ঢাকা     শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯ ||  ১৩ মহরম ১৪৪৪

জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিলো জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২২:০৯, ৫ আগস্ট ২০২২
জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিলো জিম্বাবুয়ে

হারারে থেকে ছবি পাঠিয়েছেন মিলটন আহমেদ।

৩০৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের শুরু হয়। অনেকেই যখন জিম্বাবুয়ের শেষ দেখে ফেলেছেন সেখান থেকে শুরু করেন কাইয়া-মাধেভেরে। ৫৬ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামলে দেন। মাধেভেরে আউট হলে এরপর জোড়া সেঞ্চুরিতে চিত্রনাট্য বদলে দেন কাইয়া-রাজা। দুজনে ১৯২ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে থামেন। ১১২ রানে কাইয়া আউট হলেও রাজা মাঠ ছাড়েন ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে। ১০ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয় পায় জিম্বাবুয়ে।  রাজা অপরাজিত ছিলেন ১৩৫ রান করে। ৮ চার ও ৬ ছক্কায় এ রান করেন রাজা। মাঝে জংওয়ে করেন ২৪ রান। মিলটন শুমবা অপরাজিত ছিলেন ১ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ, শরিফুল, মেহেদী ও মোসাদ্দেক। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো জিম্বাবুয়ে। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজও তারা জয় দিয়ে শুরু করেছিল। শেষপর্যন্ত তারাই সিরিজ জেতে। প্রায় ৯ বছর ও টানা ১৯ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হারলো বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ একাদশ: ৩০৩/২ (৫০ ওভার)  

জিম্বাবুয়ে: ৩০৭/৫ (৪৮.২ ওভার) 

এলোমেলো বাংলাদেশ 

কাইয়া-রাজার জোড়া সেঞ্চুরিতে জয়ের পথে জিম্বাবুয়ে। এলোমেলো বাংলাদেশের বোলিং। ৪ ওভারে জয়ের জন্য দলটির প্রয়োজন ছিল ২১ রান। কাইয়া ফিরলেও রাজা ব্যাটিং করছেন ১২৫ রানে। সঙ্গে জংওয়ে আছেন ১৭ রানে। জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের চাপে এলোমেলো দেখাচ্ছিলো বাংলাদেশের ফিল্ডারদের। ৪৭তম ওভারে জংওয়ের সহজ ক্যাচ ফেলেন তাসকিন। পরের বলেই আবার চার হাঁকান জংওয়ে। ২৪ রানে জংওয়ে যখন বাউন্ডারি লাইনে আফিফের হাতে ধরা পড়েন ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়েছে।  শুধু ক্যাচ নয় ছিল ফিল্ডিং মিসের মহড়া। 

এনামুলের স্ট্যাম্পিং মিসের পরের বলেই আউট কাইয়া

৪২তম ওভারের প্রথম বলে কাইয়ার কাছে মোসাদ্দেক হজম করেন বিশাল ছয়। চতুর্থ বলে আবার স্ট্রাইক পান কাইয়া। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন, কিন্তু এনামুল বল ধরতে পারেননি। পরের বলে স্লগ করতে গিয়ে ফাইনলেগে ধরা পড়েন শরিফুলের হাতে। এর আগে শরিফুলের ১ ওভারেই দুই জীবন পেয়েছিলেন। ১২২ বলে ১১ চার ২ ছয়ে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন কাইয়া। কাইয়া আউট হলেও এখনো মাঠে আছেন বিধ্বংসী রাজা। তার সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান জংওয়ে।

কাইয়ার পর ৮১ বলে রাজার সেঞ্চুরি

কাইয়ার সেঞ্চুরির পরে নিজের চতুর্থ শতক তুলে নেন রাজা। তাও মাত্র ৮১ বলে। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন রাজা। কাইয়ার সঙ্গে জুটি গড়ে ইতিমধ্যে রেকর্ডও গড়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে এখন সর্বোচ্চ জুটি তাদের। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ১৪৮। দুজনের জুটিতে ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছে জিম্বাবুয়ে। অথচ তারা যখন শুরু করছিলেন দল ছিল বিপদে। এক প্রান্তে কাইয়া খেলেছেন আগলে অন্যপ্রান্তে রাজা ছিলেন বিধ্বংসী। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভুগিয়েছিলেন রাজা।

চতুর্থ ওয়ানডেতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে কাইয়ার প্রথম সেঞ্চুরি

