কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর মামলা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় রাজিব দফাদার (৩২) নামে এক যুবককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরো ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুরুতে নিরাপত্তার আশঙ্কায় নিহতের পরিবার মামলা করতে দ্বিধাবোধ করলেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আইনি পদক্ষেপ নিলেন।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, মামলার প্রধান আসামি রাজিবসহ শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রাজিব পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তিনি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার গাজী দফাদারের ছেলে। ঘটনার দিন বিকেল ৫টার পর থেকে রাজিব পলাতক।
গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ‘কোরআন অবমাননার’ অভিযোগ তুলে রাজিবসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে শতাধিক মানুষ শামীম জাহাঙ্গীর দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে বের করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তারা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। খুব দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখন পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।”