Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮ ||  ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ

রাব্বি খান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ২৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১২:৪৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ

ক্রিকেটের ২২ গজে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। যেখানে ক্রিকেট বিশ্ব দুই ভাগ হয়ে যায়। কেউ ভারতের সমর্থন করে। কেউ পাকিস্তানের। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না হওয়াতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ হয়ে আছে। তাই বৈশ্বিক ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে দুই দল মুখোমুখি হলে ক্রিকেট ভুবন আনন্দে মেতে উঠে। দীর্ঘদিন পর দুই দল আবারো মুখোমুখি বৈশ্বিক ক্রিকেটের আসরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল আসরের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই ভারত-পাকিস্তানের জমজমাট লড়াই।

এর আগে বিশ্বকাপ মঞ্চে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। কেমন ছিল সেই লড়াই? এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক-

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:

বিশ্বকাপের প্রথম আসরের দশম ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর ডারবানে। টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শোয়েব মালিক ফিল্ডিং নেওয়ার পর রবিন উথাপ্পার ৫০ ও মহেন্দ্র সিং ধোনির ৩৩ রানে ভর করে ভারত রান তোলে ৯ উইকেটে ১৪১। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মিসবাহ উল হক ৫৩ রান করে শেষ বলে রান আউট হলে পাকিস্তানের ইনিংসও শেষ হয় ৭ উইকেটে ১৪১ রানে। ম্যাচ টাই হওয়ায় ফলাফল নির্ধারিত হয় বোল আউটে। ভারত বোল আউটে ম্যাচটি জিতে নেয় ৩-০ ব্যবধানে।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:

এরপর জোহানেসবার্গে ২৪ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। টস জিতে ভারত ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান করেছিল। ভারতের হয়ে গৌতম গম্ভীর করেন ৭৫ এবং রোহিত শর্মা অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ১৫২ রানে পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায়। ব্যর্থ হয় মিসবাহ উল হকের লড়াই; যোগিন্দর শর্মার বলে মিসবাহর শট শ্রীশান্ত ক্যাচ ধরতেই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ে ভারত। ভারতের হয়ে রুদ্র প্রতাপ সিং ও ইরফান পাঠান তিনটি করে উইকেট নেন।

২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:

২০১২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০তম ম্যাচে ৩০ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ১২৮ রানেই গুটিয়ে যায় মোহম্মদ হাফিজের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। লক্ষ্মীপতি বালাজি তিনটি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও যুবরাজ সিং নেন দুটি করে উইকেট। রান তাড়া করতে নেমে সহজেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে হারায় টিম ইন্ডিয়া। 

মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে তিন ওভার বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় ম্যান ইন ব্লু। ৬১ বলে ৭৮ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচে সেরা হন বিরাট কোহলি।

২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:

বিশ্বকাপের ১৩তম ম্যাচে ঢাকায় ২১ মার্চ ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। টস জিতে ভারত পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠালে ৭ উইকেটে ১৩০ রানের বেশি তুলতে হাফিজের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। সেই ম্যাচে অমিত মিশ্র ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। এই ম্যাচেও সহজেই ভারত হারিয়ে দেয় পাকিস্তানকে।

১৮.৩ ওভারে ভারত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে। বিরাট কোহলি ৩২ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন, শিখর ধাওয়ান করেন ৩০। ২৮ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন সুরেশ রায়না। অমিত মিশ্র ম্যাচের সেরা হন।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:

বিশ্বকাপের ১৯তম ম্যাচে সুপার টেনে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ হয়েছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। ম্যাচটি হয়েছিল ১৯ মার্চ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ কমিয়ে ১৮ ওভার করা হয়েছিল। সেই ম্যাচে ভারত টস জিতে ফিল্ডিং নেয়। শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮ ওভারে করে ১১৮। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচেও পাকিস্তানকে হারাতে কোনও সমস্যা হয়নি ভারতীয় দলের। ১৩ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। ৩৭ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচের সেরা হন বিরাট কোহলি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫-০ ও একদিনের বিশ্বকাপে ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। এবার ভারতের লক্ষ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই পরিসংখ্যানকে ধরে রাখা। অপরদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া পাকিস্তান।

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়