ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

‘ক‌্যাচ মিস মানেই সব শেষ নয়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২২, ৯ ডিসেম্বর ২০২২  
‘ক‌্যাচ মিস মানেই সব শেষ নয়’

প্রেক্ষাপট ছিল একই রকম। কিন্তু দুই পরিস্থিতির জন‌্য মন্তব‌্য দুই রকম! ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজের ক‌্যাচটা লুফে নিতে পারেননি লোকেশ রাহুল। কঠিন ক‌্যাচ ছেড়ে রাহুল ম‌্যাচটাই মিস করে ফেলেন। মিরাজ ম‌্যাচ জিতিয়ে বীরের বেশে ফেরেন সাজঘরে।

ক্রিকেটের প্রচলিত কথাটাই সেখানে খাটে, ‘ক‌্যাচেস উইন ম‌্যাচেস।’ মানে, ক‌্যাচ মিস তো সব মিস। পরদিনের প্রেক্ষাপট একই রকম। ম‌্যাচের অন্তিম মুহূর্তে রোহিত শর্মাকে একই ওভার দুইবার জীবন দেন ইবাদত হোসেন ও এনামুল হক বিজয়। তারপরও ম‌্যাচটা জিততে পারেনি ভারত। অপ্রচলিত কথাটা শুনতে হয়, ‘ক‌্যাচেস ডোন্ট লুস ম‌্যাচেস।’ মানে, ক‌্যাচ মিসই সব নয়।

ক‌্যাচ মিস করলে ম‌্যাচ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঘটনা অসংখ‌্য আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও এই ঘটনা রয়েছে অহরহ। কিন্তু ক‌্যাচ ছাড়লেই সব শেষ নয়, এমন সাহসের বীজ ক্রিকেটারদের মনে বপন করতে চাইছেন বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ শেন ম‌্যাকডারমট। তার সাফ কথা, ক‌্যাচ ছাড়ার পরের বলেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। লড়তে হবে। সেই লড়াইয়ের ফল কি হবে তা না ভেবে প্রাণপন চেষ্টা চালাতে হবে।

শুক্রবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে ম‌্যাকডারমট বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী দলগুলোর বেশ কিছু ভিডিও আছে আমার কাছে, যেখানে দেখা যাবে ক্যাচ ছাড়ার পরেও ম্যাচ জিতেছে। ক্যাচ অবশ্যই ম্যাচ জেতায়। তবে ক্যাচ ছাড়া মানেই ম্যাচ হারা নয়। এটি প্রমাণিত। এ বিষয়ে আমাদের চিন্তা বদলাতে হবে। আমরা যত ক্যাচ ছাড়ব, তত ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাব, তত বেশি শিখতে হবে। এ মুহূর্তে ব্যর্থতার পর আমাদের ছেলেদের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দুর্দান্ত।’

ইবাদত ও বিজয় কিংবা রাহুলের ক্যাচ ফসকে যাওয়ার ঘটনাকে ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়ে পরিস্থিতি সামলানোর ঘাটতি হিসেবে দেখছে ম্যাকডারমট, ‘মানুষ, চাপ, পরিস্থিতি সব কিছু মিলিয়েই ক‌্যাচ মিসের ঘটনা ঘটে। লোকেশ রাহুলও ক্যাচ ছেড়েছিল (প্রথম ম্যাচে)। কাজেই আমরা সবাই ক্যাচ ফেলি।  যখন উদ্বেগের ব্যাপার তৈরি হয় তখনই, যখন বল বাতাসে থাকে তখন এটা ছেড়ে দিলে কি প্রতিক্রিয়া হবে তা নিয়ে ভাবতে থাকে কেউ। ফ্লাডলাইটের আলোয় অনেক উঁচুর ক্যাচ ফসকে যায়। কারণ, ফিল্ডারদের ভাবনার সময় থাকে। এটা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু শেখার ব্যাপারও আছে। কঠিন পরিস্থিতিতে যখন আলোর নিচে আমরা ক্যাচ ফেলি, সেটা শেখার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হয়।’

গত মার্চ মাসে ম‌্যাকডারমটের সঙ্গে চুক্তি করে বিসিবি। কিন্তু লম্বা সময়ে তেমন উন্নতি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে তিন ম‌্যাচে ৫টি ক‌্যাচ ছেড়েছিল। যেখানে সেঞ্চুরিয়ান রাইলি রুশো, মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক‌্যাচও ছিল। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়েও তেমন উন্নতি হয়নি। তবে নিজের কাজকে এবং ছেলেদের উন্নতিতে বেশ উচ্ছ্বসিত ৪১ বছর বয়সী এই কোচ, ‘অবশ্যই কিছু উদ্বেগের জায়গা আছে (ফিল্ডিং নিয়ে)। যখন প্রথম শুরু করেছিলাম। এখানে বিশ্বকাপসহ নয় মাস থাকার পর খুব উপভোগ করছি। আমি ভাগ্যবান যে কোচিং স্টাফ ফিল্ডিং নিয়ে প্যাশনেট। আমাদের পারফরম্যান্সের এটা একটা বড় জায়গা (ফিল্ডিং)। আমাদের ক্যাচ নেওয়ার হার বিশ্বের মধ্যে এক-দুই নম্বরে।’

ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়