Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

লিটন আর কতদিন ‘অটোমেটিক চয়েজ’?

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪২, ২০ অক্টোবর ২০২১  
লিটন আর কতদিন ‘অটোমেটিক চয়েজ’?

মিরপুরের প্রেসবক্সে আলোচনায় এক সাংবাদিক বলছিলেন, ‘লিটন এক শট প্রায় দশভাবে খেলতে পারে। কোনটা ছেড়ে কোনটা খেলবে এমন দ্বিধায় থাকে সব সময়…!’ হাসির ছলে এমন কথা বললেও তার চোখে লিটন বাংলাদেশের সবচেয়ে স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। কিন্তু ভালো নন। এমন অভিমত অনেকেরই। এমনটাও বলা হয়, লিটন একালের মোহাম্মদ আশরাফুল। নিজে বোঝে না তার উইকেটের মূল্য কতটুকু। তার ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য কতটা দিগন্ত বিস্তৃত। 

আশরাফুল যেমন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। পরে হয়ে যান বাংলাদেশের সুপারস্টার। লিটন তেমনই এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নেন। সুপারস্টার হতে পারেননি এখনও। না পারার কারণ অধারাবাহিক, মনোসংযোগের অভাব ও দূরদর্শিতার ঘাটতি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ প্রচুর টি-টোয়েন্টি খেলছে। লিটন অটোমেটিক চয়েজ হয়ে প্রতিটিতেই ইনিংস শুরু করছেন।

এ বছরের পারফরম্যান্সে চোখ রাখা যাক, ১১ টি-টোয়েন্টিতে লিটনের রান মাত্র ৮৬! সর্বোচ্চ রান ৩৩। গড় ৮.৬০! এমন গড়ের পরও একজন ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কিভাবে ইনিংস শুরু করেন, অটোমেটিক চয়েজ থাকেন সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার। প্রশ্ন করা হয়েছিল ওমানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নিজের আস্থার জায়গা থেকে বলেছেন, ‘ওপেনিংয়ে আমাদের দুর্ভাবনা থাকলেও যারা আছে তারা সামর্থ্যবান। তাদের ওপর আস্থা রাখতেই হচ্ছে।’

এই ১১ ইনিংসের ৭টিতে লিটন দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৩৩ রান যে ম্যাচে করেছেন সেটি ছিল ২৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায়। বাকিগুলোতে লিটন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। ১১ ইনিংসে যার একটি ফিফটি পর্যন্ত নেই, তিনিই দলের মূল ওপেনার!

অবশ্য সীমিত পরিসরে তার এ অফ-ফর্ম নতুন নয়। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের দুর্বল বোলিংয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। পরের ১৭৬ রান তুলতে লিটনের লেগেছে নয় ইনিংস! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪, ২২, ০। এরপর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯, ০, ২১ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০ ও ২৫ রানের পর ওই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন ১০২ রান। ওই সফরে শেষ দুই ইনিংসে ২১ ও ৩২ রানের বেশি অবশ্য করতে পারেননি।

তার ক্যারিয়ার এগিয়েছে এভাবেই। ৪৭ ইনিংসে ১৩৩৫ রান। গড় ৩০.৩৪। ৪টি শতকের তিনটিই ‘প্রিয়’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। একটি ভারতের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টি রেকর্ডও প্রায় একই রকম। ৩৯ ইনিংসে ৭২২ রান। গড় ১৯। ৪টি হাফ সেঞ্চুরির দুটি করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।      

জাতীয় দলে প্রায় ছয় বছর খেলে ফেলেছেন এ ওপেনার। খুব বেশি কিছু না করেই এগিয়েছে তার গড়পড়তা ক্যারিয়ার। প্রতিশ্রুতিশীল, সামর্থ্যবান শব্দগুলো তার নামের পাশে বারবার উচ্চারিত হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট বারবার সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার তো করতে পারছেনই না, উল্টো দলকে ভোগাচ্ছেন এ ব্যাটসম্যান। প্রশ্ন উঠছে, কতদিন তাকে বয়ে বেড়াবে দল? লিটন আর কতদিন ‘অটোমেটিক চয়েজ’?

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়