বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯

ওয়ানডের সেরা তারা, কিন্তু জিততে পারেননি বিশ্বকাপ

ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপের ট্রফি জয় মোটেও সহজ কথা নয়। শচীন টেন্ডুলকারের কথাই একবার ভাবুন। ক্যারিয়ারের পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার পরও টেন্ডুলকার ছিলেন ট্রফিশূণ্য। অবশেষে ঘরের মাঠে ২০১১ সালে টেন্ডুলকার জেতেন স্বপ্নের শিরোপা। ক্যারিয়ারে একশটি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের ব্যাটিং ঈশ্বর। কিন্তু তার কাছে বিশ্বকাপের থেকে বড় কিছু নেই। এমন ১০জন খেলোয়াড় আছেন যারা ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরাদের সেরা। রঙিণ পোশাকে তাদের ব্যাট-বলের উত্তাপ একাধিকবার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু তাদের হাতে একবারও উঠেনি শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। সেই ১০ জনকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব। ল্যান্স ক্লুজনার ওয়ানডের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দল গঠন হলে নিশ্চিতভাবেই থাকবেন ল্যান্স ক্লুজনার। মিডিয়াম পেস অলরাউন্ডার দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক সাফল্যের সঙ্গী হয়েছেন। কিন্তু দলের মতো ক্লুজনারও বিশ্বকাপের মুকুট জিততে পারেননি একবার। ৯৯’র বিশ্বকাপে তো দলকে একাই সেমিফাইনালে তুলছিলেন ক্লুজনার। কিন্তু নাটকীয় এক রান আউটে স্বপ্নভঙ্গ হয় শিরোপার। ঘরের মাঠে ২০০৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ওই বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন ক্লুজনার। কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি শিরোপা।  বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে ৩৭২ রান করেছেন ক্লুজনার। বল হাতে নিয়েছেন ২২ উইকেট। সাফল্যমন্ডিত ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ক্লুজনার সবই পেয়েছেন। আক্ষেপ শুধু একটি বিশ্বকাপের মুকুট নিয়ে। কুমার সাঙ্গাকারা বিশ্বকাপে টানা ৪ ইনিংসে ৪টি সেঞ্চুরির রেকর্ড কুমার সাঙ্গাকারার দখলে। শচীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫টি সেঞ্চুরিও পেয়েছেন লঙ্কান ক্রিকেটার। তার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হননি এমন ক্রিকেটপ্রেমি পাওয়া কঠিন। ওয়ানডেতে ৪০৪ ম্যাচে ৪১.৯৮ গড়ে ১৪২৩৪ রানই বলে দেয় রঙিণ পোশাকে সাঙ্গাকারার দাপট। ওয়ানডের দ্বিতীয় টপ স্কোরার। একাধিকবার বর্ষসেরা দলে জায়গা পেয়েছেন। পেয়েছেন বর্ষসেরার পুরস্কার। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এতো অর্জনের ঝুলিতে শুধু বিশ্বকাপের ট্রফিটাই নেই। বিশ্বকাপে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৫৬.৭৪ গড়ে রান করেছেন ১৫৩২। পড়ুন প্রথম পর্ব : জ্যাক ক্যালিস দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের সবথেকে বড় ধ্রুবতারা তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবথেকে কার্যকরী অলরাউন্ডার। রঙিণ পোশাকে দেশ, দেশের বাইরে তার একাধিক সাফল্য। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে নেই বড় কোনো অর্জন। তাতেই সব শেষ! হাজারো অর্জনের পাশে বড় করে ফুটে উঠেছে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে কোনো শিরোপা না থাকার কঠিন বাস্তবতা। পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন ক্যালিস। ৯৬’তে শুরু হয়েছিল যাত্রা। ২০১১ সালে শেষ হয় মিশন। কিন্তু কোনোটিতেই শেষ হাসি হাসতে পারেননি ক্যালিস। বিশ্বকাপে ৩৬ ম্যাচে ৪৫.৯২ গড়ে ১১৪৮ রান করেছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ২১টি। শহীদ আফ্রিদি ওয়ানডেতে তার রান ৮ হাজারের ওপরে। উইকেট সংখ্যা চারশ ছুঁই-ছুঁই। ২০১৫, ২০১১ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। খেলেছেন ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপও। কিন্তু একবার স্বপ্নের বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয়নি তার। বলছিলাম শহীদ আফ্রিদির কথা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপেই ইতিহাসের পাতায় আটকে যেতে পারতেন আফ্রিদি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দাপটে ফাইনালে স্রেফ উড়ে যায় ৯২’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আফ্রিদির ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক ‘যদি কিন্তু’ রয়েছে। অনেক উত্থান-পতনও ছিল। তবুও তার ক্যারিয়ার যথেষ্ট বর্ণাঢ্য। কিন্তু বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আক্ষেপ তো ওই বিশ্বকাপের মুকুট। বিশ্বকাপে ২৭ ম্যাচে ৩২৫ রান ও ৩০ উইকেট পেয়েছেন আফ্রিদি। রাহুল দ্রাবিড় ওয়ানডেতে তার অর্জনের শেষ নেই। রান করেছেন ১০ হাজারেরও ওপরে। কিন্তু ভারতের জার্সিতে বিশ্বকাপটাই জেতা হয়নি তার। ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপ খেলেছেন ভারতের এ প্রাক্তন অধিনায়ক। তার সবথেকে বাজে সময় কেটেছিল ২০০৭ বিশ্বকাপেই। তার নেতৃত্বে ভারত গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হার। সেখানেই শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ওয়ানডেতে ৩৪৪ ম্যাচে ১০৮৮৯ রান করা দাব্রিড় বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে করেছেন ৮৬০ রান। সেঞ্চুরি আছে ২টি। রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ মে ২০১৯/ইয়াসিন