সারা বাংলা

পদ্মায় বাসডুবি: রাইয়ানসহ পরিবারের ৩ জনের জানাজা সম্পন্ন 

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে মারা যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহনাফ রাইয়ানসহ তার পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর গ্রামের লালমিয়া সড়কে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্বজনরা জানান, জোহরের নামাজ শেষে তাদের দাফন করা হবে।

মারা যাওয়া অন্যরা হলেন- রাইয়ানের মা রেহানা আক্তার ও তার সাত বছর ভাগ্নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মা, বোন ও ভাগ্নিকে নিয়ে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আহনাফ রাইয়ান। ফেরিঘাটে বাস নদীতে পরে ডুবে গেলে রাইয়ানের ডাক্তার বোন নুসরাত জাহান খান সাবা কোনোমতে বেঁচে ফেরেন। রাইয়ান, তার ভাগ্নি ও মা রেহেনা আক্তার (৫৯) মারা যান। 

রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, গত মঙ্গলবার তার বড় ভাগ্নি লোপা মেয়েকে রেখে ঢাকায় যান। ঈদের ছুটি শেষে তার বোন রেহেনা আক্তার ভাগ্নে রাইয়ান, ভাগ্নি ডা. সাবা এবং লোপার সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে রাজবাড়ী থেকে ঢাকার বাসায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটায় তার ভাগ্নি কোনোমতে বাস থেকে বের হতে পারলেও আর কেউ বের হতে পারেনি। বাকি তিনজনই মারা যান। এই পরিবারে এখন দুইটি মেয়ে ছাডা কেউই বেঁচে নেই। একমাস আগে রাইয়ান তার বাবাকে হারিয়েছে।

সূত্র জনায়, মারা যাওয়া আহনাফ রাইয়ান রাজবাড়ী  শহরের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি। স্কুলজীবন থেকেই তিনি বিতর্ক চর্চা করতেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে রাজবাড়ীর বিতর্ক অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজবাড়ী ডিবেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, “ছোট থেকেই রাইয়ান অনেক মেধাবী ছিল। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় সে বিতর্ক শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়েও সে ভালো বিতর্ক করত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল।”

বুধবারের দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ২২ জনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।