পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি বলেছেন, ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা ছিল ‘অতীতের ভুল সংশোধনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’ তবে সামনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টর ছেলে।
রোববার (১০ এপ্রিল) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর সঙ্গে পিপিপি’র জোট দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা বিবিসির করা প্রশ্নের জবাবে বিলওয়াল বলেন, ‘আমি মনে করি পাকিস্তানের সমস্যার একমাত্র উত্তর হলো গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং শুধুমাত্র গণতন্ত্র।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার পাকিস্তানের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করেছে উল্লেখ করে তরুণ এ রাজনীতিবীদ বলেন, ‘রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা না থাকলে আমরা আমাদের জনগণের অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে অগ্রসর হতে পারব না বলে আমি মনে করি।’
সোমবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের বিষয়ে বিলাওয়াল বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, তার দল পিপিপি পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরীফকে সমর্থন করবে। নতুন সরকরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে চলছেন কিনা এমন একটি প্রশ্ন করা হলে বিলাওয়াল তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান।
চলতি মাসের ৩ তারিখ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনে। তবে সংবিধানের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি জানিয়ে দেন, বিরোধীদের আনা প্রস্তাব আসলে ‘বিদেশি চক্রান্ত। ’ ডেপুটি স্পিকারের এই পদক্ষেপের পরপর ইমরান খানের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন। ডেপুটি স্পিকারের দেওয়া ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন বিরোধীরা। টানা চার দিন চরম নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের অধিবেশন শুরু হয় পার্লামেন্টে। কিছুক্ষণ পর স্পিকার আসাদ কায়সার অধিবেশন মূলতবির সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। পরে জানানো হয়, ইফতারের বিরতির পর রাত ৮টার দিকে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে।
ইমরান খানের অনুগত হিসেবে পরিচিত স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি অনাস্থা প্রস্তাবের ভোট থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে রাতেই পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে অধিবেশনের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর এমপি আয়াজ সাদিকের কাছে ন্যাস্ত করেন আসাদ কায়সার। পরে রোববার রাতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়।