ঢাকা     শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৭ ||  ০৮ সফর ১৪৪২

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

রাইজিংবিডি ডেস্ক রিপোর্ট: || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৪৫, ৯ ডিসেম্বর ২০১২   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

অবশেষে সিরিজ জয় করলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আবারো প্রমাণ করলো তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নিশ্চিত হারের ম্যাচেও জ্বলে উঠতে পারে টাইগাররা। ৩০ রানে তিন উইকেট হারালেও ম্যাচ জিততে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়নি বাংলাদেশকে।

টানা দুই ম্যাচ জিতে পরের দুই ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে জিতে সিরিজে ২-২ এ সমতায় ফিরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখন পঞ্চম ম্যাচটি দাঁড়ায় সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচ হিসেবে। সিরিজের শেষ ম্যাচে দুই উইকেটে জিতে সাহারা ওয়ানডে ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে মুশফিকুর রহিমের দল। ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ে রাষ্ট্রপতি মোহা: জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৬ বল আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। সেটা সম্ভব হয়েছে মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ ও নাসিরের দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদে। শুরুর দিকে তিন উইকেট হারার পর হতাশায় ভুগেছিল টাইগাররা। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ৯১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কাজের কাজটি করেন নাসির হোসেন ও মমিনুল হক। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা ৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়তে না পারলে বাংলাদেশকে হারের তিলক আঁটতে হতো। তবে শেষ রানটি নিয়ে সানি-নাসিররা যা নাটক করেছেন তা বাতুলতা মাত্র। নাসির-সানি যা কীর্তি রচনা করেছেন তা দর্শকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। তাদের পাগলামি দেখে মনে হয়েছে নাসির-সানিরা যেন গহিন জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছেন। এখন কোনপথে ফিরে যাবেন সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।

ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। যেমনটি হয়েছিল অতিথি দলের। ওরা যেখানে ১৭ রানে তিন উইকেট হারিয়েছে। সেখানে আমারা ৩০/৩। জহুরুল ইসলাম অমি নাঈম ইসলামের জায়গায় সুযোগ পেয়েও তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ব্যক্তিগত দশ রানেই সিøপে পোলার্ডের হাতে ক্যাচ তুলেন। আর দুই অঙ্কের কোটা পার হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। দলের যখন করুণ অবস্থা তখন হাল ধরেন অধিনায়ক ও তার ডেপুটি। মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদেই বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে। এই পার্টনারশিপে তারা ১২.৪ ওভারে ৭.২৮ গড়ে ৯১ রান তুলেন। তাদের এই জুটির ভাঙন সৃষ্টি করেন স্পিন জাদুকর সুনিল নারিন। মাহমুদুল্লাহ সাজঘরে ফেরার আগে ৫৯ বলে সাত চারে ৪৭ রান করেন। এরপর সময়ের ব্যবধানে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক মুশফিকও। তিনিও সেই নারিনের শিকার। নারিনের করা বলটিকে ভালোভাবেই মোকাবেলা করেন মুশফিক। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। বল গড়াতে গড়াতে স্টাম্পে আঘাত করলে বেল পড়ে যায়। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৪৭ বলে সাত চারে ৪৪ রান করেন মুশফিকুর রহিম। তবে তখনো বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েনি। জিততে হলে ২৫.৫ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ৮৫ রান। হাতে আছে পাঁচ উইকেট। শেষ দিকে নাসির-মমিনুলের ১৪ ওভারের ৫৩ রানের জুটি ও নাসির-গাজীর ২৮ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। ৩৯ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেমার রোচ ৫৬ রানে পাঁচ উইকেট শিকার করলেও বাংলাদেশের জয়ে তেমন বাধা সৃষ্টি করতে পারেননি। এর আগে ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্কোর বোর্ডে ১৭ রান জমা করতেই তিন উইকেট নেই।  ওয়ান ডাউনে খেলতে নেমে দেখেশুনে ব্যাট চালান মারলন স্যামুয়েলস। তিনি রানআউট হওয়ার আগে ১১ বলে করেছেন ১ রান। এরপর শ্লথগতিতে অগ্রসর হয় ক্যারিবীয়রা। বোলারদের মেইডেন ওভার উপহার দিয়েও ক্রিজে দাঁড়াতে পারেননি চলতি সিরিজে ব্যর্থ গেইল। কাল বদলি বোলার শফিউলের বলে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে বিদায় নেয়ার আগে ১৯ বলে মাত্র দুই রান করেন। সিরিজে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং সাইক্লোন ক্রিস গেইল। বাংলাদেশ সফরে নিজেকে ফিরে পাননি তিনি। সফরটাই তার বাজেভাবে কেটেছে।

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়