ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

পর্যটকদের নজর কাড়ছে জুড়ীর ‘রাতারগুল’

সাইফুল্লাহ হাসান, মৌলভীবাজার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৫, ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
পর্যটকদের নজর কাড়ছে জুড়ীর ‘রাতারগুল’

ওপরে নীল আকাশ। নিচে স্বচ্ছ জলরাশি। এর মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে হিজল-করচসহ নানা জলজ গাছ। কখনো আকাশের কালো মেঘ যেন হাওরের পানির সঙ্গে মিশে একাকার হয়। 

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বলতেই চোখে ভেসে ওঠে সিলেটের কথা। ঠিক রাতারগুলের মতো এ জায়গাটি। স্থানীয় জলার বন নামে পরিচিত। যা অবিকল রাতারগুলের অনুরূপ। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কেড়েছে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের। 

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মৌলভীবাজার জেলার সবকটি পর্যটন স্পট বন্ধ রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের নজর কাড়ছে রাতারগুলখ্যাত জুড়ীর খাকটেখা এলাকা। 

এ এলাকার অনেক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত হিজল আর করচগাছ। গাছগুলো পানির মধ্যে ভাসমান। বর্ষার মৌসুমে দেখতে রাতারগুলের মতো। এসব গাছে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের পাখি। সকাল থেকে বিকেল পাখির কিচির-মিচির যেন মনকে অন্যভুবনে নিয়ে যায়।

এদিকে, অনেকে এ জায়গাটি ঘুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন মনোমুগ্ধকর ছবি-ভিডিও। পর্যটকরা এর নাম দিয়েছেন জুড়ীর রাতারগুল।  

সম্প্রতি এ স্পটে ঘুরে দেখা যায়,যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। রাস্তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ইঞ্জিনচালিত ও ছোটবড় নৌকা। মাঝিরা অপেক্ষা করছেন পর্যটকদের জন্য। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা গাড়ি রেখে দর কষাকষি শেষে নৌকায় ওঠে হাওরে যাচ্ছেন। নৌকায় ঘুরতে গিয়ে কেউ কেউ আবার গোসলের জন্য পানিতে লাফ দিচ্ছেন। সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায় জলজ অনেক উদ্ভিদ। বিশেষ করে পর্যটকরা আসেন শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে। সূর্যাস্তের দৃশ্য হাওরের পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলে।

জুড়ীর রাতারগুলে ঘুরতে আসা পর্যটক মেহেদী হাসান মারুফের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, রাতারগুল খ্যাত জুড়ীর এ এলাকাটি সুন্দর ও মনোরম। বর্ষার সময় এখানে অনেকটা রাতারগুলের মতো মনে হয়। হাকালুকি হাওর থাকায় সূর্যাস্তটাও দারুণ উপভোগ করা যায়। 

আরেকজন পর্যটক আরাফাত জামান। তিনির বলেন, আমরা ১২ জন এখানে এসেছি ঘুরতে। ছোট্ট একটি নৌকা নিয়ে পরিবেশটা মনভরে দেখেছি। 

ফুলতলা ইউনিয়নের আফিফুর রহমান আফিফ ফেসবুকে এবং অনেকের কাছ থেকে শুনেএসেছেন সেই দৃশ্য উপভোগ করতে। তিনি বলেন, দারুণ পরিবেশ।

তিনি আরও বলেন, এই এলাকা যদি পর্যটনবান্ধব করা যায়, তাহলে আরও বেশি পর্যটক আসবে। 

জুড়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ রাইজিংবিডিকে বলেন, হাকালুকি হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় হাওর। এখানে প্রতি বছরই অনেক পর্যটক ঘুরতে আসেন। এখানে পর্যটকদের জন্য ভালো হোটেল-মোটেলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এখানে ফরেস্টের জায়গা আছে, সেখানে রেস্ট হাউজও করা যেতে পারে। তাহলে ভ্রমণপিপাসু মানুষ হাকালুকি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগে করতে পারবে।

কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজারগামী যেকোনো বাসে চলে আসতে পারেন জুড়ীতে। ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও আবদুল্লাপুর বাস টার্মিনাল থেকে বিয়ানীবাজারের বাসগুলো ছেড়ে যায়৷ গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলী ও এনা পরিবহনের এসি বাস যাতায়াত করে। এগুলোর জুড়ী পর্যন্ত ভাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। এরপর জুড়ী বাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশায় খাকটেখায় যাওয়া যাবে। ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০। সময় লাগবে ৫ থেকে ২০ মিনিট।

সাইফ/এসএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়