ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নাগপুর অরেঞ্জ সিটিতে আমরা

মিলটন আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৫ ৮:২৪:৩৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৫ ২:২৬:২৩ পিএম
বিদর্ভ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে লেখক

রাত দু’টো। নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলাম। ফিরোজ আলম স্যারসহ আমরা দু’জন ছাড়াও পরিচিত অনেকেই একই ফ্লাইটে এসেছি। তাদের মধ্যে ‘প্রথম আলো’র রানা আব্বাস ভাই, ‘সমকাল’র সেকান্দার ভাই, ‘একাত্তর’ টেলিভিশন চ্যানেলের এহতেশাম সবুজসহ আরও কয়েকজন। সবাই বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ কাভার করতে এসেছেন। সবার মধ্যেই কিছুটা উৎকণ্ঠা। প্লেন শিডিউল ডিলে হওয়ার কারণে এই মধ্য রাতে অচেনা শহর কিছুটা অস্বস্তিকর বটে। তাও আবার ভিন দেশে! অনেকের আবার এই রাতে নাগপুর শহরে গিয়ে হোটেল খুঁজতে হবে।

একটা ট্যাক্সিতে রওনা হলাম বিমানবন্দর থেকে। পার্কিং এরিয়া থেকে বের হতেই নির্জন রাস্তায় উঠে এলো ট্যাক্সি। রাস্তার দু’ধারে কিছু গাছপালা। তারপর বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গা। এই রাতে যেকোনো মানুষেরই এমন নির্জনতায় ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। আমাদের দেশের অনেক এলাকায় এক সময় ডাকাতের আনাগোনা ছিল। ছোটবেলা ডাকাতের অনেক গল্পও শুনেছি। তারপর থেকে এরকম গভীর রাতে নির্জন কোনো জায়গা দেখলে ওসবই মনে পড়ে।

বিমানবন্দরের এই অংশ কিছুটা আমাদের যশোর বিমানবন্দরের মতো। নির্জনতা পেরিয়ে আমরা শহরে প্রবেশ করছি। একটু দূরেই বড় করে লাল আলোয় লেখা ‘লতা মুঙ্গেশকর হসপিটাল’। ড্রাইভারের কাছে ফিরোজ স্যার জানতে চাইলেন, ‘কোন লতা মুঙ্গেশকর? সিঙ্গার?

ড্রাইভার মাথা নাড়লেন- ‘হ্যাঁ, লতাজি’।

তাঁর নামেই এই ক্যানসার হাসপাতাল! আশেপাশে দেখলাম শুধু হাসপাতাল আর ক্লিনিক। ড্রাইভারের মুখেই জানলাম- জায়গাটির নাম ‘হার্ট অফ দ্য সিটি’। নাগপুর শহরের হৃৎপিণ্ড বলা হয় স্থানটিকে। শহরের সব বড় আর নামকরা হাসপাতাল এখানে অবস্থিত। এটা আসলে বলার জন্য বলা। এই শহরের অনেক মানুষের বাঁচা-মরা আর সুস্থ থাকা এই এলাকার হাসপাতালগুলোর উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। হয়তো তাই নিজেরাই এই নাম দিয়েছে।

নাগপুরে একটি মন্দিরের ভেতর সাপের ছবি

 

তবে নাগপুর শহরকে মূলত বলা হয় ‘অরেঞ্জ সিটি’। শহরের প্রবেশ পথে বড় করে লেখা- ‘অরেঞ্জ সিটি’। মহারাষ্ট্রের এই নাগপুরে নাকি সবচেয়ে বেশি আর সুস্বাদু কমলালেবু চাষ হয়। পাশাপাশি নাগপুরই কমলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। তাই জায়গাটির নাম কমলালেবুর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। ফলের মধ্যে এই ভাগ্য শুধু আর একটির আছে- আপেল। তবে ভারত সরকার নাগপুরকে ‘টাইগার ক্যাপিটাল’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে। ভারতের মোট বাঘের ৩৯টি নাকি এই নাগপুরে সংরক্ষিত আছে। তাই ভারতীয়দের কাছে এটি ‘টাইগার ক্যাপিটাল’ বলেও পরিচিত।

