পুশইনের চেষ্টায় শূন্যরেখায় ১০ জন ৩ দিন আটকা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ জন তিন দিন আটকা রয়েছেন।
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার পর তিন শিশু, দুই নারী ও পাঁচ পুরুষসহ ১০ ব্যক্তি টানা তিন দিন ধরে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে দিন পার করছেন। রোদ, বৃষ্টি ও অনাহারে দুর্ভোগে থাকলেও তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হয়নি।
এদিকে, রবিবার (৭ জুন) সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর থেকে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তারা কোনো ধরনের আশ্রয় ছাড়াই খোলা মাঠে অবস্থান করছেন। টানা তিন দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির পানিতে মাঠের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা কষ্টে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় তারা খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৭ জুন) দুপুরের দিকে বিএসএফ আবারো ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুই বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। পরে বিএসএফ পিছু হটলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বিজিবি।
বিজিবির ঘাগড়া কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজাদ বলেন, “বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।”
শুক্রবার (৫ জুন) কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং শনিবার (৬ জুন) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠক শেষে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ কখনোই মেনে নেব না। তারা যদি বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তান্তর করতে হবে। সীমান্তে ঠেলে দিলে আমরা তাদের গ্রহণ করব না।”
তিনি আরো জানান, বিএসএফও আটকে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে বিষয়টির সমাধান হয়নি।
ঢাকা/নাঈম/বকুল