বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার পর টানা তিনদিন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে আটকে থাকা নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বিজিবির দাবি, রবিবার (৭ জুন) মধ্যরাত আড়াইটার দিকে সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয় বিএসএফ। ওই নারী-পুরুষ ও শিশুদের কোথায় নেওয়া হয়েছে বা বর্তমানে তারা কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন: পুশইনের চেষ্টায় শূন্যরেখায় ১০ জন ৩ দিন আটকা
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে তিন শিশু, দুই নারী ও পাঁচ পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। তিনদিন ধেরে রোদ, বৃষ্টি ও খাদ্য সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
রবিবার দুপুরেও বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি কড়া প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে সীমান্তে দুই বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। পরে বিএসএফ পিছু হটলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।
বিজিবির ঘাগড়া কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজাদ বলেন, “বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।”
এর আগে শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং শনিবার ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বৈঠকে বিএসএফ আটকে থাকা ব্যক্তিদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে জানায় বিজিবি।