ঢাকা     রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

ইরান ‘যুদ্ধ’ জয়ের পর নক আউটে যুক্তরাষ্ট্রের ডাচ পরীক্ষা 

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:৪৭, ৩০ নভেম্বর ২০২২  
ইরান ‘যুদ্ধ’ জয়ের পর নক আউটে যুক্তরাষ্ট্রের ডাচ পরীক্ষা 

জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাইতো রেফারি বাঁশির ফুর সঙ্গে সঙ্গেই  হামলে পড়ে মার্কিনিরা। তাতে ধরা দেয় সাফল্যও। অন্যদিকে ইরানের শুরুটা ছিল ধীরগতির। রক্ষণ সামলাতে সামলাতেই শেষ প্রথমার্ধ। এরপর জান প্রাণ দিয়ে লড়াই করেও আর কাজ হয়নি। শেষ হাসি হাসে যুক্তরাষ্ট্র।

বি গ্রুপ থেকে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টায় ইরানকে ১-০ গোলে  হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। নক আউট পর্বে তাদের প্রথম বাধা নেদারল্যান্ডস।  শনিবার রাত ৯টায় কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে নামবে দুই দল।

৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র। একটিও হারেনি তারা। দুটি ড্রয়ের সঙ্গে একটি জয়। ইরান একটি জয় পেলেও ওয়েলস তার মুখও দেখেনি।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের টানা তিন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। যেখানে ইরান ৬বার খেলে কোনোবারই এই বাধা পার হতে পারেনি। ১৮ ম্যাচ খেলে তারা দ্বিতীয় দল যারা কখনো নকআউট যেতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি ২৩ ম্যাচ খেলে এই রেকর্ড স্কটল্যান্ডের।

এবার গ্রুপপর্বে কোনো ম্যাচে হারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে এর আগে একবার এমন হয়েছিল মার্কিনদের। এবারের মতো ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও একটি জয় দুটি ড্র করেছিল তারা।

প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক আক্রমণের চেষ্টা করে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩৮ মিনিটে পুলিসিকের গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।  মাঝমাঠ থেকে বাঁ দিকে দারুণ এক ক্রসে বল পান ডেস্ট। হেড দিয়ে তিনি ঠেলে দেন ডি বক্সের মাঝে। সেখানে থাকা পুলিসিক পাঠিয়ে দেন ইরানের জালে। 

গোল দিতে গিয়ে সংঘর্ষ হয় ইরানি গোলরক্ষকের সঙ্গে। মিনিট কয়েকের জন্য মাঠ ছাড়েন পুলিসিক। ৪৪ মিনিটে আবার ফিরে আসেন।  এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোলেই অবদান পুলিসিকের। একটি করেছেন আরেকটি করিয়েছেন। 

বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে আরও একটি গোল দেয় মার্কিনিরা। অফসাইডে সেটি চলে যায় বাতিলের খাতায়। প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ সময় বল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পায়ে। মোট ৯টি শট নেয় তারা। ৫টি ছিল অনটার্গেট। অন্যদিকে ইরানের মনোযোগ ছিল রক্ষণ সামলানোতে। 

বিরতির পর এসে খোলস ছাড়িয়ে বের হতে থাকে ইরানিরা। চুপসে যায় যেন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ডিফেন্স তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে ইরানি আক্রমণ সামলানোয়। যোগ করা সময়ে একটি গোল পেতে পেতেও পায়নি ইরান। গোলরক্ষক টার্নারকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যাচ্ছিল গোল লাইনের দিকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রর ডিফেন্ডার দ্রুত ক্লিয়ার করে ফেলেন। 

প্রথমার্ধে লক্ষ্যহীন আক্রমণ করা ইরান মোট ৫টি শট নেয়। যার মধ্যে ১টি ছিল অন টার্গেট। সব মিলিয়ে বল দখলের লড়াইও ছিল প্রায় সমান সমান। ইরানের পায়ে বল ছিল ৪৯ শতাংশ সময়। চলতি বিশ্বকাপে ইরান এই ম্যাচেই সর্বোচ্চ ২৫৫টি সফল পাস খেলে। এর আগে দুটি ম্যাচে দুইশর গণ্ডি পার হতে পারেনি। 

ওয়েলসকে হারানো ইরানের শেষ ষোলোর স্বপ্ন মাটি হয়ে যায় মার্কিনিদের কাছে হেরে। ম্যাচ শেষে ভেঙে পড়ে দলটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ নিয়েছে। ২৪ বছর আগে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল ইরানিদের কাছে। বাইশে এসে তারুণ্যে গড়া দলটি যেন সেই হারের প্রতিশোধ নেয়। 

ঢাকা/রিয়াদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়