বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দাবিতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে দ্বিতীয় দফায় ধর্মঘট চলছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে বন্দরে পণ্য খালাস ও বহির্নোঙরের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ন কবীর বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ডের ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করার দাবিতে আমাদের লাগাতার ধর্মঘট চলবে।”
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে যান। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে বন্দরের ১৫ জন কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়।
একই দিন বিকেল ৩টার দিকে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাখাওয়াত হোসেন। বৈঠক শেষে কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফেরে। ওইদিন সকাল থেকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয় বন্দরটিতে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবারো ধর্মঘটের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন ও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছিল। ওই সময় বন্দর চেয়ারম্যানের উসকানিমূলক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেন তারা।