প্রথম ওভারে উইকেট হারানোর পর ইনোসেন্ট কাইয়া ক্রিজে আসেন। দলের বিপর্যয় সামলে উলটো ছড়ি ঘোরান বাংলাদেশের বোলারদের উপর। দলকে দেখাচ্ছেন জয়ের স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচেই পেয়ে গেলেন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। ১১৫ বলে শতকের দেখা পান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার সেঞ্চুরির ইনিংস সাজানো ছিল ১১ চার ও ১ ছয়ে।  আগের তিন ম্যাচে কাইয়ার সর্বোচ্চ ছিল ৬৩। আজ ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেই। 

এক ওভারে কাইয়ার দুই জীবন, ফিরলেন শরিফুল

শরিফুলের করা ৩৩তম ওভারে দুবার জীবন পেয়েছেন কাইয়া। প্রথম বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে তাসকিনের হাতে। যদিও কিছুটা কঠিন ছিল। আর দ্বিতীয়টি শেষ বলে শরিফুলের হাতেই। যদিও চেষ্টা করে হাত বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। এরপর শরিফুল মাঠ ছেড়ে চলে যান স্ট্রেচারে করে। এর আগে লিটন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ৮১ রানে। শরিফুল ১ উইকেটে ৭ ওভারে ৩৯ রান দেন। শরিফুল আবার মাঠে ফেরেন দ্রুত।  জীবন পাওয়া কাইয়া যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছেন, সেঞ্চুরি থেকে ১২ রান দূরে আছেন। 

ছক্কা মেরে রাজার ফিফটি, জুটির সেঞ্চুরি 

মিড অফে দারুণ ছয়ে রাজা ৪৭ থেকে এক লাফে ৫৩ রানে চলে যান। ৫৭ বলে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি। তার ফিফটির ইনিংস সাজানো ছিল ১ চার ও ৩ ছয়ে। ফিফটির পরের বলেই আবার মোস্তাফিজেকে চার হাঁকান রাজা। পরের ওভারেই মেহেদি মিরাজকে চার মেরে কাইয়ার সঙ্গে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন। ১১২ বলে চতুর্থ উইকেটে দুজন ১০০ রান যোগ করেন। 

কাইয়ার ফিফটি, আগ্রাসী রাজা 

৬৬ বলে ৭ চারে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান ইনোসেন্ট কাইয়া। তার জুটির পরেই রাজার সঙ্গে জুটির ফিফটি পূর্ণ হয়। দুজনে খেলছেন দারুণ। একপ্রান্ত আগলে রেখে কাইয়া দারুণভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন, অন্যপ্রান্তে রাজা সুযোগ পেলেই হাঁকাচ্ছেন বাউন্ডারি কিংবা ওভার বাউন্ডারি। ফিফটি থেকে রাজা আছেন ৭ রান দূরে। 

কাইয়া-রাজার প্রতিরোধে জিম্বাবুয়ের ১০০

৫২ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন কাইয়া-রাজা। দুজনে এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। সেট হয়ে চেষ্টা করছেন চওড়া হওয়ার। ২০.২ ওভারে তারা দলীয় শতরান পূর্ণ করেন। শতরানের পরেই শরিফুলকে ছয় হাঁকান রাজা। দুজনের জুটি থেকে ইতিমধ্যে ৪৭ বলে ৪৬ রান আসে। 

অবশেষে রানআউটে ভাঙল জিম্বাবুয়ের ফিফটির জুটি 

দারুণ খেলছিলেন কাইয়া-মাধেভেরে, কিন্তু ১৪তম ওভারের প্রথম বলে গড়বড় হয়ে যায়। কাইয়া অন সাইডে ফ্লিক করে সাবলীলভাবেই ১ রান নেন। কিন্তু বল এক সুযোগে ফিল্ডার ধরতে না পারায় দ্বিতীয় রান নিতে যান কাইয়া। তাতেই কাটা পড়েন মাধেভেরে। ২ চারে ২৭ বলে ১৯ রান করেন মাধেভেরে। তার আউটে ভাঙে ৫৫ রানের জুটি। ক্রিজের কাইয়ার সঙ্গী রাজা। 

শুরুর ধাক্কা সামলে ফিফটির জুটিতে জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ 