মিনিট বিশেকের মধ্যে হোটেলের সামনে এসে পৌঁছলাম। সরু গলির মধ্যে জে কে হোটেলের রিসেপশনে গিয়ে দাঁড়াতেই ত্রিশ-বত্রিশ বছরের এক যুবক ‘হ্যালো’ বলে সম্ভাষণ জানাল। এতো রাতে এই হোটেলে চেক-ইন করার নিয়ম নেই। কিন্তু ফিরোজ স্যার আগেই ফোনে যোগাযোগ করে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে রেখেছিলেন। ফলে চেক-ইন করতে আমাদের অসুবিধা হয়নি। হোটেলের পলিসি মোতাবেক আমরা ফর্ম পূরণ করে পাসপোর্ট জমা দিয়ে রুমে চলে গেলাম। লাগেজ ষোলো-সতেরো বছর বয়সী এক বালক রুমে পৌঁছে দিলো। কিন্তু রুম আমাদের দু’জনের কারোরই পছন্দ হলো না। এর আগে বুকিং ডটকমের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা, ভারতের দিল্লী ও রাজকোটে গিয়েছি। এরকম অভিজ্ঞতা কোথাও হয়নি। বুকিং ডটকমের ইমেজের সঙ্গে এই হোটেলের বিস্তর ফারাক।

হোটেলের বর্ণনা এখন থাক। হোটেল কর্তৃপক্ষের কিছু সমস্যার কারণে কয়েকজন সাংবাদিক হোটেলের লবিতে এসেও এই মধ্য রাতে চেক-ইন না করে অন্যদিকে হোটেলের সন্ধানে চলে গেলেন। পুরো নাগপুরেই হোটেল সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতায় পড়তে হয়েছে তাদের। এমনও হয়েছে- রুম আছে বলে ভাড়া দিতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশি পরিচয় দেয়ার পর বলেছে- ‘স্যরি, রুম নেই’। দুই-একটি হোটেলে আবার পুলিশের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশিদের ভাড়া দিতে রাজি হয়নি।

সমস্যা আরও আছে, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার তৃতীয় টি-২০ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বিদর্ভ ক্রিকেট এসোসিয়েশান স্টেডিয়ামে। নাগপুর শহর থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে। একেবারে শহরের বাইরে এই স্টেডিয়ামের অবস্থান। নির্জন হাইওয়ে থেকেও কিছুটা ভেতরে। হাইওয়ে থেকে স্টেডিয়ামে যেতে যে রাস্তা, তার দু’পাশে ছোট-বড় গাছপালা আচ্ছাদিত জঙ্গল সদৃশ। কিন্তু তাতে কি! এখানকার মানুষের মাঠে বসে খেলা দেখা চাই-ই-চাই।

ভুল হলো বৈকি! নাগপুরের পরিচিতিটা আগেই বলা উচিত ছিল। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা এই নাগপুর। নাগপুরকে মহারাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাজধানীও বলা হয়। মুম্বাই (বম্বে) হলো মহারাষ্ট্রের রাজধানী। সে হিসেবে জেলা নাগপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুম্বাই এবং পুনের পরে মহারাষ্ট্রের এটি তৃতীয় বৃহত্তম শহর। এর আয়তন প্রায় দুইশ আটাশ বর্গকিলোমিটার। প্রায় ত্রিশ লাখ জনসংখ্যার এই জেলার নাম ‘নাগপুর’ হওয়ার কারণ কী? এখানে আসা প্রায় সকলেরই এটি কৌতূহলের বিষয়। ‘নাগ’ অর্থ সাপ। আর ‘পুর’ অর্থ সিটি বা শহর। নাগ নামের যে নদীটি নাগপুরের উপর দিয়ে সাপের মত এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে ওই নদীর নামেই এখানকার নামকরণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছেন- এখানে কি শুধু নাগই থাকে? কোনো নাগিন নেই?

নাগপুরে বেড়ানোর মত বেশ কয়েকটি টুরিস্ট স্পট আছে। অনায়াসে এই জায়গাগুলোতে বেড়ানো যেতে পারে। এর মধ্যে তাদোবা আন্ধারি ন্যাশনাল পার্ক, আম্বাজারি লেক কাম পার্ক, দীক্ষাভূমি, সিতাবুলদি ফোর্ট অন্যতম।

রাস্তায় ফিরোজ আলম কমলালেবু কিনছেন

 

নাগপুরে হোটেল সংক্রান্ত যে জটিলতার সম্মুখীন বাংলাদেশিদের হতে হয়েছে তার আসল কারণ হলো বাবরি মসজিদ-এর মামলার রায়। আমরা রাতে নাগপুর পৌঁছেছি; রাত পোহালেই বাবরি মসজিদ-এর মামলার রায় হওয়ার কথা। ভারত সরকার উত্তর প্রদেশসহ আশেপাশে বেশ কিছু অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করে রেখেছে। বাবরি মসজিদ হিন্দু এবং মুসলমানদের এমন এক সেনসিটিভ ইস্যু যার রায় নিয়ে মোদি সরকার নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নন।

আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে যেকোনো সরকারই একই পথে হাঁটবেন। কারণ দুই ধর্মের মানুষের কাছেই এটি স্পর্শকাতর বিষয়। আমার এক বাঙালি পরিচিতা থাকেন রাজস্থানে। ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন আমি চলতি ক্রিকেট সিরিজ উপলক্ষ্যে ভারত চষে বেড়াচ্ছি। তিনি আমাকে মেসেঞ্জারে নক করে হুঁশিয়ার করে দিলেন। জানালেন- আপনি নাগপুর যাচ্ছেন ভালো কথা। কিন্তু শহর থেকে দূরে কোথাও বেশি ঘোরাফেরা করবেন না। এখানকার অনেক ইউনিভার্সিটি, স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর প্রদেশের কয়েক স্থানে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় সরকার। কারণ একটাই, বাবরি মসজিদের রায় কার ভাগ্যে যাচ্ছে! অবশ্য আমরা রায় ঘোষণার পরেও আরও দু’দিন নাগপুর ছিলাম। কিন্তু বাবরি মসজিদের রায়ের কোনো প্রতিফলন দেখতে পাইনি।

রাত প্রায় তিনটায় আমরা হোটেল কক্ষে চেক-ইন করি। ফ্রেশ হতে হতে আরও ত্রিশ মিনিট। তারপর সোজা বিছানায়। সকাল দশটায় আমাকে স্টেডিয়ামে যেতে হবে জরুরি কাজে। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনও আছে একই সময়ে। আর জেগে না থেকে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙতেই দেখি সকাল নয়টা। দিনের আলোয় সকালের অরেঞ্জ সিটিতে চোখ বুলানোর সুযোগ হলো এবার। নিরিবিলি আর শান্ত পরিবেশ। অল্পসংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। তাও শুধু ট্যাক্সি, অটো রিকশা আর ব্যক্তিগত গাড়ি। সুনসান বলা যায়। এবার দিনের আলোয় দেখলাম লতা মুঙ্গেশকর হাসপাতাল।

এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে বড় রাস্তায় উঠলে উত্তরদিকে শহর। আর দক্ষিণে নাগপুরের বিখ্যাত বিদর্ভ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। শহর পেরিয়ে হাইওয়েতে উঠলাম। মনে হচ্ছিল এটা বাংলাদেশের কোনো হাইওয়ে। রাস্তার দু’পাশে দূরে অল্প কিছু বাড়িঘর। আবার কিছু দূরে রাস্তার দু’ধারে বন্ধ কিছু খাবারের দোকান। সদ্য আসা শীতের ঝলমলে সকালের মিষ্টি রোদ ছড়িয়ে আছে চারদিকে। ট্যাক্সির কাঁচের জানালা ভেদ করে রোদ আমার চোখে-মুখে পড়ছে। সানগ্লাস পরে নিলাম। রাতে প্লেনের মধ্যে যে খাবার দিয়েছিল তার বর্ণনায় নাইবা গেলাম। আর সকালেও এখন অব্দি কোনো কিছু মুখে দেয়ার সুযোগ হয়নি। তারপরও সকালের এমন সুন্দর পরিবেশ আমাকে দারুণ রোমাঞ্চিত করছে! অবচেতনভাবে মন থেকে বেরিয়ে এলো- ‘লাইফ ইজ ভেরি বিউটিফুল!’ নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন ভাষা ছাড়াও এখানে সবকিছুই আসলে নতুন আমার কাছে। তবুও।

স্টেডিয়ামে খুব বেশি সময় ছিলাম না। বাংলাদেশ দলের অনুশীলন চলছিল। অনেক আগে থেকেই খেলোয়াড়দের সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মাঠে সবার সাথে দেখা হতেই হাই-হ্যালো হলো। ইমরুল কায়েস, মেহেদি হাসান মিরাজ, সাদমান  ইসলাম, লিটন দাস, হালের ক্রাশ মোহাম্মদ নাইমদের সাথে কিছুক্ষণ কথা হলো সামনের ম্যাচ নিয়ে। সবার চোখে-মুখে দারুণ আত্মবিশ্বাস দেখলাম। যদিও প্রথম তিনজন টি-২০ ম্যাচ খেলবেন না। তবু তারাও অনেক আশাবাদী। ইমরুল কায়েস জানালো ড্রেসিং রুমের পরিবেশ খুব ভালো। আশা করছি পজিটিভ কিছু হবে।

