ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৬ ১৪২৯ ||  ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩

মুশফিকময় দিনে আনন্দের জোয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ১৮ মে ২০২২   আপডেট: ১৯:৫৫, ১৮ মে ২০২২
মুশফিকময় দিনে আনন্দের জোয়ার

শরীরের ওপর তাক করা আশিথা ফার্নান্দোর দুটি বাউন্সার। মুশফিকুর রহিম একটিতে কোনো শট অফার করলেন না। তবুও গ্লাভসে লেগে বল গেল ডিপ ফাইন লেগে। তাতে জমা হয় ২ রান। আরেকটিতে দেখেশুনে ফ্লিক করলেন। বল গড়িয়ে যায় সীমানার বাইরে।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদে দুটি শটে মুশফিক ছুঁয়ে ফেলেন দুই মাইলফলক। প্রথমটি সবচেয়ে বড়। ৬৮ রান তুলে ছোটখাটো মুশফিক প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে যান। এজন্য তার আজ ১৫ রান লাগত। ৫৩ রানে দিন শুরু করে সেই রান করতে ৪৮ বল খেলে ফেলেন তিনি।

আড়াই ঘণ্টা পর মুশফিক পেয়ে যান ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। ৯৭ রানে থেকে তার ব্যাটে আসা চারে ফুরায় ১৮ ইনিংসের অপেক্ষা। ৪৪৯ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৭০ বল খেলে দীর্ঘ অপেক্ষা দূর হয় তার। তার মন্থরতম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় কাঙ্খিত লিড।

সব মিলিয়ে মুশফিকময় দিনে আনন্দের জোয়ার বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার করা ৩৯৭ রানের জবাবে বাংলাদেশের রান ৪৬৫। ৬৮ রানের লিড পেয়ে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে শেষ বিকেলে ৩৯ রানে ২ উইকেট তুলেও নিয়েছেন মুমিনুল হকরা। ২৯ রানে এগিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষ করার আনন্দের সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে এখনও যে ফল পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়, তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।

আগের দিন মুশফিক ও লিটন যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করেন। লিটন খুব সাবলীল ব্যাটিং করলেও মুশফিক এগিয়েছেন ধীরস্থিরভাবে। তাতে তার ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। দিনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় মুশফিক পৌঁছে যান ব্যক্তিগত লক্ষ্যে। কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথম সেশন শেষ করে ৩৮৫ রানে।

তবে ৪০ মিনিটের বিরতির পর এসেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেন কনকাশন সাবে সুযোগ পাওয়া কাসুন রাজিথা। ৮৮ রানে থাকা লিটন অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দেন। পরের বলেই তামিমের উইকেট উপড়ে ফেলেন রাজিথা। বাঁহাতি ওপেনার এই ইনিংসে পায়ের ওপরের ভেতরে ঢোকানো বলে সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু দুর্বলতা এখনও রয়েছে গেছে বোঝা যাচ্ছে। রাজিথার ভেতরে ঢোকানো বল লাইন মিস করেই বোল্ড হন। ১৩৩ রানে তামিম রিটায়াট হার্ট হয়েছিলেন, ফিরে এসে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি।

দলের ভরসা সাকিব সাতে নেমে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ২৬ রানে ফেরেন সাজঘরে। এরপর মুশফিকের একার লড়াইয়ে লিড বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময়ে সেঞ্চুরিও তুলে নেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে খেলতে হয়েছে ২৭০ বল! ক্যারিয়ারে এটিই তার মন্থরতম সেঞ্চুরি। এর আগে ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেঞ্চুরি পেতে খেলেছিলেন ২৩৫ বল। মন্থরতম এই ইনিংসে বাউন্ডারি মারা যেন ভুলেই গিয়েছিলেন মুশফিক। সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে মাত্র চারটি ৪ হাঁকান। এর আগের সাত সেঞ্চুরির ইনিংসে এতটা কম বাউন্ডারি কখনও মারেননি। ক্যারিয়ার সেরা ২১৯ রান যেবার করেছিলেন সেবার সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে ৮ চার মেরেছিলেন।

পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়েছিল অতিথিদের। ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন ওশাদা ফার্নান্দো ও দিমুথ করুণারত্নে। তাদের জুটি ভাঙতে সাকিব, নাঈম, তাইজুলরা চেষ্টা চালালেও পারেননি। নাঈমের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে দিমুথ করুণারত্নে বেঁচে যান। অবশেষে তাইজুলের থ্রোতে ভাঙে তাদের উদ্বোধনী জুটি। দিনের শেষ ওভারে বাংলাদেশ পেয়ে যায় আরেকটি সাফল্য। তাইজুল প্রথম বলে ভয়ঙ্কর টার্নে বোল্ড করেন নাইটওয়াচম্যান এম্বুলদেনিয়াকে। এরপর দিনের খেলা থামিয়ে দেন আম্পায়াররা।

হাতে ৮ উইকেট রেখে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশকে কতটুকু জবাব দিতে পারে সেটাই দেখার। আশার বিষয় চট্টগ্রামের ২২ গজে বল ঘুরছে। সাকিব, তাইজুল, নাঈমরা অভাবনীয় কিছু করতে পারলে ম্যাচে নিজেদের পক্ষে ফল আসতে পারে। পারবে কি বাংলাদেশ?

চট্টগ্রাম/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়