মোস্তাফিজ-শরিফুলের প্রথম ২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ইনিংস শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছেন কাইয়া-মাধেভেরে। দুজনে ফিফটির জুটি  জুটি গড়ে এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে। ৬৪ বলে তৃতীয় উইকেটের জুটিতে তারা জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করে। কাইয়া ৩০ মাধেভেরে ১৯ রানে ব্যাট করছেন প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে দলীয় স্কোর ৪৮। 

মোস্তাফিজ-শরিফুলের তোপে শুরুতেই ২ উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে 

প্রথম ২ ওভারে ২ উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারের শেষ বলে চাকাভাকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। ব্যাক অফ লেন্থের বল কাভারে খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল ব্যাটের নিচে লেগে ভেঙে দেয় উইকেট। ৬ বলে ২ রান করেন চাকাভা। পরের ওভারে এসেই প্রথম বলে চার হজম করেন শরিফুল। পরের তিন বল ডট দিয়ে পঞ্চম বলে তারিসাই মুসাকান্দাকে সাজঘরে ফেরান এই পেসার। মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মোসাদ্দকের হাতে। ৫ বলে ৪ রান করেন মুসাকান্দা। 

চার ফিফটিতে জিম্বাবুয়েকে ৩০৪ রানের চ্যালেঞ্জ

চার ফিফটিতে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৩০৩ রান করে।  টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকে বাংলাদেশ দারুণ খেলে। তামিম-লিটনের ওপেনিং জুটি থেকে আসে ১১৯ রান। ৬২ রান করেন তামিম। নাম লেখা ৮ হাজারি ক্লাবে।

তামিম আউটের পর এনামুলকে নিয়ে খেলতে থাকেন লিটন। দুজনে ফিফটির জুটিতে ছুটছিলেন বড় রানের দিকে। ফিফটির পর আগ্রাসী হন লিটন। কিন্তু ৮১ রানে মাঠ ছাড়েন স্ট্রেচারে করে।

এবার এনামুলের সঙ্গী হন মুশফিক। দুজনেও ফিফটির জুটি করে এগোতে থাকেন। ৭ বছর ৮ মাস পর ফিফটির দেখা পান এনামুল। জীবন পেয়ে থামেন ৭২ রানে। এবার শেষ করে আসেন মুশফিক-মাহমুদউলাহ। দুজনে ২৫ বলে ৩৬ রান যোগ করেন। ইনিংস শেষের ১ বল আগে ফিফটি করেন মুশফিক। শেষ অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৫২ রানে। মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে ২০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। মাহমুদউল্লাহ বাদে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই ফিফটি করেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন নাইউচি-রাজা। 

জীবন পেয়ে ২ রান পরেই আউট এনামুল

৭১ রানে জীবন পেয়েছিলেন এনামুল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। আউট হলেন ২ রান পরেই, ৭৩ রান করে। উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে ধরা পড়েন মুসাকান্দার হাতে। ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৬২ বলে ৭২ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন ৪৭ বলে। ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ। 

৭১ রানে জীবন পেলেন এনামুল 

এনগ্রাভার অফের বলে ডিপ কাভারে খেলেছিলেন এনামুল, কিন্তু সেখানে দাঁড়ানো মাধেভেরে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি। ৭১ রানে জীবন পেলেন তিন বছর পর দলে ফেরা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এর আগে ফিফটি করেন ৪৭ বলে। 

ছক্কা মেরে ৯২ মাস পর এনামুলের ফিফটি

ফর্মহীনতায় ভুগে দল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন এনামুল। ঘরোয়াতে দারুণ পারফরম্যান্স করে আবার জায়গা পেয়েছেন। সুযোগ পেয়ে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ৭ ম্যাচে রানের দেখা পাননি। ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়েই হাঁকান ফিফটি। ছক্কা মেরে ৪৭ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দেখা পান এনামুল। ওয়ানডেতেতে এই ফিফটি ৭ বছর ৮ মাস পর। সবশেষ ফিফটি করেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই, নভেম্বরের ২০১৪ সালে। এবারও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পেলেন ফিফটির দেখা। 

এনামুল-মুশফিকে ৩৮ ওভারে বাংলাদেশের ২০০

দুর্দান্ত খেলতে থাকা লিটন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেও বাংলাদেশের রানের চাকা থেমে থাকেনি। এনামুল-মুশফিকের ব্যাটে ৩৮ ওভারে দলীয় স্কোর ২০০ পূর্ণ করে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এনামুল ৪২ ও মুশফিক ১৩ রানে ক্রিজে আছেন। 

