খেলাধুলা

গ্রুপ ‘বি’ বিশ্লেষণ: শ্রীলঙ্কার সামনে সোনালি সুযোগ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সুপার এইট পর্বে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার দারুণ এক সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার সামনে। গ্রুপ ‘বি’, যেখানে শক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স প্রশ্ন তুলছে, আর সুযোগের অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি দল তাকিয়ে আছে অঘটনের সম্ভাবনার দিকে।

গ্রুপের শীর্ষ র‌্যাঙ্কিং দল অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়ে যে রকম ছন্দহীন ক্রিকেট খেলেছে, তা শ্রীলঙ্কা শিবিরের অজানা নয়। ফর্মের সংকটের পাশাপাশি পূর্ণ শক্তির দল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ানদের। ফলে এই গ্রুপটি কার্যত ‘খোলা মাঠ’। যেখানে চমক দেখানোর রসদ আছে একাধিক দলের হাতেই।

বর্তমানে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বিশ্বে এক সুপ্রতিষ্ঠিত শক্তি। ব্যাটিং বিভাগে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যাটার যেমন আছেন, তেমনি বোলিংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। যিনি একাধারে দলের প্রধান অলরাউন্ডারও। লেগ স্পিনে তার নিয়ন্ত্রণ ও ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও পাকিস্তানে যেভাবে তারা প্রতিপক্ষের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে দলটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর দেখাচ্ছে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইবে শ্রীলঙ্কা।

গ্রুপ ‘বি’ এর বাকি দলগুলো হলো- আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও ওমান। সবার চোখেই রয়েছে অঘটনের স্বপ্ন। সুযোগ পেলে যে কোনো এক-দুটি ম্যাচে তারা বিশ্ব ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

গ্রুপ ‘বি’-এর দলসমূহ: অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও ওমান।

:: দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন যিনি ::

পাথুম নিশাঙ্কা (শ্রীলঙ্কা): টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ২০০০ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দশম স্থানে থাকা পাথুম নিশাঙ্কার কাঁধেই থাকবে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের সুর বেঁধে দেওয়ার দায়িত্ব।

৮৪ ম্যাচে তার গড় ৩০ এর একটু ওপরে। স্ট্রাইক রেট ১২৭.২৫। সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড সিরিজে তিন ম্যাচে ১৪৮.১৪ স্ট্রাইক রেটে করেছেন মোট ৮০ রান। টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থাকা এই ওপেনার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০ ইনিংসে তুলনামূলক কম স্ট্রাইক রেটে (১০৮) খেলেছেন। তবে ঘরের মাঠের পরিচিত কন্ডিশনে এবার তিনি অজি বোলারদের ওপর আক্রমণাত্মক হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবেন। তার ট্রেডমার্ক সুইচ হিটে ছক্কা দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।

:: দল বিশ্লেষণ ::

অস্ট্রেলিয়া: অধিনায়ক মিচেল মার্শের নেতৃত্বে দলটি দুই বছর আগের মতোই সুপার এইটের পথে হাঁটার লক্ষ্য নিয়ে নামবে। ২০২১ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে অপরাজিত ৭৭ রানের সেই ঐতিহাসিক ইনিংস এখনও অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের প্রতীক।

ট্রাভিস হেড (স্পিনের বিপক্ষে দক্ষ), ক্যামেরন গ্রিন (অলরাউন্ডার) ও সাদা বলের লেগ স্পিন বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম জাম্পা; এই তিনজনই দলের ভারসাম্যের মূল স্তম্ভ। যদিও সাম্প্রতিক ফর্ম ওঠানামা করছে, তবু অনুকূল সূচি অস্ট্রেলিয়াকে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার সুযোগ করে দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কা: দাসুন শানাকার নেতৃত্বে ঘরের মাঠে গভীর পর্যন্ত যাওয়ার পূর্ণ সামর্থ্য রাখে লঙ্কানরা। তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে ২০১৪ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা। যদিও এরপর আর ফাইনালে ওঠা হয়নি।

ব্যাটিংয়ে গভীরতা, বোলিংয়ে বৈচিত্র্য; সব মিলিয়ে পরিচিত মাঠে তারা ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে রান, আর মাথিশা পাথিরানা ও দুশমন্ত চামিরার গতিময় বোলিং; এই দুটোই হতে পারে তাদের বড় শক্তি।

জিম্বাবুয়ে: ২০২৪ আসর মিস করার পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে জিম্বাবুয়ে। অঘটন ঘটানোর ইতিহাস তাদের আছে। চার বছর আগে পাকিস্তানকে হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা।

অধিনায়ক সিকান্দার রাজা দলের প্রাণভোমরা। তবে সবচেয়ে আলোচিত নাম ২২ বছর বয়সী ব্রায়ান বেনেট। আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটিতে বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত করার নায়ক তিনি। রাজা নিজেও ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম শতকের মালিক।

আয়ারল্যান্ড: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রায় নিয়মিত অংশগ্রহণকারী আয়ারল্যান্ড ২০২২ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যে চমক দেখিয়েছিল, তা এখনও প্রেরণা। সেই আসরে সুপার পর্বে উঠে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছিল তারা।

দলের নেতৃত্বে আবারও অভিজ্ঞ পল স্টার্লিং। যিনি আয়ারল্যান্ডের প্রতিটি বিশ্বকাপেই খেলেছেন।

ওমান: চতুর্থবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ওমান। এশিয়া ও ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দলটি ২০১৬ সালে অভিষেক ম্যাচেই আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল। অধিনায়ক জতিন্দর সিং দলের ওপেনিংয়ের নেতৃত্ব দেবেন। আর উইকেটের পেছনে থাকবেন সহ-অধিনায়ক বিনায়ক শুক্লা।

সব মিলিয়ে গ্রুপ ‘বি’ মানেই অনিশ্চয়তার রোমাঞ্চ। অভিজ্ঞতা, ফর্ম আর সাহস; এই তিনের সমীকরণই ঠিক করে দেবে কারা যাবে সুপার এইটের মঞ্চে।