Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮ ||  ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘বিধ্বস্ত’ নাসুম যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ, আবুধাবি থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:২২, ২৭ অক্টোবর ২০২১  
‘বিধ্বস্ত’ নাসুম যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেলতে হলে কী করতে হবে? মুখে হাসির ভাব রেখে নাসুম আহমেদ যেটা বললেন সেটা হলো, ‘ভালো খেলতে হবে।’

তার ওই হাসিতে বিধ্বস্ততার ছাপ! পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মাঠের হাহাকার, হতশ্রী পারফরম্যান্স, একের পর এক হারের ধকল। বেশ কয়েকবার মুখে প্রাণবন্ত হাসি আনার চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি! মনে হচ্ছিল, মাঝ সমুদ্রে অথৈ জলে ভাসছেন...পাচ্ছেন না কুল কিনারা। 

বুধবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা বিধ্বস্ত নাসুমই যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। অথচ আজকের দিনটা হতে পারত তার।  

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভের ম্যাচে একমাত্র নাসুমই ব্যাট হাতে-বল হাতে সরব ছিলেন। ১৯তম ওভারে তার ব্যাট থেকেই আসে ইনিংসের দুই ছয়। তার ৯ বলে অপরাজিত ১৯ রানের বদৌলতে বাংলাদেশ ১২৪ রানের পুঁজি পায়। বোলিংয়ে ইংলিশ শিবিরে শুরুর ধাক্কাটা তিনিই দিয়েছিলে। পরে সীমানায় দারুণও ক্যাচও নেন। এতো কিছু করেও নাসুম জেতাতে পারেননি বাংলাদেশকে। কারণ বাকিরা ছিলেন নিষ্প্রভ।  

আবুধাবিতে কন্সট্রাকশনে কাজ করেন চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে কাজ বাদ দিয়ে গাঁটের পয়সা খরচ করে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে। বাংলাদেশ পুরো ম্যাচে লড়াই করতে পারেননি। ক্ষুদ্ধ এই দর্শক প্রশ্ন তুলেছন বাংলাদেশের খেলার নিবেদন নিয়ে, শারীরিক ভাষা নিয়ে তার যত আপত্তি!

 ‘আমরা এতদূর থেকে খেলা দেখতে এসেছি। পুরো খেলাটাও দেখতে পারিনি। কি খেলেছে বাংলাদেশ? আমার মনে হয়েছে তারা শুধু বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে লড়াই করার মতো তাড়না দেখিনি। মাঠে না ঢুকতেই দেখি ২ উইকেট নাই। বিশ্বাস করেন আমার কাছে একবারও মনে হয়নি বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলছে।‘

রাউন্ড ওয়ানে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও মাহমদুউল্লাহ রিয়াদদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক শুনিয়েছেন পেইন কিলার খেয়ে তাদের খেলার গল্প। বলেছেন সমালোচনা হোক, কিন্তু ছোট করা ঠিক নয়। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম দুদিন আগে, সমালোচকদের আয়ানায় মুখ দেখতে বলেছেন।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। লাল সবুজের দেশের কাছে সবার প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া থাকবে তা অনুমিতই ছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে ক্রিকেটাররা ছন্নছাড়া। শুরু থেকে শেষ-একছত্র কতৃত্ব বজায় রেখেছিল ইংলিশরা।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান কম হওয়া অস্বাভাবিক নয় অবশ্যই। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের নিবেদন নিয়ে থেকে যায় বড় প্রশ্ন! অসময়ে ভুল শট, ক্রিজে থিতু হয়ে রিভার্সসুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট উপহার, পাল্টা আক্রমণ, লড়াইয়ের নুন্যতম চেষ্টাও না করা এসবেরই দেখা মিলল ২২ গজে। এ যেন স্রেফ অসহায় আত্মসমর্পণ।  

এমন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাসুম ভেঙ্গে পড়লেন, ‘পারছি না। ভাগ্য খারাপ। আমাদের দিয়ে হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভালোভাবে মাঠে প্রয়োগ করতে পারছি না।‘

এমন দুর্ভাগ্যের দিন ছাপিয়ে কবে সৌভাগ্যের সোনা মাখা সময় আসবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে? ক্রিকেটার, ক্রিকেট কর্তারা-তো বড় বড় কথাই বলে যাচ্ছেন, তাদের কথা কাজে আসবে কবে? 

আবুধাবি/রিয়াদ/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়