ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

এমবাপ্পের জোড়া গোলে নক আউট পর্বে ফ্রান্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৩, ২৬ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ০০:১২, ২৭ নভেম্বর ২০২২
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নক আউট পর্বে ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ফ্রান্সের দারুণ  জয়। এই জয়ে কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো ফরাসিরা। প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ৬১ মিনিটে ড্যানিশ দুর্গ ভেঙে প্রথমবার জালে জড়ান। বেশিক্ষণ উল্লাস করতে পারেনি ফরাসিরা। ৭ মিনিট না যেতেই ক্রিসটেনসেনের গোলে সমতা আনে ডেনমার্ক। এরপর ফ্রান্সদের ত্রাতা হয়ে আবার আসেন এমবাপ্পে। মাত্র ২ গজ দূর থেকে থাইয়ের মাধ্যমে গোল করে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। এই গোলের আর সমতা আনতে পারেনি ডেনমার্ক। ২ ম্যাচে ফ্রান্সের ২টিতেই জয়। অন্যদিকে ড্যানিশদের সমান ১টি করে ড্র ও হার। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে পারেলি ফ্রান্সের পর শেষ ষোলোতে যেতে পারবে তারা। 

আবার এমবাপ্পের গোল, এগিয়ে ফ্রান্স

এমবাপ্পের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ফ্রান্স। ৮৬ মিনিটে ডান দিকে একটি দারুণ ক্রস করেন গ্রিজম্যান। গোলের দুই গজ দূরে থাকা এমবাপ্পে লাফিয়ে উঠে থাইয়ের টোকায় বল পাঠিয়ে দেন জালে। ড্যানিশ গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না বাঁচানোর। ফ্রান্সের হয়ে শেষ ১২ ম্যাচে তিনি ১৪ গোল করেন। 

এমবাপ্পের গোলের ৭ মিনিট পরেই ডেনমার্কের সমতা

এমবাপ্পের গোলের ৭ মিনিট পরেই ডেনমার্কের গোল। এরিকসেন একটি দারুণ কর্নার কিক নেন। ডান দিকে বল এলে সেখানে থাকা অ্যান্ডারসেন গোলমুখে পাঠান ক্রিসটেনসেনের কাছে। ক্রিসটেনসেন লরিসকে ফাঁকি দিয়ে জড়ান ফরাসিদের জালে। ১-১ গোলে সমতা। 

এমবাপ্পের গোল

অবশেষে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে ফ্রান্স। ৬১ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার। ডি বক্সের বাঁ পাশ দিয়ে হার্নান্দেজ ঢুকেন বল নিয়ে। ওয়ান টু ওয়ান পাসে আবার যায় এমবাপ্পের কাছে। নিখুঁত শটে ড্যানিশদের জালে বল পাঠিয়ে দেন এমবাপ্পে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও রুখতে পারেননি ড্যানিশ গোলরক্ষক। 

ফ্রান্সের একাধিক সুযোগ মিসে গোলশূন্যভাবে শেষ প্রথমার্ধ

ফ্রান্স ও ডেনমার্কের মধ্যকার ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছে। অবশ্য ফ্রান্স বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। তারা ১৩টি শট নিয়েছিল। তার মধ্যে তিনটি ছিল অন টার্গেটে। অন্যদিকে ডেনমার্ক অন টার্গেটে একটিও শট নিতে পারেনি।

এই অর্ধে ফ্রান্স একটি কর্নার পায়। ডেনমার্ক পায়নি। বলের দখল ডেনমার্কের কাছে ছিল ৫১ শতাংশ। ফ্রান্সের ৪৯ শতাংশ।

ডেনমার্কের সুযোগ মিস:

৪৫ মিনিটের মাথায় ডেনমার্কের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন একটি সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। কিন্তু ৩৫ গজ দূর থেকে তার নেওয়া শটটি অল্পের জন্য বামপাশ দিয়ে চলে যায়।

ফ্রান্সের আরও একটি সুযোগ মিস:

৪০ মিনিটে ফ্রান্স আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কালিয়ান এমবাপে বক্সের বল পেয়েছিলেন। ঠিকমতো শট নিতে পারলেই গোল হতো। কিন্তু তিনি উড়িয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।

সুযোগ মিস:

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ডেনমার্কের আন্দ্রেয়াস কর্নেলিয়াস ও ৩৭ মিনিটে ফ্রান্সের অলিভার জিরোড সুযোগ মিস করেন।

সুযোগ মিস:

ম্যাচের ১৩ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। এ সময় আঁতোয়ান গ্রিজমান  ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন। সেটাতে হেড নেন রাফায়েল ভারানে। কিন্তু অল্পের জন্য সেটি মিস হয়। ১৫ মিনিটের মাথায় অলিভার জিরোড একটি সুযোগ পান এবং সেটিও মিস হয়।

প্রথম কর্নার পেল ফ্রান্স:

ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় ফ্রান্স।

ফ্রান্সের একাদশ:
হুগো লরিস, ডেওট উপমেকানো, রাফায়েল ভারানে, থিও হার্নান্দেজ, জুলস কাউন্ডে, আঁতোয়ান গ্রিজম্যান, অ্যাড্রিয়েন রাবিওট, অরেলিয়ান চৌমেনি, অলিভিয়ার জিরোড, কালিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলে।

ডেনমার্কের একাদশ: 
ক্যাসপার স্মিচেল, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, ভিক্টর নেলসন, জোয়াকিম অ্যান্ডারসেন, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন, পিয়েরে-এমিল হোজবজের্গ, জোয়াকিম মাহেলে, রাসমাস ক্রিস্টেনসেন, আন্দ্রেয়াস কর্নেলিয়াস, মিকেল ড্যামসগার্ড ও জেসপার লিন্ডস্ট্রম।

বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছে ফ্রান্স। স্টেডিয়াম ৯৭৪ এ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি। যা সরাসরি দেখা যাচ্ছে বিটিভি, গাজী টিভি ও টি স্পোর্টসে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। আজ ডেনমার্কের বিপক্ষে জয় পেলে শেষ ষোলো তথা নকআউট পর্ব নিশ্চিত হবে তাদের। ডেনমার্ক অবশ্য তাদের প্রথম ম্যাচে ড্র করেছে তিউনিসিয়ার সঙ্গে। আজ হেরে গেলে তাদের বিদায় এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যাবে। তাইতো তারা বেশ সতর্ক হয়ে খেলবে।

অবশ্য ফ্রান্সের বিপক্ষে তাদের জয়ের রেকর্ড রয়েছে। উয়েফা নেশন্স লিগে দুইবারের দেখায় দুইবারই জিতেছিল ড্যানিশরা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো তারা ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় পায়নি। চারবারের দেখায় সববারই হয়েছে ড্র।

ঢাকা/আমিনুল/রিয়াদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়