সারা বাংলা

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে দগ্ধ আরো একজনের মৃত্যু

কক্সবাজারের কলাতলীর এন আলম গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আব্দুর রহিম (৩৯) নামে আরো একজন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি মারা যান। নিহতের ছোট ভাই নুর আহমদ মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন। 

আব্দুর রহিম পূর্ব কলাতলীর চন্দ্রিমা মাঠ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই গ্যাস পাম্প সংলগ্ন একটি গ্যারেজের মালিক ছিলেন।

নুর আহমদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আব্দুর রহিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। আজ সকালে আব্দুর রহিম মারা যান। তার মরদেহ কক্সবাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। 

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনায় আব্দুর রহিমের গ্যারেজ সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং নিজস্ব চারটি জিপ গাড়িও আগুনে ধ্বংস হয়। ঘটনার সময় তিনি গ্যারেজে অবস্থান করছিলেন। 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, “দগ্ধ আব্দুর রহিম নামের আরেকজনের মৃত্যুর বিষয়টি অবগত হয়েছি। মরদেহ কক্সবাজারে পৌঁছালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গত রবিবার (১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু তাহের (৪২) নামের একজনের মৃত্যু হয়। 

২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের পর আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০টি গাড়ি, চারটি বাড়িসহ নানা স্থাপনা পুড়ে যায়। দগ্ধ ও আহত হন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

গত শুক্রবার বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছেন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।