কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) ওরফে কালান্দার বাবাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর দেশের জনপ্রিয় বাউল সংগীত শিল্পী শফি মন্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা জনিত কারণে বাউল শিল্পী শফি মন্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার বাড়িতে হামলা হতে পারে এ রকম সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই।”
শফি মন্ডলের মূল বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায়। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এই গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামে কথিত পীরের আস্তানায় হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ লোকজন। তারা শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।
বাউল শিল্পী শফি মন্ডল বলেন, “আমি গত একমাস যাবৎ গ্রামের বাড়িতে নেই, ঢাকাতে অবস্থান করছি। ওখানে কি হচ্ছে, এটা তো আমি বলতে পারব না। আমার মেয়ে গ্রামে আছে তার সঙ্গে কথা বললে পুরো ব্যাপারটি জানতে পারবেন।”
যোগাযোগ করা হলে শফি মন্ডলের মেয়ে লিনা মন্ডল বলেন, “আমার বাবা সাধক শিল্পী। সংগীতের জন্য মূলত তিনি বিভিন্ন দরবারে যান। ফিলিপনগর আমাদের বাড়ি, যে কারণে তিনি এই দরবারে গিয়েছিলেন, সে সময়ের ছবি ও ভিডি আছে। যে ভিডিও ভাইরাল করে মব তৈরি করে শামীমকে হত্যা করা হলো, সেই ভিডিওতে আমার বাবাও আছেন।”
তিনি বলেন, “আমার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী একজন মানুষ। সেহেতু, আমরা লালন অনুসারী বা লালন দর্শন বিশ্বাস করি। সারাবিশ্বে তিনি লালন সাঁইজির বাণীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এখন এই মতের সঙ্গে তো অন্য ধারণার মানুষের মিল নাও হতে পারে। আমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল (সা.) সম্পর্কে ধ্যান করি। আমাদের জীবন-আচরণ অবশ্যই ইসলামিক তবে, আমরা সাঁইয়ের ধারাটাকেই লালন করি।”
লিনা মন্ডল বলেন, “যেহেতু, ওই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে, যে ছবিতে আমার বাবা আছেন, মব জাস্টিসের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সেটি ভাইরাল করেছেন। আমার বাবা দেশ বরেণ্য লালন শিল্পী। যে কারণে সরকার মনে করেছে তার নিরাপত্তা দেওয়া দরকার, তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”