ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ক্রিকেটের বাইরে সাকিব ইস্যুতে বিসিবির ‘ছাড়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  
ক্রিকেটের বাইরে সাকিব ইস্যুতে বিসিবির ‘ছাড়’

সংবাদমাধ্যম হতে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় সবসময় জায়গা করে নেন সাকিব আল হাসান। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তিনি, এখন টেস্টে ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বও তার কাঁধে। স্বাভাবিক হিসাব করলে আলোচনায় তারই থাকার কথা। কিন্তু বিষয়টা যখন ক্রিকেটের বাইরের ইস্যু, তখন ভাবতে হয় আলাদা করেই। 

কিন্তু যাদের ভাবার কথা, পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, যাদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত, সেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বারবার এ ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে। দেখেও না দেখার ভান! মুখে তালা! অথচ তাদেরই বেতনভুক্ত ক্রিকেটার সাকিব।  

যে কোনও টুর্নামেন্ট হোক, সিরিজ হোক দেশের ক্রিকেটে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ান সাকিব। তবে তা বেশিরভাগই ক্রিকেটের বাইরে। চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হলেও তিনি খেলবেন কি খেলবেন না, বোর্ডকে না জানিয়ে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিসহ নানা বিষয় থাকে। আর এতে নতুন সংযোজন শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে তার নাম থাকা।

সম্প্রতি ইংরেজি গণমাধ্যম ডেইলি সান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্যবসায়িক কাজে সাকিব তার বাবার নাম পরিবর্তন করেছেন। বাঁহাতি অলরাউন্ডার সেটি স্বীকারও করেননি অবশ্য, ‘যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে ঠিক করা হবে দ্রুত।’ কিন্তু বিসিবি এই বিষয়েও চুপ বরাবরের মতো। 

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের কাছে শেয়ার বাজার বিতর্ক, বাবার নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব না। 

বিসিবি প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য, ‘সম্পূর্ণ বাইরের একটা ব্যাপার। যাকে নিয়ে আপনারা কথা বলছেন, আমি যতটুকু জানি, তিনি নিজেও এখন দেশের বাইরে আছেন। এ বিষয়গুলো তো আমাদের কাছে সেভাবে আসে না।  আপনারা যেভাবে শুনেছেন আমরাও সেভাবে শুনেছি। এই বিষয় নিয়ে তাই এই মুহূর্তে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।’

এর আগে গত সপ্তাহে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে সাকিবের শেয়ার বাজার বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আকাশ থেকে পড়েন তিনি, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এটা আমাদের ক্রিকেটের বাইরের ইস্যু।’  

সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপের আগে সাকিব আলোচনায় ছিলেন বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। বিসিবির যে কোনও চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে গেলে বোর্ডকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। সাকিব বরাবরের মতো এখানেও থোড়াই কেয়ার। দেখিয়েছেন বুড়ো আঙুল। না জানিয়ে করেছেন চুক্তি। বিসিবির হাঁকডাকে সাকিব চুক্তি বাতিল করেছেন, তবে না জানিয়ে চুক্তি করার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

অথচ বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, ‘এটা তো শুধু ক্রিকেট বোর্ড নয়, বাংলাদেশের আইনেও অনুমতি নেই। আমাদের দেশের আইন এটা পারমিট করে না। এটা তো অবশ্যই মারাত্মক ইস্যু। এ জন্যই একেবারে একটা ফেসবুক বা পোস্টিংয়ের ওপর নির্ভর না করে আমাদের তদন্ত করতে হবে। খুঁজে দেখতে হবে আসলে কী হয়েছে। এটা সত্যি হয়ে থাকলে বোর্ডের যা যা করার, অবশ্যই বোর্ড করবে।’

কিন্তু বোর্ড আসলে কিছুই করেনি। উল্টো বিসিবি সভাপতির বাসায় মিটিংয়ের পর তাকে দেওয়া হয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নেতৃত্ব। যেন পুরস্কার পেলেন অবাধ্য হয়ে। আর চলমান শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি ইস্যুতেও বোর্ড বরাবারের মতো নিশ্চুপ। সাকিবের কারণে দেশের ক্রিকেটের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে, বিসিবির ইমেজ যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ে ভাবছেনই না নীতিনির্ধারকরা।  

সামনেই আছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। হঠাৎ সিদ্ধান্তে আরব আমিরাতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। সাকিব ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে আরব আমিরাতে খেলার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। সে ব্যাপারে বিসিবিও পরিষ্কার জানে না। অথচ বিশ্বকাপের আগে দলপতি সাকিব থাকলে কৌশলগত দিক থেকে দেশেরই লাভ।  

বিসিবি প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘না কোনো আপডেট (আরব আমিরাতে সাকিবের খেলা নিয়ে) নেই। আগেও বলেছি তাকে আমরা এনওসি দিয়েছি অনেক আগেই, বাইরের একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার জন্য। যেহেতু এটা আমাদের হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত যে একটা ট্যুর করবো সে ক্ষেত্রে তাকে সিরিজে রাখা হবে কি না সেটা টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে।’

আসলে টিম ম্যানেজমেন্ট কি সিদ্ধান্ত নেবেন, নাকি সাকিবই দেবেন- এটাও কিন্তু পরিষ্কার, বিসিবি তো সাকিবের হাতের পুতুল!

ঢাকা/রিয়াদ/ইয়াসিন/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়