৮১ রানে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন লিটন 

৩৪তম ওভারের প্রথম বলে দ্রুত সিঙ্গেল নিতে গিয়ে পেশিতে টান পড়ে লিটনের। এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। স্ট্রেচারে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ড্রেসিংরুমে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা লিটন ৮৯ বলে ৮১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৯টি আর ছয়ের মার ১টি। ৭৫ বলে ফিফটির পর লিটন খেলতে থাকেন দারুণ। মাত্র ১৪ বলে ৩১ রান করেন। কিন্তু চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হলো সেঞ্চুরি থেকে ১৯ রান দূরে থেকে। ক্রিজে এনামুলের সঙ্গী হলেন মুশফিক। 

৪৩ বলে লিটন-এনামুলের ফিফটির জুটি

নাইউচিকে পরপর ছয় হাঁকিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে এনামুলের সঙ্গে ফিফটির জুটি পূর্ণ করেন লিটন। মাত্র ৪৩ বলে এই জুটি ফিফটি পূর্ণ করে। যাতে লিটনের অবদান ৩৩ আর এনামুলের ১৭। ফিফটির পর মাত্র ১৩ বলে লিটন ৩০ রান করেন। এর আগে প্রথম উইকেটে বাংলাদেশ ১১৯ রান করে।

৭৫ বলে লিটনের ১৫তম হাফ সেঞ্চুরি

মাসাকাদজাকে অন সাইডে খেলে ৭৫ বলে ফিফটির দেখা পান লিটন। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৫তম ফিফটি। চারের মার ছিল ৪টি। ফিফটির পর মাসাকদজাকে আরও দুটি বাউন্ডারি হাঁকান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ে সফরে দারুণ ফর্মে আছেন লিটন। টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই হাফ সেঞ্চুরির পর প্রথম ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরি করে ক্রিজে আছেন।

৮ হাজারি ক্লাবে নাম লিখিয়ে আউট তামিম

৫৭ রান করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৮ হাজারি ক্লাবে নাম লেখান তামিম। তারপর আর ৫ রান যোগ করতেই রাজার শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ব্যাকফুটে গিয়ে উড়িয়ে মারতে হিয়ে ধরা পড়েন শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে। ৮৮ বলে ৯ চারে ৬২ রান করেন তামিম। ক্রিজে লিটনের সঙ্গী এনামুল। ১১৯ রানে প্রথম উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ভেঙে যায় শতরানের জুটি। 

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে তামিমের ৮ হাজার

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে তামিম ৮ হাজারি ক্লাবে নাম লেখালেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নামার আগে তিনি ৫৭ রান দূরে ছিলেন। ফিফটির পর এই রান পেতে দেরি হয়নি দেশসেরা ওপেনারের। ২২৯ ম্যাচে এই রান করেন তামিম। সেঞ্চুরি ১৪টি ও হাফ সেঞ্চুরি ৫৪টি। গড় ৩৭.১৬। তার পরে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাকিব আল হাসানের রান এখনো ৭ হাজার (৬৭৫৫) পূর্ণ হয়নি। আর ৬৬৯৭ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন মুশফিকুর রহিম।  

তামিম-লিটনের শতরানের জুটি 

শুরু থেকে সাবলীল খেলতে থাকেন তামিম-লিটন। তারই ধারাবাহিকতায় ওপেনিংয়ে শতরানের জুটির দেখা পান দুজনে। ১৩৯ বলে ১০০ পূর্ণ করেন দুজনে। এর আগে ফিফটি হয় ৫৮ বলে। 

৭৯ বলে তামিমের ৫৪তম হাফ সেঞ্চুরি 

ওপেনিংয়ে নেমে ক্যারিয়ারের ৫৪তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলে অধিনায়ক তামিম। শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মারার বল পেলেই জবাব দিচ্ছেন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। ৬৪ বলে ৪৮ রান হলেও ফিফটির দেখা পেতে তামিম খেলেন আরও ১৫ বল। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৭টি। 

