ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

টেস্টে হারের সেঞ্চুরির ‘তেতো রেকর্ড’ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:০৮, ২৮ জুন ২০২২  
টেস্টে হারের সেঞ্চুরির ‘তেতো রেকর্ড’ বাংলাদেশের

আরেকটি টেস্ট হার। ২২ গজে সাদা পোশাকে ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি। ২০০০ সালে টেস্ট অভিষেকের থেকে এই ফরম্যাটে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল তা এখনও অব্যাহত। হারের ধরণগুলোও প্রায় একই রকম, হারার আগে হেরে যাওয়া! টেস্ট মানসিকতার কোনো পরিবর্তনও নেই।

মাঝেমধ্যে দৈবাৎ দুই-একটি জয় ছাড়া সাফল্য নেই বললেই চলে। ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে খেলেও পরিণতবোধ এখনো আসেনি। তাইতো এই ফরম্যাটে অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন সাকিব, তামিমরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে এবার ভালো কিছুর আশায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অ‌্যান্টিগা টেস্টের পর সেন্ট লুসিয়াতেও একই ফল। চতুর্থ দিনে বৃষ্টির কারণে মাত্র ৩৮ ওভার খেলা হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশের হারের জন্য এই সময়টুকুই যথেষ্ট! ২-০ ব‌্যবধানে সিরিজ হেরে বাংলাদেশ অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছে।

এই ম্যাচ হেরে টেস্ট ক্রিকেটে হারের সেঞ্চুরি করেছে বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে একশর বেশি ম্যাচ খেলা দলগুলো মধ্যে কেবল জিম্বাবুয়ে হারের সেঞ্চুরি পায়নি। বাংলাদেশ নবম দল হিসেবে হারের তিন অঙ্কে পৌঁছেছে। তবে একটি ‘তেতো’ রেকর্ডও হয়েছে। 

টেস্ট হারের সেঞ্চুরিতে দ্রুততম পৌঁছেছে (সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে) বাংলাদেশ। ১৩৪তম টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ শততম টেস্ট হারের দেখা পেয়েছে। এত কম সময় এবং এত কম ম্যাচ খেলে আর কোন দল এই দুঃস্বপ্নের রেকর্ডে পা রাখেনি। 

বাংলাদেশের আগে এই রেকর্ড ছিল নিউ জিল্যান্ডের। বাংলাদেশের চেয়ে ১০৭ ম্যাচ বেশি খেলে এমন রেকর্ড গড়েছিল কিউইরা। তাদের লেগেছিল ২৪১ ম্যাচ। সময় ৬৫ বছর। 

এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান। শ্রীলঙ্কা সর্বশেষ ২০১৭ সালে টেস্ট হারের সেঞ্চুরি করেছিল। এই রেকর্ডে নাম উঠাতে তারাও খেলেছিল ২৬৬ টেস্ট। সময় ৩৫ বছর। এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত পাকিস্তানের অবস্থানেও বিরাট পার্থক্য রয়েছে। ভারত ১০০ টেস্ট হেরেছিল ৩০৩ ম্যাচে। পাকিস্তানের লেগেছিল ৩৫৭ টেস্ট। ভারতের সময় লেগেছিল ৬৪ বছর, পাকিস্তানের ৫৯ বছর।

১৮৮৯ সালে টেস্ট অভিষেক দক্ষিণ আফ্রিকার। ১১৪ বছর পর ২০০৩ সালে শততম টেস্ট হারে। এজন্য তারা ম্যাচ খেলেছিল ২৭৯টি। 

টেস্ট ক্রিকেট শুরু হয়েছিল ১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দিয়ে৷ শততম টেস্ট হারের পরিসংখ্যানে দুই দলের পার্থক্য ২০ বছর। ম্যাচ অনুযায়ী ব্যবধান ২৭ টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার দরকার হয়েছিল ৩৭৪ টেস্ট৷ ইংল্যান্ডের ৩৪৭ টেস্ট। এছাড়া ১৯২৮ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেগেছিল ৩৬৮ ম্যাচ।

শুধু ম্যাচ সংখ্যা বিবেচনাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। জয়ের হিসেব ধরলে তো বাংলাদেশ কারো ধারে কাছেও নেই। ১৩৪ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১৬টি। ড্র ১৮টি। অথচ এশিয়ার তিন দেশ পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারত শততম টেস্ট হারের আগে জয় পায় যথাক্রমে ১০৭, ৮৪ ও ৫৭ টেস্ট।

সবচেয়ে কম নিউ জিল্যান্ডেরও জয় ছিল বাংলাদেশের দ্বিগুণের বেশি ৩৩টি। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ৯০, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৩৮, ইংল্যান্ডের ১৩৯ ও অস্ট্রেলিয়ার ১৭০ জয় ছিল। 

ক্রিকেটের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় টেস্ট ফরম্যাটকে। অথচ ২২ বছর টেস্ট খেলেও ক্রিকেটের এই আদি ফরম্যাট রপ্তই করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাইতো বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন উঠে, হয় তীব্র সমালোচনা। এবার আরো একবার চেনা প্রশ্ন উঠলো...‘টেস্ট কবে শিখবে বাংলাদেশ?’ 

ইয়াসিন/কেআই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়