ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৯ ||  ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেই ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যা দিলেন সানজিদা

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২  
সেই ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যা দিলেন সানজিদা

২০১৬ সালের পর প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ওঠে বাংলাদেশ। মেয়েদের টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে তারা। ভুটানকে ৮-০ গোলে সেমিফাইনালে উড়িয়ে দেওয়ার পর গোটা দলকে উজ্জীবিত করতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সানজিদা আখতার, যেটি দেশবাসীর আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছিল। ওই পোস্ট অবশ্য তাকে জনপ্রিয়ও করে তোলে। কয়েক দিনের ব্যবধানে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটিতে ফলোয়ার আড়াই লাখ থেকে বেড়ে চার লাখ ছাড়ায়।

ওই পোস্টে নিজেদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন সানজিদা। ট্রফিটা জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন তিনি, ‘আমাদের দলের প্রতিটি সদস্য এটি জিততে মুখিয়ে আছে। যারা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই সকল স্বপ্নসারথীদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরও নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই। পাহাড়ের কাছাকাছি স্থানে বাড়ি আমার। পাহাড়ি ভাইবোনদের লড়াকু মানসিকতা, গ্রাম বাংলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের হার না মানা জীবনের প্রতি পরত খুব কাছাকাছি থেকে দেখা আমার। ফাইনালে আমরা একজন ফুটবলারের চরিত্রে মাঠে লড়বো এমন নয়, এগারোজনের যোদ্ধাদল মাঠে থাকবে, যে দলের অনেকে এই পর্যন্ত এসেছে বাবাকে হারিয়ে, মায়ের শেষ সম্বল নিয়ে, বোনের অলংকার বিক্রি করে, অনেকে পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন হয়ে।’

সানজিদার পোস্টটি অনেকেই তাদের প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন। তাদের উজ্জীবিত করেছেন নিজেদের মতো করে। সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে বাংলাদেশ, আনন্দের জোয়ারে ভেসেছে গোটা দেশ। দেশে ফেরার পর অভাবনীয় গণসংবর্ধনা পেয়েছেন সাবিনা-সানজিদারা। আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন দেশবাসীর সঙ্গে। 

ওই পোস্টে যে এত সাড়া পাবেন কল্পনা করেননি সানজিদা। দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রোগ্রামে তিনি বলেন, ‘আমি এত কিছু চিন্তা করে দেইনি। আমাদের ফাইনালের লক্ষ্য ছিল, সেটা করতে পেরেছি। তারপর আমরা চ্যাম্পিয়ন না হলেও আক্ষেপ নেই, দেশের মানুষেরও ওইরকম কিছু ছিল না। আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করেছি (ফাইনালে উঠে)। যেহেতু ফাইনালে গেছি,সেহেতু দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। তারপর আমি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম, সেখানে আমরা  আমাদের যে বাস্তবতা ছিল সেটাই ফুটিয়ে তুলেছি। আমাদের পরিবারের  অবস্থা, মাঠে যেভাবে ১১ জন নামি। খোলা ছাদের কথা, ইউরোপিয়ান লিগগুলোতে দেখেছি ওভাবে উদযাপন করে। তাই আমার মনে হয়েছে, আমরাও যদি এভাবে উদযাপন করি আর দেশের মানুষ আমাদের বরণ করে নিবে, সেজন্যই এটা দেওয়া।’

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু পেয়েছেন ভক্ত-সমর্থকদের কাছ থেকে, ‘আসলে চাওয়া এতটা ছিল না, চাওয়ার থেকে অনেক বেশি কিছু পেয়েছি। এত দর্শক বরণ করেছে, সেটা আসলেই অন্যরকম। আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। চাওয়ার চেয়ে বেশি পেয়েছি।’ সোশ্যাল মিডিয়াতেও দারুণ সাড়া পেয়েছেন সানজিদা, ‘(পেজে) ফলোয়ার ছিল আগেই, আড়াই লাখ আগে ছিল, এখন চার লাখ হয়ে গেছে।’

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়