তামিম-লিটনের ফিফটির জুটিতে বাংলাদেশের দারুণ শুরু

দশম ওভারে ভিক্টর নাইউচিকে দুই চার মেরে দলীয় স্কোর ফিফটি পার করেন তামিম। ৯.৪ ওভারে এই রান হয়। একই সঙ্গে তামিম-লিটন জুটির ফিফটিও হয়ে যায়। দুজনে শুরু থেকে খেলছেন দেখেশুনে। পাওয়ার প্লেতে ১০ ওভারে বাংলাদেশ ৫১ রান তুলে। এতে চারের মার ছিল ৬টি। 

তামিম-লিটনে বাংলাদেশের সতর্ক শুরু

তামিম-লিটনে সাবধানী শুরু করেছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারই খেলছেন দেখেশুনে। সুযোগ পেলেই মারছেন বাউন্ডারি। প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রথম বাউন্ডারি আসে তামিমের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় ওভার বাংলাদেশ মেডেন দেয় নাইউচিকে। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে নাইউচিকে দৃষ্টিনন্দন পুল করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন লিটন। এভাবেই দেখেশুনে ইনিংস গড়ায় মনোযোগ দুই ওপেনারের। 

শান্তর পরিবর্তে এনামুল, ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শুক্রবার (৫ আগস্ট) তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করছে তামিম ইকবালের দল। খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। দেখা যাচ্ছে সরাসরি টি-স্পোর্টসে। 

বাংলাদেশ একাদশ

বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে। একাদশে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি উইন্ডিজ সফরে ছুটিতে ছিলেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়। 

একাদশে যারা তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, এনামুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম , মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন।

তিন বছর পর ওয়ানডেতে বিজয় 

২০১৯ সালের ৩১ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডেতে খেলেছিলেন এনামুল হক বিজয়। ঢাকা লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুযোগ পেলেও ওয়ানডেতে একাদশে জায়গা হয়নি। এবার জিম্বাবুয়েতে মিলল সেই সুযোগ। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১ টেস্ট ও ৬ টি-টোয়েন্টিতে তার ব্য্যাট থেকে আসে ১১২ রান। সর্বোচ্চ ২৬ রান। এবার ওয়ানডেতে পাওয়া সুযোগ বিজয় কি কাজে লাগাতে পারবেন? 

টানা কুড়ি জয়ের হাতছানি  

জিম্বাবুয়ের তুলোনায় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয় শুধু, দক্ষিণ আফ্রিকান অঞ্চলের এই দেশটির বিপক্ষে ২০১৩ সাল থেকে কখনো হারের স্বাদ পেতে হয়নি। নিজেদের মাঠ কিংবা তাদের মাঠ, সবশেষ ১৯টি ম্যাচে জয়ী দলের নাম একটাই; বাংলাদেশ। ৬৫ বারের দেখায় বাংলাদেশ জয়ের হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছে ইতিমধ্যে, তবুও কাগজে কলমের হিসেব আর মাঠে ক্রিকেট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশকে সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে।

তামিমের ইচ্ছে সেরাটা দেওয়া 

তামিম মনে করেন ভালো দল বলে কিছু নেই। মাঠের খেলাই প্রমাণ করবে সবকিছু। গতকাল সাংবাদিকদের বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘যদি দুটি দলের হিসাব করেন তাহলে আমরা ভালো দল। কিন্তু ক্রিকেট খেলা আসলে ভালো দল দিয়ে হয় না। নির্দিষ্ট দিনে কে ভালো বা খারাপ খেলছে, হারজিত সেটা দিয়েই নিশ্চিত হয়। আপনি টি–টোয়েন্টি সিরিজে দেখেছেন, তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং এ কারণেই সিরিজ জিতেছে। তাই তাদের হারাতে হলে আমাদের নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’

‘এটা মানতে হবে ওরা টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করেছে। আগামীকাল দুই দলের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি জানি জিম্বাবুয়ে জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে’-আরও যোগ করেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম। 

জিম্বাবুয়ে পাচ্ছে না আরভিন-উইলিয়ামসকে 

বাংলাদেশ এক সাকিব আল হাসান ছাড়া শক্তিশালী দল নিয়ে নামলেও জিম্বাবুয়ে পাচ্ছে না তাদের নিয়মিত অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকেই। সঙ্গে নেই শেন উইলিয়ামসও। নেতৃত্ব দেবেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভা। ওয়ানডেতেও তাদের তুরুপের তাস হতে পারেন সিকান্দার রাজা। এ ছাড়া শেষ ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং করা রায়ান বার্লতো আছেনই!  

ঢাকা/রিয়াদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়