RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

‘স্বপ্ন যদি হয় বড়, মুক্তি মিলবেই’

নাজমুন নাহার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩৭, ৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:১০, ৭ নভেম্বর ২০২০
‘স্বপ্ন যদি হয় বড়, মুক্তি মিলবেই’

অস্ট্রেলিয়ার বর্ণিল গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অভিযানে লেখক

‘অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে কোরাল সাগরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ যখন পৌঁছেছিলাম আকাশ ছিলো ভীষণ পরিচ্ছন্ন। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর যে কয়েকটি বস্তু দৃশ্যমান তার মধ্যে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অন্যতম। প্রবাল, পলিপস ইত্যাদি কোটি কোটি ক্ষুদ্র অর্গানিজমস দ্বারা এই রিফ কাঠামো গঠিত।

নীল সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়ানো মাথার ওপর অপূর্ব ছাদ যেন আকাশ আর সমুদ্রের মধুর মিলনে আমার স্বপ্নকে জাগিয়ে দিলো জীবনের এক বাস্তব রেখাচিত্রে। আমি দেখেছি জীবনের সবচেয়ে বড় অ্যাডভেঞ্চার হল স্বপ্নের জীবনযাপন করা।

‘মনবন্দি নয়, ঘরবন্দি নয়, জীবন যেমনই হোক স্বপ্ন যদি হয় বড়- তবে মুক্তি মিলবেই’— এভাবে স্বপ্ন দেখতে দেখতে একদিন জীবনযাপন করতে শুরু করলাম। ছিলাম নিজের মত করে। পাহাড়-পর্বত পার হয়ে একদিন সমুদ্র অভিযানে যেতে ইচ্ছে হলো। বইয়ে পড়েছিলাম গ্রেট ব্যরিয়ার রিফের কথা। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর যা প্রায় ২৯৯, ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২,৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে ২,৯০০টি পৃথক রিফ এবং ৯০০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রিফটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে কোরাল সাগরে অবস্থিত।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে কোরাল সাগরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

এখানে অনেক প্রাণের অস্তিত্ব আছে। এই প্রবাল প্রাচীরকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাচার্য্যের একটি বলে ঘোষণা করে। সমুদ্র জীবন যে এত সুন্দর হয় তা আমি বইয়ে পড়েও বুঝতে পারিনি, যখনই আমি খুব কাছ থেকে সমুদ্রের কোরাল জীবন দেখেছি, বুঝতে পারলাম আসলেই সৃষ্টির রহস্য কত অপূর্ব।

পৃথিবীর মাঝে লুকিয়ে থাকা অপরূপ সুন্দরকে সন্ধান করতে করতে এভাবে আমি অভিযাত্রা করেছি সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রের অতল গভীরে। সমুদ্রের ভিন্ন জীবনের রহস্যকেও আমি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি অবলীলায়। এমন সমুদ্র অভিযাত্রা খুব একটা সহজ না হলেও, ইচ্ছের অভিযানে আমি নিজেকে সপেছি সমুদ্রের বিশালতার মাঝে। যখন প্রচণ্ড ঢেউয়ের খুব তোড় এসেছিল তখন সেইলিং বোটের লোহার রড ধরে নিজেকে রক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না।

২২ জনের যাত্রীবাহী সেইলিং বোট, অস্ট্রেলিয়ার সানডে প্যাসেজ পার হয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে ভাসতে ভাসতে ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ পার হয়ে হয়ে একসময় পৌঁছে গিয়েছিলাম পৃথিবীর বিখ্যাত এই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে কোরাল সাগরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

সমুদ্রের গভীর তলদেশে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় পাইপ লিক হয়ে যখন লবণাক্ত পানি পেটের মধ্যে চলে গিয়েছিল তখন বাঁচার জন্য যুদ্ধ করে আবার ফিরে এসেছি। এভাবে চলতে চলতে জীবনের বহু যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে হয়েছে আমাকে। তাই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি যুদ্ধ করতে পারি অবলীলায়।

ইচ্ছে আকাঙ্ক্ষার এক উদাসীন অনুভূতির নাম ছিলো স্বপ্ন পূরণের সেই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের সময়গুলো। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পরিব্রাজকদের সঙ্গে সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে, উত্তাল ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এক নিদারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছিল গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অভিযানে।

লেখা: বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নারী নাজমুন নাহারের ফেসবুক ওয়াল থেকে।

##বাংলাদেশের পতাকা প্রতিটি দেশে পৌঁছে দিতে চাই:  ফ্লাগগার্ল নাজমুন নাহার

ঢাকা/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়