ)

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১৯ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ০৮:৩২, ২০ অক্টোবর ২০২১
পরিশ্রমী জয়ে স্বস্তিতে বাংলাদেশ (লাইভ)

স্কোর: ওমান ১২৭/৯ (২০ ওভার), বাংলাদেশ ১৫৩/১০ (২০ ওভার)

ফল: বাংলাদেশ ২৬ রানে জয়ী।

ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্ব বা সুপার টুয়েলভের আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে ওমান ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে। 

জয়ে স্বস্তি তবে মিশন আনফিনিশড 

ওমানকে হারিয়ে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। ব্যাট বলের দারুণ লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্বাগতিক দলকে হারালেও এখনও মিশন আনফিনিশড। সুপার টুয়েলভ বা মূল পর্বে খেলতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে জিততে হবে। পাশাপাশি ওমানের আরেকটি হারের প্রার্থনা করতে হবে। ওমান শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারলে এবং বাংলাদেশ পাপুয়া নিউ গিনিকে হারালে সহজেই বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভে যাবে। আর যদি ওমান ও বাংলাদেশ দুই দলই জিতে যায় তাহলে স্কটল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ওমানের রান রেট হিসেবে আসবে। তখন শীর্ষ দুই দল যাবে সুপার টুয়েলভে। 

জয়ের নায়ক সাকিব

ম্যাচের শুরু থেকেই চনমনে সাকিব। ব্যাটিংয়ে আগ্রাসন দেখালেন। বোলিংয়ে দ্যুতি ছড়ালেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে জেতালেন ম্যাচ। তাইতো ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা উঠলো তার হাতেই। ২৯ বলে ৪২ রান ও বল হাতে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের নায়ক সাকিব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি সাকিবের দ্বিতীয় ম্যান অব দ্য ম্যাচ। এর আগে ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০ রান ও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। 

লড়াই করে জিতল বাংলাদেশ

টসের সময় ওমানের অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘কোনো চাপে নেই তারা।’ বাংলাদেশের অধিনায়কের মুখে ছিল না হাসি। ওমানের এ ম্যাচে হারানোর কিছু ছিল না। কিন্তু সীমিত পরিসরের ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি বাংলাদেশ আজ হারলেই সব শেষ! বিশ্বকাপ থেকে বিদায়।

এমন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমে বাংলাদেশ লড়াই করে জিতল। ব্যাটিংয়ে মাঝারিমানের স্কোর পাওয়ার পর বোলাররা লক্ষ্য আটকে রাখার চ্যালেঞ্জ নেয়। শুরুটা ভালো ছিল না। ক্যাচ মিস ও অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এলোমেলো শিবির। কিন্তু ভুল শুধরে বোলিংয়ে মধ্যভাগে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওমানের ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখে এলোমেলো করে দেন বোলারা। তাতে আরাধ্য জয়টা চলে আসে অতি সহজে।

তবে পুরো ম্যাচে পরিশ্রম করা লেগেছে বাংলাদেশের। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আজ সেরা ছিল বাংলাদেশ। ঘাম ঝরানো প্রতিটি মুহূর্তে ক্রিকেটাররা বিশ্বাস করছিল, আজ জয় আসবে। শেষমেশ তাই হলো। 

২ ওভারে ৪ উইকেট তুলে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

১৭তম ওভারে সাকিবের পকেটে যায় ২ উইকেট। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ বোলিংয়ে ফিরে নেন ২ উইকেট। ২ ওভারে মাত্র ৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওমানের লোয়ার অর্ডার চুরমার করেছেন দুই অভিজ্ঞ বোলার। শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য ৪২ রান লাগবে ওমানের। বাংলাদেশের দরকার ১ উইকেট। 

সাকিবের জোড়া আঘাতে ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে 

১৭তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে জোড়া উইকেট পেলেন সাকিব। তাতে ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ওমান হারাল সপ্তম উইকেট। ৪ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট পেলেন বাঁহাতি স্পিনার। প্রথমে আয়ান খান লং অফে সীমানায় ক্যাচ দেন। পরের বলে নাসিম খুশি একই জায়গায় ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। শেষ ১৮ বলে ওমানকে জিততে হলে ৪৭ রান করতে হবে। 

ওমান শিবিরে সাইফ উদ্দিনের আঘাত

শেষ ৩০ বলে ৫৪ রান তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শেষ দিকে ব্যাটিং করছে ওমান। কিন্তু ১৬তম ওভারে শুরুতেই আঘাত করলেন সাইফ উদ্দিন। ডানহাতি পেসারের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল কভার দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন সন্দীপ গৌদ (৪)।

এর আগে ওমান ১৫তম ওভারে দলীয় শতরান তুলে নেয়। তবে পঞ্চাশ থেকে শতরানে পৌঁছতে ৫২ বল লেগেছে তাদের। এর আগে পঞ্চাশ রান পেয়েছিল ৩৮ বলে।  

দ্রুত উইকেট তুলে স্বস্তি ফেরালেন মেহেদী-সাকিব

৩৪ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন ওমানের অধিনায়ক জিশান মাকসুদ ও জতিন্দর সিং। বিপদজনক হয়ে উঠার আগে এ জুটি ভাঙলেন মেহেদী। ডানহাতি অফস্পিনারকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেটে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেন জিশান। ১৬ বলে ১২ রান করে ফেরেন তিনি। পরের ওভারে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান জতিন্দর সিং আউট হন ৪০ রানে। সাকিবের বল উড়াতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন ১০ রানে মাহমুদউল্লাহর হাতে সুযোগ পাওয়া জতিন্দর। ৯ রানে ২ উইকেট তুলে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ। 

লক্ষ্যের পথে ছুটছে ওমান, সুযোগের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসন দেখিয়ে রান তুলছে ওমান। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে তাদের রান ৭০। শেষ ৬০ বলে তাদের প্রয়োজন ৮৪ রান। বাংলাদেশকে হারিয়ে জিততে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বআসরের মূল পর্বে খেলা একরকম প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। বাংলাদেশ আজ হেরে গেলে বিশ্বকাপের মিশন শেষ হবে বাছাই বা প্রথম পর্বেই। 

ক্যাচ ড্রপ, ছক্কা এবং উইকেটের ওভার

পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারটি ছিল নাটকীয়। মোস্তাফিজের বল স্লগ করতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন জতিন্দর। ক্যাচ নিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। এক বল পর প্রজাপতি মিড উইকেট দিয়ে হাঁকান ছক্কা। পরের বলে প্রতিশোধ নেন মোস্তাফিজ। অফস্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১৮ বলে ২১ রান করা প্রজাপতি। ৬ ওভারে ওমানের রান ৪৭। হারিয়েছে ২ উইকেট। পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ২৯।  

১১ বলের ওভারে মোস্তাফিজের ১ উইকেট

নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ। তাসকিন প্রথম ওভারে ১২ রান খরচ করলেও মোস্তাফিজের বোলিং শুরুতে ছিল  নিয়ন্ত্রিত। তাতে মিলে সাফল্য। আকিভ ইলিয়াসকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরের পথ দেখান। এরপর লাগাতার ওয়াইড দেন। সব মিলিয়ে ৫টি। একটি ছক্কাসহ তার ওভার থেকেও আসে ১২ রান। সব মিলিয়ে ১১ বলে ওভার শেষ করেছেন মোস্তাফিজ।

ওমানকে ১৫৪ রান টার্গেট দিল বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় স্কোরে চোখ ছিল মাহমুদউল্লাহদের। কিন্তু ওমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্কোর হলো মাঝারিমানের। সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে পারল মাত্র ১৫৩ রান। আজ জিতেলই সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত হয়ে যাবে ওমানের। এজন্য করতে হবে ১৫৪ রান। 

ব্যাটিংয়ের শুরুতে আবারো বিপর্যয়। মধ্যভাগে আবার হাল ধরা। এবার সাকিবের সঙ্গী সৌম্যর পরিবর্তে দলে ফেরা নাঈম। দুইজনের ৮০ রানের জুটিতে মনে হচ্ছিল লক্ষ্যের পথেই ছুটছে বাংলাদেশ। কিন্তু থিতু হওয়া দুই ব্যাটম্যান আউট হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ বাদে কেউ দলের প্রয়োজন মেটাতে পারলেন না। 

