ঢাকা     রোববার   ০৭ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪৩৩ || ২২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামিসা ধর্ষণ-হত্যার রায়ে সন্তোষ স্বজনদের, দ্রুত কার্যকরের দাবি 

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ৭ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৯:২৮, ৭ জুন ২০২৬
রামিসা ধর্ষণ-হত্যার রায়ে সন্তোষ স্বজনদের, দ্রুত কার্যকরের দাবি 

রায় ঘোষণার আগে আসামি সোহেল রানা কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রামিসার স্বজন ও এলাকাবাসী। একইসঙ্গে তারা দ্রুত রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন। 

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন।

আরো পড়ুন:

নৃশংস ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করলো বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে সকালে দুই আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে এনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত ও খণ্ডিত অবস্থায় শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নৃশংস এই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার পর দেশজুড়ে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারেরও দাবি জানিয়ে আসছে।

এই মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে লাশ কয়েক টুকরো করেন।

শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়। কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার লাশ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল আত্মগোপনে গেলেও ঘটনার ১০ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ রায়ের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যম শিয়ালদির মোল্লাবাড়িসহ জেলাবাসীর মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। রামিসার গ্রামের বাড়ি মধ্যম শিয়ালদির মোল্লাবাড়ি। 

রামিসার মামাত ভাই মোহাম্মদ ইকবাল হাসান বলেন, ‘‘এ হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো আমাদের মনে দাগ কেটে আছে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাই।’’ 

স্থানীয় মো. আরিফ বলেন, এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তি কার্যকর হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।

রামিসার ফুপু রিনা বেগম বলেন, ‘‘আমরা আমাদের সন্তানকে আর ফিরে পাব না। তবে দ্রুত রায় কার্যকর হলে অন্তত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমাদের সন্তানের আত্মা শান্তি পাবে।’’
 

ঢাকা/রতন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়