ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

সরকারি নিয়মে শতভাগ ঈদ বোনাস দিন

মো. আজাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:০৭, ২৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ০৮:৪৪, ২৯ আগস্ট ২০২০
সরকারি নিয়মে শতভাগ ঈদ বোনাস দিন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসের পরিবর্তে সরকারি নিয়মে শতভাগ ঈদ বোনাস দিন। এই করোনাকালে শিক্ষকদের বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘ ১৬ বছর মাত্র ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস পাচ্ছেন। এই সামান্য অর্থে তারা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না।

২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ ঈদ বোনাস প্রদান করা হচ্ছে। অথচ এরপর ১৬ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এর কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নামেমাত্র ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া,  ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। এই সামান্য অর্থে বর্তমানে কিছুই করা যায় না।

ধরা যাক, একজন এমপিওভুক্ত হাই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বেতন স্কেল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি ঈদ বোনাস পাবেন এর অর্ধেক। অর্থাৎ ৪ হাজার ২০০ টাকা। শিক্ষকরা তাও পাবেন না। যেটুকু পাবেন টাকার সেই অঙ্কের কথা অনেক শিক্ষক লজ্জায় বলতেও পারেন না। অথচ ঈদে পরিবার সামলে তাদেরও সামাজিকতা রক্ষা করে চলতে হয়। কিন্তু সামান্য এই টাকায় সামাজিকতা রক্ষা তো দূরের কথা পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোই কঠিন।

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক চাইলে তাদের আর্থিক দিকগুলোও সরকারকে দেখতে হবে। শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষকদের বৈষম্য কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। সরকারি শিক্ষকরা প্রতি তিন বছরে একটি শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পান। বেসরকারি শিক্ষকদের তাও দেওয়া হয় না। এই বৈষম্য অনেক দিন থেকেই বিরাজমান। অথচ আমরা প্রায়ই বলি, শিক্ষকতায় মেধাবী তরুণরা আসছে না। কেন তারা আসছে না আমাদের ভেবে দেখতে হবে।

বর্তমানে অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো শিক্ষকরাও করোনার প্রভাবে গৃহবন্দি। তাদের বেতন ছাড়া অন্য কোনো আয়-রোজগার নেই। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মারাত্মক অর্থকষ্টে দিনযাপন করছেন। শিক্ষকদের অর্থকষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কাউকে তারা বলতেও পারছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থকষ্ট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। পাশাপাশি শিক্ষাসূচি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আসন্ন ঈদুল আযহার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত আকারে ক্লাস চালু করা যায় কিনা বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাচ্ছি।

অবিলম্বে শিক্ষকদের দুঃখ, কষ্টের কথা চিন্তা করে, ঈদুল আযহার পূর্বে ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসের পরিবর্তে সরকারি নিয়মে তাদের শতভাগ ঈদ বোনাস দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মনে রাখতে হবে, শিক্ষককে উপেক্ষা করে শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

লেখক: শিক্ষক, গণসংযোগ বিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (কেন্দ্রীয় কমিটি)।

 

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়