সাকিব ২৯ বলে ৪২ রান করেন। সর্বোচ্চ ৬৪ রান করা নাঈম বল খেলেন ৫০টি। ৩টি চার ও ৪ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রানের বেশি করতে পারেনি।

ব্যাটিং অর্ডারে বেশ ওলটপালট হলো। সাকিবকে টপকে তিনে নামা মেহেদী খুলতে পারেননি রানের খাতা। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে টপকে পাঁচে এসেছিলেন সোহান। ৩ রানে শেষ তার লড়াই। আফিফ এসেছিলেন মুশফিককে টপকে। ৫ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১ রান। আটে নামা মুশফিক করেন ৬ রান। 

নাঈম ফিরলেন ৬৪ রানে, কত করবে বাংলাদেশ?

আফিফ হোসেনকে ফেরানোর পর একই ওভারে নাঈম শেখকে সাজঘরের পথ দেখালেন কলিমউল্লাহ। জোড়া উইকেটে বাংলাদেশের রান থামিয়ে রেখেছেন এ পেসার। তার বাউন্সার তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ৫০ বলে ৬৪ রান করা নাঈম। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান বাঁহাতি ওপেনার। এর আগে আফিফ ৫ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

ঝুঁকি নিয়ে বিপদে সোহান

দ্রুত রান তুলতে সোহানকে পাঠানো হয়েছিল পাঁচ নম্বরে। কিন্তু দলের প্রয়োজন মেটাতে পারলেন না। ঝুঁকি নিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে সোহান ফিরলেন ৩ রানে। ওমানের অধিনায়ক জিসান মাকসুদের বল তুলে মারতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে লং অফে ক্যাচ দেন। 

নাঈমের ফিফটি, রান আউটে সাকিব সাজঘরে

থিতু হওয়ার পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন সাকিব। ইনিংস বড় করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিজের ভুলে রান আউট হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। পয়েন্টে বল পাঠিয়ে ফিল্ডারের দিকে চোখ রেখে দৌড় দিয়েছিলেন। কিন্তু দৌড়ে গতি ছিল না। ক্রিজের অনেক আগেই হাল ছেড়ে দেন। আকিবের সরাসরি থ্রোতে ভেঙে যায় সাকিবের উইকেট। ২৯ বলে ৬ চারে ৪২ রান করেন সাকিব। সঙ্গী হারালেও ফিফটি তুলে নিতে ভুল করেননি নাঈম শেখ। ৪৩ বলে বিশ্বকাপের প্রথম ফিফটি পেয়েছেন নাঈম। তৃতীয় উইকেটে নাঈম ও সাকিবের জুটি ছিল ৮০ রানের। 

সাকিব-নাঈমের ব্যাটে শতরান পেরিয়ে বাংলাদেশ

দলীয় পঞ্চাশ রান এসেছিল ৫০ বলে। পরের পঞ্চাশ রান পেতে বাংলাদেশ খেলল ২৯ বল। ১৩.১ ওভারে দলীয় শতরান পায় বাংলাদেশ।

সাকিব-নাঈম জুটির পঞ্চাশ   

৩৯ বলে সাকিব ও নাঈমের জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ হলো। ২১ রানে মেহেদীকে হারানোর পর সাকিব ও নাঈম জুটি বাধেন। দুইজনের ব্যাটে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড সচল। থিতু হওয়ার পর দুইজন আগ্রাসী ক্রিকেট বেছে নিয়েছেন। পেসার নাদিমের করা ১২তম ওভারে সাকিব দুই চার, নাঈম এক ছক্কা আদায় করেন। ওই ওভারে বাংলাদেশ পায় ১৭ রান।    

১০ ওভারে বাংলাদেশ ৬৩/২

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ১০ ওভারে ৬৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সাকিব ও নাঈমের ৪২ রানের জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের স্কোর। তবে রানের গতি একেবারেই কম। এর আগে পাওয়ার প্লে’ও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়ার প্লে’তে মাত্র ২৫ রান তুলেছিল। হারিয়েছিল ২ উইকেট। এবারও তেমন কিছুই হলো। মাত্র ৪ রান বেশি করলো বাংলাদেশ। হারিয়েছে ওই ২ উইকেটই। বাউন্ডারি এসেছে মাত্র ২টি, ছক্কা ১টি। 

তিনে নেমে মেহেদীর শূন্য 

সাকিবের পরিবর্তে তিনে নেমেছিলেন মেহেদী হাসান। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারলেন। ৪ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই আউট। পেসার ফায়াজ বাটের বল তুলে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন। তবে এ উইকেটের জন্য ফায়াজের ক্যাচ পুরস্কার প্রাপ্য। ফলো থ্রুতে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দি করেন ফায়াজ। 

রিভিউ নিয়ে লিটনকে ফেরাল ওমান 

এবার আর বাঁচতে পারলেন না লিটন। দ্বিতীয় ওভারে তার ক্যাচের আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তৃতীয় ওভারে বিলাল খান তার প্যাডে আঘাত করেন। এবার আম্পায়ার সাড়া দিলেন না। ওমান রিভিউ নেয়। তাতে ভাগ্য খুলে স্বাগতিকদের। ৭ বলে ৬ রানে লিটন এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে। 

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন লিটন

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভার। পেসার কলিমুল্লাহর সিমের ওপর বল টাইমিং করতে পারেননি লিটন। কিন্তু আম্পায়ার আহসান রাজা ওমানের আবেদনে সাড়া দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন লিটন। রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট পেরিয়ে যাওয়ার সময় বড় গ্যাপ ছিল। রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।   

টস

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। আল আমিরাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি শুরু হয়। একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সৌম্য সরকার বাদ পড়েছেন। তার জায়গায় এসেছেন নাঈম শেখ। ওমান দলেও একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। খাওয়ার আলীকে বিশ্রামে রেখে ওমান। দলে এসেছেন ফায়াজ বাট।

বড় রান করতে চায় বাংলাদেশ, চাপ নেই ওমানের

টসের সময় মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা স্কোরবোর্ডে বড় রান করতে চাই। শিশির ভাবনা আমাদের মাথায় থাকলেও আমরা রান করতে চাই এবং বোলিংয়ে ভালো করে জিততে চাই। আগের দিনও শিশির ভাবনা ছিল। কিন্তু আমরা ফিল্ডিং করেছিলাম।’ ওমানের অধিনায়ক জিশান মাকসুদ বলেছেন, ‘আমাদের আজ কোনো চাপ নেই। আমরা প্রথম ম্যাচে চাপে ছিলাম। আজ নিজেদের স্থির রেখে সেরাটা খেলাটাই খেলবো।’

বাংলাদেশ একাদশ: মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, লিটন দাস, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ নাঈম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, নুরুল হাসান, সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ।

ওমান একাদশ: জিশান মাকসুদ (অধিনায়ক), আকিব ইলিয়াস, আয়ান খান, বিলাল খান, ফায়াজ বাট, যতীন্দর সিং, কলিমউল্লাহ, মোহাম্মদ নাদিম, নাসিম খুশি, কাশ্যপ প্রজাপতি ও সন্দীপ গৌদ।

পারবে তো বাংলাদেশ?

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার কোনো অঘটন ছিল না। নিজেদের ভুলেই বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে। এরকম আরেকটি ভুল বাংলাদেশের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে আজ। ওমানের বিপক্ষে আজ ‘পান থেকে চুন খসলেই’ শেষ বিশ্বকাপের মিশন। ভুলগুলো শুধরে দারুণ কিছুই করতে চান মাহমুদউল্লাহরা। ওমানের বিপক্ষে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচটা জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশকে কে জেতাবে সেটাই দেখার। 

বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই বনাম ওমানের ইতিহাস

সুপার টুয়েলভে খেলতে হলে বাংলাদেশকে আজ ওমানকে হারাতেই হবে। শুধু ওমানকেই নয় একদিন পর পাপুয়া নিউ গিনিকেও হারাতে হবে। ওমানের সুযোগ আছে সুপার টুয়েলভে খেলার। পাপুয়া নিউ গিনিকে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপ দারুণভাবে শুরু করেছে। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বআসরের মূল পর্বে খেলা একরকম প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। 

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়