ঢাকা     বুধবার   ২৫ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৯ ||  ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

‘বাংলাদেশ তখনই ভালো করে যখন সবাই পারফর্ম করে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ১৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:৩৮, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
‘বাংলাদেশ তখনই ভালো করে যখন সবাই পারফর্ম করে’

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে যে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে মুমিনুলরা তাতে গর্ব গোটা বাংলাদেশের। তবে পরের টেস্টেই হতশ্রী পারফরম্যান্সে তারা বুঝিয়েছে, নিজেদের উন্নতির আরো অনেক জায়গা আছে। 

বিশেষ করে অধিনায়ক মুমিনুল হক সাফ বুঝেছেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সাময়িক অর্জন সম্ভব। যে অর্জন আনন্দ দেবে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী সাফল্যের জন্য দলগত পারফারম্যান্সই শেষ কথা। তার কথা, বাংলাদেশ তখনই ভালো করে যখন সবাই পারফর্ম করে।’ 

সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ হাসিমুখে দেশে ফিরেছে। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তার কথা শুনেছে রাইজিংবিডি।    

স্বস্তির সফর শেষে ফিরলেন। কেমন লাগছে?

মুমিনুল হক: ক্রিকেট খেলায় স্বস্তি বলতে কিছু নেই। কোনো সময় ভালো খেলবেন কোনো সময় খারাপ খেলবেন। কোনো সময় প্রক্রিয়া ঠিক থাকবে কোনো সময় থাকবে না। আমার কাছে মনে হয়, আলহামদুলিল্লাহ…ভালো যে আমরা একটা ম্যাচ জিতেছি। তবে শেষ ম্যাচে যেভাবে খেলেছি একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি খুব একটা খুশি না। আমাদের দ্বিতীয় টেস্টটা আরও ভালো খেলা উচিৎ ছিলো। 

প্রথম টেস্ট জয়ের রহস্য কী ছিল?

মুমিনুল হক: কোনো কারিশমা না, কোনো জাদুমন্ত্র ছিলো না। আমরা আমাদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা যে জায়গাটা উন্নতি করা দরকার সে জায়গাটা চেষ্টা করছি অনেকদিন ধরে আপনারা জানেন। দল হিসেবে ভালো খেলার। বাংলাদেশ দল তখনই ভালো করে যখন সবাই পারফর্ম করে। একজন দুইজন ভালো করলে বাংলাদেশ দল ভালো করেনা, বিশেষ করে টেস্টে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আমরা বলতে পারবো না। টেস্টে আমরা তখনই ভালো করি যখন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আমরা দল হিসেবে ভালো করি। 

এখন কি মনে হয় আমাদের দেশের মাটিতেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলা দরকার? 

মুমিনুল হক: এটা অবশ্যই দরকার। সেই সাথে আপনি শুধু উইকেট বা এসবের অজুহাত দিলে হবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পুরস্কার বিতরণীতেও বলেছিলাম আপনারা হয়তো দেখেছেন, বিদেশে খেলতে গেলে মাইন্ড সেট হলো গুরুত্বপূর্ণ। মাইন্ড সেট যদি এমন হয়…আমি নিউ জিল্যান্ডে যাবো এবং আল্লাহর উপর ছেড়ে দেবো, এভাবে হলে হবে না। ওখানে হয়তো আপনার শরীরী ভাষা আশাবাদী হতে হবে। দিন শেষে আপনার মাইন্ড সেট আপের উপরই নির্ভর করে বিদেশের মাটিতে আপনি কেমন খেলবেন। 

তরুণদের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনি নিশ্চয়ই আশাবাদী?

মুমিনুল হক: একটা টেস্ট ম্যাচ গিয়েছে, জুনিয়ররা সবাই পারফর্ম করেছে। একটা টেস্ট ম্যাচ দিয়ে সবকিছু বিচার করাটাও কঠিন। আমার কাছে মনে হয়, আপনি সবাই মিলে খেলেন অথবা যারা সিনিয়র তারাও খেলুক, আমরাও খেলি, যারা জুনিয়র তারাও খেলুক কিন্তু আপনি দিন শেষে দল হিসেবে খেলতে না পারলে ফল আনা কঠিন। 

এই সফরের সাফল্যকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন এবং শুরুতে কি এই ফলের প্রত্যাশা করেছিলেন?

মুমিনুল হক: আমার কাছে মনে হয় আপনারাও আশা করেননি। আমার দলের অনেকেই আশা করেনি, হয়তো আমি কিছুটা আশা করেছি। আপনারা সবাই, কেউই আশা করেনি আমরা নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচ জিতব। একটা টেস্ট ম্যাচ জিতেছি কিন্তু আমি এখন এর চেয়ে বেশি চিন্তিত পরবর্তী সিরিজগুলো নিয়ে। কারণ সামনের সিরিজগুলো ভালো ভালো দলের সাথে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ আছে। ঐ সিরিজগুলো আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। আমাদের হয়তো অনেক বেশি জায়গা আছে উন্নতির। একটা টেস্ট জিতলাম তা নিয়ে খুশি থাকলাম, অনেক উপরে উঠে গেলাম তা না। আমাদের পা মাটিতেই থাকবে। দিনে দিনে অনেক উন্নতি করতে হবে। 

ঢাকা/ইয়াসিন/এনএইচ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়