ঢাকা     বুধবার   ২৫ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৯ ||  ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

সালাউদ্দিন থাকতেও রোডসকে আনার কারণ তাহলে এই?

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১৭ জানুয়ারি ২০২২  
সালাউদ্দিন থাকতেও রোডসকে আনার কারণ তাহলে এই?

রীতিমত চমকই দিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএলের জন্য ইংল্যান্ড থেকে উড়িয়ে এনেছে বাংলাদেশের সাবেক কোচ স্টিভ রোডসকে। ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য রোডসকে ইংল্যান্ড থেকেই বিদায় দেয় বিসিবি। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি কেউ।

বিপিএলের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স রোডসকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কুমিল্লা দুইবারই শিরোপা জিতেছে স্থানীয় কোচ সালাউদ্দীনের অধীনে। তিনি থাকতেও কেন রোডসকে প্রয়োজন হলো কুমিল্লার?

এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনেই। এ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, নেতৃত্বের ঘাটতি, সিনিয়র ক্রিকেটার কেউ না থাকায় রোডসকে নিয়েছে কুমিল্লা এবং রোডস-সালাউদ্দিন একসাথে দলের জন্য কাজ করবেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা কোচ সালাউদ্দিন। বিপিএলে যে দুইবার তিনি শিরোপা জিতেছেন, একবার দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিপিএলের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আরেকবার অধিনায়ক ইমরুল থাকলেও পরিকল্পনা ও দল গোছানোর কাজে পুরোপুরি জড়িত ছিলেন তামিম ইকবাল।

এবার তাদের দলে সিনিয়র কেউ নেই। সরাসরি চুক্তিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় তারা। প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে শুরুতেই নেয় লিটনকে। তামিম, মাশরাফিকে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা এড়িয়ে যায়। এরপর ইমরুল কায়েসকে দলে ভেড়ায়। দলে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক থাকলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি অধিনায়ক ছিলেন না কখনোই।

সিনিয়র ক্রিকেটারের ঘাটতির কথা স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি সালাউদ্দিন। মিরপুরে তিনি বলেছেন, ‘সিনিয়র ক্রিকেটার থাকলে অনেক ভালো হয়। যোগাযোগ ভালো হয়, বিশেষ করে বিদেশিদের সাথে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও নানা টুর্নামেন্টের কারণে জানা শোনাটা ভালো হয়। যেহেতু এবার আমাদের দলে সিনিয়র কেউ নেই, তাই এটা নিয়ে আর চিন্তা করছি না। কমিউনিকেশন কীভাবে ভালো রাখা যায় এটা নিয়ে কাজ করছি। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো আমরা বিদেশিদের আগে নিয়ে আসতে পারিনি। একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ থেকে যায়। সিনিয়ররা থাকলে খুব তাড়াতাড়ি এই দূরত্ব কাটিয়ে উঠতে পারে। এই জায়গায় হয়তো আমাদের একটু ঘাটতি থাকতে পারে। চেষ্টা করবো কাটিয়ে ওঠার জন্য।’

সিনিয়র কেউ না থাকলেও বিদেশি সংগ্রহে পিছিয়ে নেই দলটি। ফাফ ডু প্লেসিস, মঈন আলী ও সুনীল নারিনকে নিয়েছে তারা। তাদের সঙ্গে ঠিকঠাক মতো যোগাযোগ, মাঠে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সেরা ফল পেতে রোডস-সালাউদ্দিন জুটিকে বেছে নিয়েছে কুমিল্লা। দুজনে একসাথে কাজ করতে গেলে স্বার্থের সংঘাত হবে না বলছেন সালাউদ্দিন। বরং রোডসের মতো অভিজ্ঞ একজনের মাধ্যমে উপকৃত হবে দল এমনটাই আশা ভিক্টোরিয়ান্স কোচের।

‘ভালো কিছু পেলে, দলের লাভ হলে তো খারাপ কিছু না। উনি অনেক অভিজ্ঞ, বাংলাদেশেরও প্রধান কোচ ছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম সফল কোচ। তার মাথা থেকে অনেক ভালো কিছু আসতে পারে। আমাকে হয়তো অনেক ভালো তথ্য দিবে, আমি হয়তো ভালো কিছু শিখতে পারবো। সে খুব বিনয়ী, ভালো মানুষ, এসেই ছেলেদের কাছে নিজের ভূমিকা পরিস্কার করেছে। ভালো ভালো কিছু পরামর্শ দিয়েছে, কীভাবে কী করতে হবে এসব নিয়ে। সে দলের পরামর্শক হিসেবে আছে।’

মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে কুমিল্লার অনুশীলন। স্থানীয় ক্রিকেটাররা কাল থেকেই যোগ দেবেন। তবে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা শুরু থেকে থাকবেন কিনা নিশ্চিত নন।

প্রতিযোগিতায় ভালো ফল পেতে স্থানীয় ক্রিকেটারদের দিকে তাকিয়ে সালাহউদ্দিন, ‘টুর্নামেন্ট তো অনেক লম্বা সময়ের। এখানে স্থানীয় ক্রিকেটাররাই বড় ভূমিকা পালন করবে। ৮ জনই দেশি। তারা পারফর্ম না করলে বিদেশিরা ম্যাচ জেতাতে পারবে না। যেহেতু স্থানীয়রা বেশি সুযোগ পাবে, তাদের পারফর্ম করা খুব বেশি জরুরি। বিদেশি খেলোয়াড়দের নেওয়াই হয়েছে তারা যেন পারফর্ম করে এজন্য। তবে স্থানীয়রা পারফর্ম না করলে দল ভুগবে।’

ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়