নাগপুরে স্থাপিত ডা. বাবা সাহেব আম্বেদকারের মূর্তি

 

মাঠ থেকে হোটেলে যখন ফিরেছি তখন দুপুর আড়াইটা। ফিরোজ স্যার রুমেই আমার অপেক্ষায় ছিলেন। একসঙ্গে লাঞ্চ করব। রাজকোটে খাবারের অভিজ্ঞতা অসাধারণ! সব ক’টা দিন ভেজিটেরিয়ান হয়েই ছিলাম। অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এখানে কি অপেক্ষা করছে? নেট দেখে হোটেল থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে একটি রেস্টুরেন্টের সন্ধান পেলেন ফিরোজ স্যার। অশোকা নামের একটি রেস্টুরেন্টে খাবারের তালিকা দেখলাম মেন্যু বুকে। নাহ! এখানে ভেজ বা নন-ভেজ ইস্যু নেই। আমরা ফিশ বিরিয়ানি অর্ডার করলাম দু’জনের জন্য। তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। কিন্তু পরিমাণে কিছুটা বেশি হয়ে গিয়েছিল। বেরিয়ে পড়লাম পিচ ঢালা পথে। দুই জোড়া চোখের ওপর বিশ্বাস করে নিজেদের ছেড়ে দিলাম। চলো গন্তব্যহীন। সারা দুপুর আমরা হেঁটে বেড়ালাম। চার-পাঁচ ঘণ্টা আমরা কত পথ যে হেঁটেছি তার ইয়ত্তা নেই। পথে আমরা ভ্রাম্যমাণ কমলার ঠেলাগাড়ি থেকে কমলা কিনে খেয়েছি। বেশ বড় সাইজের একেকটি কমলা। আমরা পাঁচ রুপি দিয়ে কিনেছি। সুস্বাদু। কমলার শহরে এসেছি। ও জিনিস একটু মুখে না তুললে এই শহর যদি মাইন্ড করে!

শেষ টি-২০ ম্যাচের পরদিন ফিরোজ স্যার দেশে ফিরবেন বলে কিছু শপিং বাকি ছিল। সেগুলো তিনি শেষ করলেন। আমরা যে এলাকায় ছিলাম তার আশেপাশে অনেক দূর অব্দি নাগপুরের মেট্রো রেলের কাজ চলছে দেখলাম। বুঝলাম এই রেলের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে দারুণ আর আকর্ষণীয় একটি শহরে পরিণত হবে এটি।

পরদিন। ১০ নভেম্বর। বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যকার শেষ টি-২০ ম্যাচ সন্ধ্যা সাতটায়। সারাদিন হোটেলে বসে থাকার মানুষ আমরা নই। পাঁচটায় মাঠে যেতে হবে। তাহলে এইবেলা কোথায় ঘুরে আসা যায় খোঁজার জন্য মোবাইলে ডুব দিলেন ফিরোজ স্যার। খুঁজে পেলেন। কাছেই নাকি সেই আম্বাজারি লেক। সঙ্গে সুন্দর একটি পার্ক। আমাদের তৃতীয় সঙ্গী ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। উবার ঠিক ১৫ মিনিটের মাথায় লেকের মুখের সামনে আমাদের নামিয়ে দিলো। দেখলাম এতো বড় লেক ঘুরে শেষ করা যাবে না। আমরা লেক লাগোয়া পার্কে ঢুকে নিরিবিলি দু’এক জায়গায় ছবি তুললাম। ঘণ্টাখানেক পর বেরিয়ে অশোকায় লাঞ্চ সেরে হোটেলে ফিরলাম।

শাওয়ার নিয়ে স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম আবার। আই টি ডব্লিউ নামে ইন্ডিয়ান যে কোম্পানির কাছ থেকে আমরা স্পন্সরশিপ কিনেছি, ওই কোম্পানির মি. শারিক আমাদের জন্য গাড়ি পাঠিয়েছেন মাঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বিশ মিনিটের পথ আমরা অতিক্রম করলাম প্রায় এক ঘণ্টায়। যানজট। স্টেডিয়াম পর্যন্ত পুরো হাইওয়ে একেবারে প্যাকড হয়ে আছে খেলা দেখতে আসা দর্শকের ভিড়ে। মেইন রোডে গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটে আমাদের মাঠে প্রবেশ করতে হলো।  তারপরের ইতিহাস সবারই জানা। সীমিত ওভারের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে আমাদের জয় হাতের মধ্যে থেকে বেরিয়ে যায়।

 

ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন