ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

স্মৃতি-বিস্মৃতির বগালেক

রাকিবুল হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৮ ৪:৩০:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৮ ৪:৩০:৩৩ পিএম

বান্দরবান, নামটি আমার কাছে অনেকটা একটি দেশের মতো। বিশাল কংক্রিটের ভবন, রং-বেরঙের অজস্র গাড়ি; নানাবিধ শব্দদূষণ, ধুলা আর পরিবেশ দূষণের এই শহরের মানুষের কাছে বাংলাদেশের এক প্রান্তে থাকা বান্দরবান রূপকথার দেশের মতোই! জেলা শহরটিকে একটি দেশ মনে করার আরো কিছু কারণ রয়েছে। বিশুদ্ধ অক্সিজেনসমৃদ্ধ এই বান্দরবানের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব খাবার, নিজস্ব রীতিনীতি। আর রয়েছে প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য। যা দেখে শেষ হওয়ার নয়।

দেড় বছর আগে থানচি, রেমাক্রি, নাফাখুম, আমিয়াখুম, থুচাইপাড়া, পদ্মঝিড়ি ঘোরার পর এ-বছর ফের মনের মধ্যে ডাক দেয়া শুরু করলো বান্দরবান। চুম্বকের এই টানে হয়ে গেল ঝটপট পরিকল্পনা। এবারের লক্ষ্য ছিল রুমাবাজার, বগালেক এবং কেওক্রাডাং। ২০১৫ সালে এই রুটে ছয় বন্ধুর ঘোরার সৌভাগ্য হয়েছিল। এবারের ভ্রমণ থেকে সৌভাগ্য শব্দটি একটু আলাদা করে রাখতে চাই। এর ব্যাখ্যা ভ্রমণজুড়েই থাকবে।

এবারের সঙ্গী চার কলমযোদ্ধা, সহজভাষায় সাংবাদিক। অঞ্জন, জীবন, উজ্জ্বল এবং ফিরোজ। আমিসহ সবাই প্রযুক্তিবিষয়ক লেখালেখি করি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর রাতে বান্দরবানগামী বাসে উঠে বসি। বান্দরবান রুটে আমার চতুর্থবার ভ্রমণ। ফলে এই রুটের মহাসড়কে বাস চালকের গাড়ি চালানোর তীব্রতা সম্পর্কে আমার ধারণা আগে থেকেই আছে। অনেকটা সয়ে গেছে। রাত ১০টার বাসে উঠে আমাদের দল বান্দরবান পৌঁছালো ৮ নভেম্বর সকাল ৮টায়। ছোটবেলা থেকেই পুরোনো স্থান ঘুরে বেড়ানোতে আলাদা মজা পেতাম। বিশেষ করে যে স্থানগুলোতে কেটেছে আমার শৈশব। পুরোনো মানুষগুলোকে খুঁজে ফেরাতেও ছিল আলাদা নেশা। ফলে এবারের বান্দরবানের ভ্রমণটিও ছিল আমার কাছে উত্তেজনার একটি বিষয়। ২০১৫ সালে যখন কেওক্রাডং এবং বগালেক থেকে ঢাকার পথে ফিরছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল, এই বগালেকে আমার আসা হবে না। এই কষ্টসাধ্য পথ আমার অতিক্রম করা সহজ হবে না। ২০১৯-সালে এসে ফের যাচ্ছি সেই চিরচেনা বগালেক দেখতে!

যাই হোক, বান্দরবান পৌঁছে হাতমুখ ধুয়ে আমরা চলে গেলাম রুমাবাজার বাস কাউন্টারে। বাস ছাড়তে আধঘণ্টা দেরি হওয়ায় সেখানেই সেদ্ধ ডিম, চালের রুটি, আর ডিম ভাজি খেয়ে হয়ে গেল সকালের পেটপূজা। ঘড়ির কাটা ১০টা ৭; আমাদের বাস ছাড়ল। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা আর একের পর এক পাহাড় ডিঙিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ভ্রমণ করে পৌঁছে গেলাম রুমাবাজার। রুমাবাজার থেকেই আমাদের মূল ভ্রমণ শুরু। ঢাকা থেকে গাইড ঠিক করা ছিল না আমদের। ফলে রুমাবাজার থেকে গাইড নিয়ে যেতে হবে। রুমাবাজার ক্যাম্পের পাশে বসে এক দিদির দোকানে বসে তেঁতুলের শরবত পান করার পাশাপাশি চলছিল গাইড খোঁজার কাজ। হঠাৎ অল্প বয়সি এক যুবককে দেখে আমার মনের মধ্যে আশা জেগে উঠলো। ফোন দিলাম ঢাকায় থাকা বন্ধু রিয়াদকে। একটি প্রশ্ন করতেই মিলল উত্তর। এবার ওই যুবককে দেখে ডাক দিলাম- মিশুকদা! ওই যুবক তাকিয়ে হাসিমুখে সামনে চলে এলো। পাঁচ বছর আগে মিশুক ছিল আমাদের গাইড। সেবার বন্ধু রিয়াদ ছিল বগালেকের ভ্রমণসঙ্গী। মিশুককে দেখে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস চলে এলো। ওর নাম মনে করতে পারছিলাম না, তাই রিয়াদের কাছ থেকে শুনে নামটি মনে করলাম।

মিশুক আগের মতোই আছে। ওর কাঁধের ঢিলেঢালা ব্যাগটি আগের মতোই রয়েছে। পাহাড়ে এখন পর্যন্ত যত গাইডের সঙ্গে চলতে হয়েছে এর মধ্যে মিশুক ছিল সবচেয়ে আস্থা এবং ভরসার একজন। কথায় আছে, নামের সঙ্গে মানুষের চরিত্রের মিল রয়েছে, মিশুকের সঙ্গে মিশলে তার প্রমাণ মেলে। মিশুকের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেল, সে আরেকটি দলের জন্য অপেক্ষা করছে। ৮ জনের একটি টিম। তারা যাবে বগালেক। কিন্তু  মিশুক আমাকে পেয়ে ওই দলটিকে অন্য একজন গাইডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে চলে এলো আমাদের সঙ্গে। ক্যাম্প থেকে অনুমতি শেষে মিশুকের নেতৃত্বে বগালেকের উদ্দেশ্যে মূল যাত্রা শুরু হলো।

২০১৫ সালে যখন আমরা বগালেক ভ্রমণ করেছিলাম তখন ৭ মাইল থেকে নেমে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ি পথ ট্র্যাকিং করে আমরা পৌঁছেছিলাম কমলাবাজার। ওই কষ্টের মধ্যে আলাদা এক স্বস্তি ছিল। এবারের ভ্রমণে হারে হারে বিষয়টি টের পেলাম। যাওয়ার পথে মিশুক দেখিয়ে দিল সাত মাইল। এটি একটি পাড়ার মতো ছিল। আগে সাত মাইলের উপর দিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ছিল, ছিল বিশ্রাম করার জন্য একটি স্থানীয় দোকান। সেখানে পাওয়া যেত পাহাড়ি কলা, চা ইত্যাদি। এখন সাত মাইলে দেখা মেলে দুই একটি ঘরবাড়ি। নেই আগের দোকান। পাহাড়ি রাস্তার বদলে হয়ে গেছে কংক্রিটের সড়ক। সাতমাইল পার হওয়ার পর প্রতিটি রাস্তা দেখছি, আর আগেরবারের স্মৃতিগুলো চোখে ভেসে উঠছে। কারণ এই রাস্তার হাঁটার পথে বেশ কিছু স্থানে থেমে থেমে বিশ্রাম নিতে হয়েছিল আমদের। এখন সব স্মৃতি। গাড়িতে ওঠার আগে মিশুক বলেছিল, ‘দাদা, বগালেক এখন আগের বগালেক নেই। আর মজা পাই না।’ কংক্রিটের সড়কে চান্দের গাড়ির গতিই বলছে, আসলেই সাতমাইল থেকে বগালেকের আগের সেই ঘাম ঝরানো মজাটা নেই।

৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম কমলাবাজার। সেখানে এসেও অনেকটা দমে গেলাম। সেবার তিন ঘণ্টা ট্র্যাকিং করে প্রাণ জুড়িয়েছিল এই কমলাবাজারে। ফের ২০ থেকে ৩০ মিনিট মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে পাহাড় বেয়ে উঠে জয় করেছিলাম বগালেক। সেবার তো হারুন নামের এক বন্ধু কেঁদেই ফেলেছিল। ঢাকা এসে গল্প করেছিলাম, বীর বীর একটা ভাব চলে এসেছিল আমাদের। মনে হয়েছিল, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার ৭৩ ফিট উপরে অবস্থিত এই বগালেকে ওঠার পথে কেউ যদি একবার বেঁকে বসে, তাহলে হেলিকপ্টার ছাড়া উদ্ধার করা সম্ভব না। আর এবার গাড়ি একটানে নামিয়ে দিল বগালেকের পাড়ে। চান্দের গাড়ি থেকে নেমেও কিছুটা সময় ধরে হোঁচট খাওয়ার পালা আমার। মনের মধ্যে স্মৃতিগাঁথা তখনকার বগালেক আর এখনকার বগালেকের বিস্তর ফারাক। এইতো কয়েক বছর আগে, যে বগালেক ঘিরে ছিল উঁচু পাহাড় এবং এক পাশে গাছের সারি, এখন পাহাড় আছে, কিন্তু নেই গাছের সারি।

আর্মি ক্যাম্পটির অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। ক্যাম্পের পাশে করা হয়েছে একটি ক্যান্টিন, বসার স্থান। বগালেকের ধার ঘেষে পাহাড়ি রাস্তার বদলে স্থান করে নিয়েছে শহুরে রাস্তা।

গাড়ি থেকে নেমে আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্টিং করলাম আমরা। রিপোর্টিং করার অর্থ, রুমা বাজার থেকে আমরা বগালেক ভালোভাবে পৌঁছেছি। রিপোর্টিং ক্যাম্পে আমাদের পাশাপাশি ছিল আরো বেশ কয়েকটি দল। সবাইকে এক সঙ্গে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সবার নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু নির্দেশনা দেয়া হলো। এর মধ্যে দুটি নির্দেশনা শুনে মনে হলো, বগালেক আসার সিদ্ধান্তটি আমার ভুল ছিল হয়তো। সিদ্ধান্তগুলো হলো, রাত ১০ টার পর কটেজের বাইরে থাকা যাবে না। অপরটি, লেকের পানিতে সাঁতরানো যাবে না। শুধু আমি না, এমন নির্দেশনা শুনে ব্যথিত হয়েছিল আরো কয়েকজন, যারা আমার মতো পাঁচ-ছয় বছর বা এর বেশি সময় আগে বগালেকে এসেছিল। তারা সবাই আমার মতো দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। দু-একজন বলেই বসলো, বগালেক এখন ঘেরাও করা চিড়িয়াখানা হয়ে গেছে। এর চেয়ে ঢাকা থাকাই ভালো ছিল।

আর্মি ক্যাম্প থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে সারিবদ্ধভাবে কটেজগুলো। বগালেকে কটেজের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বপ্রথম যে কটেজটি দেখা যায় সেটি আগে ছিল না। কটেজগুলোর সামনে চান্দের গাড়ির সারি। লেক পর্যন্ত গাড়ি আসায় লোকজনের সংখ্যাও অনেক। অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। সবাই দল বেঁধে হেঁটে বেড়াচ্ছে, গল্প করছে। মিশুক আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল সিয়াম দিদির কটেজ। রাস্তার ধারের শেষ প্রান্তে সিয়াম দিদির কটেজ। আগে থেকেই উঁচু কাঠের ঘরে বিছানা, কম্বল ঠিক করা ছিল। রুমে ব্যাগ রেখে আর তর সইছিল না লেকে নামার। সারারাত আর সারা দিনের ক্লান্ত শরীরকে একটু আরাম দিতে নেমে গেলাম বগালেকের পানিতে। এক এক করে সবাই নেমে গেলাম। ক্লান্ত শরীরে বগালেকে থাকা ছোট মাছের হালকা ঠোকর হয়ে গেল হালকা ম্যাসাজ। লেকে নামার একটিই স্থান। সেখানে আগে থেকেই রয়েছে পাকা সিঁড়ি। এই লেকের গভীরতা ১১৫ ফুট। সিঁড়ি কাছ থেকে কয়েক কদম যাওয়ার অনুমতি রয়েছে এখন। আগে সাঁতরানোর অনুমতি ছিল, ছিল ভেলা টাইপের নৌকাও। এখন সব ইতিহাস। পানি থেকে উঠে চা পান শেষে লেক পাড়ে জমে উঠলো আমাদের আড্ডা। পাড়ের একেক স্থানে একেক দল। কোনো দল আড্ডা দিতে ব্যস্ত, আবার কোনো দল গানের কলি খেলতে ব্যস্ত। আগে লেক পাড়ে বসার স্থান ছিল না। ছিল বাঁশের টঙ। কেউ দল বেঁধে বসে পড়তো ঘাসে। এখন লেক পাড়ে ছাউনি দিয়ে করা হয়েছে ইট সিমেন্ট দিয়ে তৈরি বসার স্থান।

সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আড্ডা, হালকা সুরে গান আর পুরোনো দিনের রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প শেষে কটেজে ফেরা। শুরু হলো রাতের ভোজন পর্ব। পাহাড়ি মুরগি, ডাল, আলু ভর্তা আর সবজি দিয়ে পেট ভর্তি খাওয়া দাওয়া। খাবারটা আগের মতোই রয়েছে। অসাধারণ স্বাদ! পাহাড়িদের তরকারিতে ব্যবহার করা হয় কাঁচা হলুদ, পাহাড়ি মরিচসহ পাহাড়ি সব কিছু। এই খাবারে কোনো ভেজাল নেই। পাহাড়ে খাবারে আরেকটি তৃপ্তি রয়েছে। সেটি হলো, ঢাকার শহরে রেস্তোরাঁগুলোর মতো এখানে এক প্লেট এক প্লেট করে ভাত বা তরকারি নিয়ে আসার জন্য তাড়া নেই। সামনে সব কিছুই রয়েছে, নির্দ্বিধায় মন মতো খাওয়া যায় বিলের চিন্তা ছাড়াই।

খাওয়ার সময় হঠাৎ বৃষ্টির আক্রমণ। টিনের ছাদে বৃষ্টির ছন্দ শোনার পাশাপাশি চললো চা পর্ব। সন্ধ্যার আগে মেঘের মধ্যে পানিতে ভেজা এরপর রাতে বৃষ্টি- অর্থাৎ শীত শীত আমেজ। শেষবার যখন বগালেক এসেছিলাম, তখন পরিষ্কার আকাশ পেয়েছিলাম। রাত তিনটা নাগাদ সুনসান নিস্তব্ধতার মধ্যে ঘাসের উপর বসে আবির, রিয়াদ, খাইরুল, জুনায়েদ এবং হারুনসহ ছিল আমাদের আড্ডা। চারদিকে পাহাড়, মাথার উপর খোলা আকাশ আর সামনে বগালেক দেখে আফসোস করেছিলাম, এমন এক স্থানে যদি কাটিয়ে দিতে পারতাম বাকি জীবন! যেহেতু এবার সেই সুযোগ বা সৌভাগ্য ছিল না, তাই চা পান শেষে চলে গেলাম শোবার ঘরে। কাঠের পাটাতনের উপর সারিবদ্ধভাবে তোষক। সৌর বিদ্যুতে জ্বলে থাকা আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে চললো আমাদের গল্প। শান্ত এই পরিবেশে শুধু ভেসে এলো অচেনা একদলের গানের আওয়াজ। ১০টা বাজতেই সব চুপ। টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ, বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। সবমিলিয়ে মন শান্ত করা আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

দরজার কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে মিশুকের ডাক। বোঝাই গেল সকাল হয়েছে। মিশুকের তাড়া, যেতে হবে কেওক্রাডং।  ঝটপট তৈরি হয়ে গরম গরম খিচুড়ি আর ডিম ভাজি খেয়ে শুরু হলো কেওক্রাডং যাত্রা। হাতে চিকন বাঁশ আর পানির বোতল। যাক, এবার ট্র্যাকিংয়ের পালা। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শুরু করলাম কেওক্রাডংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা। কেওক্রাডং যাত্রার গল্প লিখবো পরের বার। যখন এই ভ্রমণ কাহিনি লিখছি, তখন একটি কথাই কানে বাজছে, ‘দাদা ডিসেম্বরে আসবেন কিন্তু। আমার বিয়ে। দাওয়াত দিলাম।’ মিশুক বেশ কয়েকবার এই কথাটি বলেছে। জানি না যেতে পারবো কিনা, জানি না আবার কবে হবে ঝাঁঝালো বাম্বো চিকেন বা কঁচি বাঁশের তরকারি খাওয়া। হয়তো আর কয়েক বছর পর বগালেক গেলে দেখতে পাবো কংক্রিটের ঘর। হয়তো সেখানে ঘুরতে আসা মানুষজনের জন্য ডাল, ভাত, ডিম, সবজি বা পাহাড়ি খাবারের বদলে স্থান করে নেবে চাইনিজ খাবার। হয়তো হারিয়ে যাবে টিনের শব্দে বৃষ্টির পানি পড়ার শব্দ, শোনা যাবে না ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।


ঢাকা/ফিরোজ/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন