ঢাকা     সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৩ ১৪২৮ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

২০ বছরের ক্যারিয়ারে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম: মাশরাফি

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৯ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ০৮:৩৬, ৩০ নভেম্বর ২০২১
২০ বছরের ক্যারিয়ারে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম: মাশরাফি

মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, ‘২০ বছরের ক্যারিয়ারে আরও অনেক বেশি কিছু করতে পারতাম। আমি সুস্থ থাকলে হয়তো টেস্ট ক্রিকেট তিন’শ উইকেট নিয়ে শেষ করতে পারতাম। হয়তো ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও বেশি পেতাম। সত্য বলতে কি, এটা নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নাই। কারণ, এজন্য দুঃখ নাই যে আমি জানি যে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছি। এজন্য খারাপ লাগে না। কষ্ট থাকতো যদি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতাম। আল্লাহ সবাইকে সুযোগ দেয়, এগুলো নেওয়া খুব জরুরি।’

সোমবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাব এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনিও আরও বলেন, ‘আমি যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি— অনূর্ধ্ব-১৭’র হয়ে, অনূর্ধ্ব-১৯’র হয়ে এরপর জাতীয় দলে এসেছি। আজকে ক্রিকেটে যে ধরনের ফ্যাসিলিটিজ, যেমন- কোচ, ফিটনেস ট্রেনার; সেসময় নড়াইলে কিন্তু এগুলো ছিল না। আগে-ভাগেই বুঝতে পেরেছি যে আমি ক্রিকেট খেলাটা পছন্দ করি, এটা আমি খেলতে চাই। আমার মনে হয় সে কারণেই ক্রিকেটার হওয়াটা আমার পক্ষে পসিবল হয়েছে।’

তার ক্যারিয়ারে ইনজুরির বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার জীবনের কঠিন সময় ছিল ইনজুরি। আমার এখনো মনে আছে আমি ইন্ডিয়ায় গিয়েছিলাম অপারেশন করতে ২০০১ সালে। সে সময় আমি জাতীয় দলের হয়ে মাত্র চারটা টেস্ট খেলেছি, তিনটি ওয়ানডে খেলেছি। হাসপাতালে ডাক্তার আমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললো তোমার লিগামেন্ট ছিড়ে গেছে অপারেশন করতে হবে এবং তোমাকে এক বছর খেলার বাইরে থাকতে হবে। আমি একা গিয়েছিলাম ইন্ডিয়ায়। ঢাকায়ই আমি সে সময় খুব একটা একা আসতাম না। সেই আমি একা একা ইন্ডিয়ায় গিয়ে অপরারেশন করিয়েছি। সে সময় মনে হচ্ছিলো পুরো আকাশটা আমার ওপর ভেঙে পড়ছে।’

ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা ও আবার ইনজুরিতে পড়ার বিষয়ে বলেন, ‘ওখান থেকে আস্তে আস্তে কামব্যাক করার পর আমি ২০০৮ পর্যন্ত ভালোভাবে খেলতে পেরেছি। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত আবার আমার টানা চারটা সার্জারি হয়। এরপর ফিরে এসে যেখানে আমি ১৪৪ কি.মি. গতিতে বল করতাম সেটা নেমে আসলো ১২৪ কি.মি. ও ১৩০ কিলোমিটারে। ৭টা অপারেশন নিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করা কঠিন ছিল। তখনও আমি যখন মাঠে নামতাম একটা জিনিস বুঝতাম আমি কি করছি। কারণ, জীবনে আমি তো আর কিছু করিনি। পড়ালেখাটাও ভালোভাবে শেষ করতে পারিনি খেলাধুলার জন্য। খেলটাকে পছন্দ করি, খেলাটাকে ভালোবাসি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমি কি খেলছি? আমি বাংলাদেশের জন্য খেলছি। এর বাইরে আর কোনো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আমি আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।’

অধিনায়ক মাশরাফির সবচেয়ে সফল সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এরপর নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে ২০১৫ সালে আবার জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পাই এবং পাঁচবছর ভালোভাবে সেটা করতে পেরেছি।’

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়