যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরো পড়ুন: যশোরে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগর। তারা যশোর সদর উপজেলার শংকরপুর ইসহাক সড়ক এলাকার বাসিন্দা।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর কোতোয়ালী থানাধীন শংকরপুর এলাকার মৃত ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী জানান, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোটরসাইকেলে শংকরপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের সামনে যান আলমগীর হোসেন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। স্থানীয়রা আহতাবস্থায় উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আলমগীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের পাঁচটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে। শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী শামীমা পারভীন মামলা করেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে প্রথমে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে এজাহার গ্রহণের পর রবিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার বাসেদ আলী পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বাসেদ আলী পরশ নিহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, ওই বিরোধের কারণেই পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগরের সহায়তায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।