হবিগঞ্জের মাধবপুরে বুধবার রাতে লাইনচ্যুত হয় তেলবাহী ট্রেনের ছয়টি বগি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ আছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে ট্রেনটি থেকে হাঁড়ি-বালতি ও ড্রামে ভরে তেল নিয়ে যান।
পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা করছেন, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল কৃষি জমি ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ দূষণ হতে পারে। ঘটনাস্থলে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকাটি নিরাপদ করে তেল অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন: তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটি মনতলা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ছয়টি বগি রেললাইন থেকে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলো থেকে তেল বের হতে শুরু করে। সেই তেল পাশের জমি, সড়ক ও খালে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুরা যে যার মতো পাত্র নিয়ে তেল সংগ্রহে মেতে ওঠেন। এমনকি কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে লাইনচ্যুত বগির মুখ খুলে তেল বের করার চেষ্টা করছেন। দাহ্য পদার্থ হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা দেখা দেয়।
মনতলা এলাকার বাসিন্দা জসিম মিয়া বলেন, “তেলের যে দাম আর সংকট, তাই সবাই এসে নিতেছে। বিপদ হইতে পারে জানি, কিন্তু অভাবের বাজারে কেউ মানছে না।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাধবপুরের নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির মিয়া জানান, “ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ট্রেনটি উদ্ধারের কাজ চলছে।”